সিদ্ধেশ্বরী বালক উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়

মাঠে গাড়ি পার্কিং চায়ের দোকান

করোনাভাইরাস সংক্রমণের আশঙ্কার মধ্যেও থেমে নেই পার্কিং

  মো. বিল্লাল হোসেন ২৫ মার্চ ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

সিদ্ধেশ্বরী বালক উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মাঠে সারিবদ্ধভাবে গাড়ি পার্কিং করা হচ্ছে। মাঠের একাংশ দখল করে ছোট ছোট ঘর তোলা হয়েছে। গড়ে তোলা হয়েছে চায়ের দোকান। এতে স্কুলশিক্ষার্থীরা মাঠে খেলাধুলা করতে পারছে না। যদিও করোনাভাইরাস সংক্রমণের আশঙ্কায় সব স্কুল-কলেজ বন্ধ রয়েছে। স্কুল খোলার পরেও শিক্ষার্থীরা এ মাঠ ব্যবহার করতে পারবে না। অভিযোগ রয়েছে, মাসোহারা হিসাবে এ মাঠ ব্যবহার করা হচ্ছে। মাঠ থেকে যারা চাঁদা তুলছেন তাদের দাবি, মাঠ ইজারা নিয়ে গাড়ি পার্কিং করা হচ্ছে। তবে স্কুল কর্তৃপক্ষের দাবি, মাঠ ইজারা দেয়ার বিষয়ে তারা কিছুই জানে না। মালিবাগ-মগবাজার ফ্লাইওভারের কাজ চলাকালীন এ মাঠ ইজারা নিয়েছিল ফ্লাইওভার কর্তৃপক্ষ, যা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন এলাকাবাসী। এখন এ অবস্থায়ও তারা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তারা জানিয়েছেন, করোনা আতঙ্কের মধ্যেও পার্কিং থেমে নেই।

সরেজমিন দেখা যায়, সিদ্ধেশ্বরী বালক উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মাঠের দক্ষিণ-পশ্চিম অংশের একাংশ দখল করে মৌচাক মার্কেটে আসা ক্রেতাদের প্রায় ৪০টি গাড়ি পার্কিং করে রাখা হয়েছে। গাড়ি স্কুলমাঠ থেকে বের হওয়ার সময় দায়িত্বরত কর্মী নয়ন ৫০ টাকার স্লিপ ধরিয়ে দিচ্ছে। স্লিপে লেখা আরএস কমিউনিকেশন সিদ্ধেশ্বরী বালক উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় অনুমোদিত। পূর্ব কোনে দুটি চায়ের দোকান করা হয়েছে। এ চায়ের দোকানের উচ্ছিষ্ট মাঠে ফেলা হচ্ছে। পানির পাম্পের পাশে নতুন করে তৈরি করা হয়েছে একটি ছোট্ট ঘর, যার মধ্যে আছে জেনারেটর। স্থানীয়রা জানান, এখান থেকে মার্কেটে বিদ্যুৎ সাপ্লাই দেয়া হয়।

পার্কিং দায়িত্বে থাকা নয়ন বলেন, আমি শুধু এখানে টাকা তুলি, ঠিকাদারকে আমি চিনি না, রাতের বেলা এসে আমার কাছ থেকে টাকা নিয়ে চলে যায়। সিদ্ধেশ্বরী বালক উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী মো. তুষার বলেন, এই মাঠে গাড়ি রাখার কারণে আমরা স্কুলের বন্ধুরা ভালোভাবে খেলাধুলা করতে পারি না। গাড়ির ওপরে এসে বল পড়লে বকা দেয়। মাঠে গাড়ি প্রবেশের কারণে অনেক ধুলো হয়। তাই কেউ খেলতে চায় না। নিরব হাসান নামে এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, এ মাঠ দখলদারদের হাত থেকে রক্ষা পেল না। আমার জানামতে স্কুল কর্তৃপক্ষ এসবের আয় থেকে এক টাকাও পায় না, সব নেতারা ভাগবাটোয়ারা করে খায়। প্রশাসনের উচিত হবে এ মাঠটি দখলমুক্ত করা।

সিদ্ধেশ্বরী বালক উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোহাম্মদ শামছ উদ্দিন বলেন, স্কুলের এ মাঠ কে ইজারা দিয়েছে, মাঠ দখল করে ঘর তুলেছে এগুলো আমি কিছু জানিনি। গভর্নিং বডির লোকজন ভালো বলতে পারবে। এখানকার গাড়ি পার্কিং থেকে স্কুল কর্তৃপক্ষ কোনো টাকা পায় না। মার্কেটে সামনে যে গাড়ি পার্কিং করা হয় তার থেকে টাকা নেয়ার নিয়ম নেই। আমরা সব শিক্ষক এখানে পার্কিং করতে নিষেধ করেছি। আরএম কমিউনিকেশনের স্বত্বাধিকারী মো. পারভেজকে ফোন দেয়া হলে তাকে পাওয়া যায়নি। সিদ্ধেশ্বরী বালক উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান মুন্সী কামরুজ্জামান কাজল যুগান্তরকে বলেন, আমি দায়িত্ব নেয়ার আগে থেকেই এখানে পার্কিং করা হতো। একটি ঘরও তোলা হয়েছিল, আমি সেগুলো ভেঙে দিয়ে এ মাঠটি সংস্কার করে খেলাধুলার উপযোগী করে তুলেছি। মৌচাক মার্কেটে আসা ক্রেতাদের গাড়ি বেশি এলে তখন রাস্তায় যানজটের সৃষ্টি হয়। ফলে কিছু গাড়ি এই মাঠের এক সাইডে পার্কিং করে রাখে। যার জন্য খেলাধুলা কোনো সমস্যা হয় না। মাঠে ঘর করে জেনারেটর রাখার বিষয়ে তিনি বলেন, আমি স্কুল কমিটিতে আসার আগে থেকেই মাঠের একপাশে জেনারেটর রাখা হতো। এলাকার লোকজনের কথা বিবেচনা করে আমি পানির পাম্প করার জন্য জায়গা দিয়েছি।

 

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত