বাইরে পরিষ্কার ভেতরে নোংরা

বীর মুক্তিযোদ্ধা সাদেক হোসেন খোকা কমিনিউটি সেন্টার

  বিল্লাল হোসেন ০৬ মে ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বীর মুক্তিযোদ্ধা সাদেক হোসেন খোকা কমিনিউটি সেন্টারের বাইরের অংশ ঝকঝকে হলেও ভেতরের পরিবেশ নোংরা। প্রতিষ্ঠার ৮ বছরে সংস্কার করা হয়নি। এ কমিউনিটি সেন্টার ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) ৮নং ওয়ার্ডের নয়পল্টনে অবস্থিত। দিনে দিনে এর পরিবেশ আরও খারাপ হচ্ছে। ভেতরের দেয়ালে ময়লা লেগে কালচে আকার ধারণ করেছে। চার তলা এ ভবনের উপরে নিচে প্রায় সব ফ্লোরে কিছু কিছু স্থানে ফ্লোরের টাইলস ভাঙা। ভাঙা স্থান রিপেয়ারিং করা হয়েছে। কিন্তু রিপেয়ারিং হয়েছে কোনোরকমে। নিয়মিত পরিষ্কার না করায় ফ্লোরের টাইলসের রং কালচে আকার ধারণ করেছে। তৃতীয় তলায় আছে নামেমাত্র এসি। ১২টি এসির মধ্যে সচল আছে ৭টি। তবে এগুলো নিয়মিত সার্ভিসিং না করায় নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

এলাকার সর্ব সাধারণের সব প্রকার সামাজিক অনুষ্ঠানের সুবিধার্থে তৎকালীন ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সাদেক হোসেন খোকা বীর মুক্তিযোদ্ধা সাদেক হোসেন খোকা কমিনিউটি সেন্টার উদ্বোধন করেন। এ কমিনিউটি সেন্টার প্রতিষ্ঠার পর থেকে উচ্চবিত্ত থেকে শুরু করে মধ্যবিত্ত লোকজন বিয়েসহ নানা অনুষ্ঠানের জন্য ভাড়া নিতেন। দিন দিন সেন্টারের পরিবেশ অবনতির কারণে উচ্চবিত্তরা অনাগ্রহ প্রকাশ করছেন। বাইরের সৌন্দর্য দেখে অনেকে বুকিং দেয়ার ইচ্ছা পোষণ করলেও ভেতরের পরিবেশ দেখে বুকিং দেন না।

সেন্টারের পরিষ্কারে নিয়োজিত এক নারী কর্মী বলেন, আমরা তিনজন এখানে কাজ করি। যারা এখানে অনুষ্ঠান করেন তাদের থেকে টাকা নিয়ে আমাদের বেতন দেয়া হয়। তিনজন পুরো সেন্টার ঝাড়– দিয়ে শেষ করতে পারি না, টাইলস ও জানালা পরিষ্কার কখন করব? এত কম বেতনে পোষায় না। সিটি কর্পোরেশনের একটা চাকরির আশায় এখানে অনেক দিন ধরে কম বেতনে চাকরি করছি। কিন্তু আমাদের একটা চাকরি দেয় না।

যাতায়াত করার সিঁড়িগুলোর পাশের জানালায় জমে আছে ময়লা। যার ফলে থাই গ্লাস নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। সিঁড়ির পাশে দেয়ালে হাঁড়ি-পাতিলে ময়লা লেগে কালো বর্ণ ধারণ করেছে। তৃতীয় তলার দরজার থাই গ্লাস ভাঙা এবং লকগুলো অকেজো। অনেক সিলিং ফ্যান ও লাইট দীর্ঘদিন ধরেই নষ্ট। শীতাতাপ নিয়ন্ত্রিত রুমের দরজার গ্লাস নেই। দীর্ঘদিন ধরে লিফট নষ্ট অবস্থায় পড়ে আছে। কমিউনিটি সেন্টারের নির্ধারিত ভাড়া ১০ হাজার ৭০০ ও শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত রুমের ভাড়া ১৩ হাজার ৭০০। তবে গেট, সাজসজ্জা ও ক্লিনারদের জন্য অতিরিক্ত কিছু টাকা দিতে হয়। কমিনিউটি সেন্টার কেয়ারটেকার অলিউর রহমান মনির বলেন, এখানে কিছু সমস্যা আছে। লিফটগুলো অনেকদিন ধরে নষ্ট। একবার চালু করেছি ৮ জন লোক নিয়ে আটকে গেছে, তারপর আর চালু হয়নি। এসিগুলোর সমস্যা আছে, রুম ঠাণ্ডা হয় না। তাই অনেকে রুম ভাড়া নেন না। সিটি কর্পোরেশন থেকে বলা হয়েছে, বাজেট হলে হয়তো ঠিক করে দেয়া হবে।

এলাকার বাসিন্দা আবদুল হান্নান বলেন, আমি মনে করি ঢাকা শহরে যেসব সরকারি কমিনিউটি সেন্টার রয়েছে সেগুলার তুলনায় এটা অনেক ভালো। তবে দিন দিন কর্তৃপক্ষের অবহেলায় কমিনিউটি সেন্টার সৌন্দর্য হারাচ্ছে। যারা বিয়ে শাদির আয়োজন করেন, তারা সুন্দর পরিবেশ চান। দেখেন বাইরের অংশে রং তো করা লাগে না। কিন্তু উদ্বোধনের পর এখন পর্যন্ত বাইরের থাই গ্লাস ধোয়ামোছা করা হয়নি। এখনও কর্তৃপক্ষ নজর দিলে নতুন রূপ ফিরে পাবে এ সেন্টার। ডিএসসিসি ৮নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. সুলতান মিয়া বলেন, আমি নির্বাচিত হওয়ার পর এ কমিনিউটি সেন্টার বেহাল পাই। তিনটা ফ্লোরের কোনোটাই ভালো নয়। ফ্যান ও বিদ্যুতের অবস্থাও খারাপ। সিটি কর্পোরেশনের কোনো পরিছন্নকর্মী, দারোয়ান ও স্থায়ী কোনো অফিস স্টাফ নেই। মেয়র মহোদয় ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের যেসব কমিনিউটি সেন্টারে সমস্যা রয়েছে তার তালিকা চেয়েছেন আমরা তা দিয়েছি। লিফটগুলো ঠিক করার জন্য একবার টেন্ডার ডাকা হয়েছিল। কেউ দরপত্র জমা দেয়নি। কাজও হয়নি। এখন নতুন করে আবার টেন্ডার হলে সব মেরামত করা হবে। ভালোভাবে সংস্কার করলে জনগণও সেবা পাবেন, পাশাপাশি সিটি কর্পোরেশনের রাজস্বও বাড়বে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter