বৃষ্টিস্নাত সন্ধ্যায় তিন তরুণের আবৃত্তি

প্রকাশ : ০৬ মে ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  সাংস্কৃতিক রিপোর্টার

সন্ধ্যার একটু আগপর্যন্তও রাজধানীতে বৃষ্টি হয়েছিল। বৃষ্টিস্নাত সন্ধ্যাতেই শিল্পকলা একাডেমির সঙ্গীত, নৃত্য ও আবৃত্তিকলা মিলনায়তনে বসেছিল তিন তরুণের আবৃত্তি সন্ধ্যা। বিভিন্ন কবির নানা ধরনের কবিতা নিয়ে দর্শক-শ্রোতাদের মুগ্ধ করেন মৌমিতা জান্নাত, জালাল উদ্দিন হীরা ও দিলসাদ জাহান পিউলী। আবৃত্তি সমন্বয় পরিষদের ‘এই তো জীবন এই তো মাধুরী’ শিরোনামের নিয়মিত এ আয়োজনের সহযোগিতায় ছিল শিল্পকলা একাডেমি। শনিবার সন্ধ্যার এ আয়োজনের শুরুতেই মঞ্চে আসেন মৌমিতা জান্নাত। প্রথমেই তিনি আবৃত্তি করেন শুভদাস গুপ্তের ‘আমি সেই মেয়ে’। এরপর তিনি বীরেন্দ চট্টোপাধ্যায়ের সাঁওতাল মেয়েদের গানের কবিতা ‘তিন পাহাড়ের স্বপ্ন’ আবৃত্তি করেন। এরপর ছিল বুদ্ধদেব বসুর ‘চিল্কায় সকাল’ কবিতার আবৃত্তি। একে একে রবীন্দ্রনাথের তিনটি কবিতা ‘ভুল স্বর্গ’, ‘মেঘদূত’ ও ‘যদি তোমায় দেখা না পাই প্রভু’ পাঠের মধ্য দিয়ে তিনি নিজের পরিবেশনা শেষ করেন।

এরপর জালাল উদ্দিন হীরা আবৃত্তি করেন দশটি কবিতা। সেগুলো হল- রবীন্দ্রনাথের ‘রূপ-রানানের কূলে’, ‘অপমানিত’, ‘পরিচয়’ ও ‘অন্তর মম বিকশিত করো’, কাজী নজরুলের ‘বাংলাদেশ’, আবদুল গাফফার চৌধুরীর ‘একুশে ফেব্রুয়ারি’, শামসুর রাহমানের ‘তোমাকে পাওয়ার জন্য, হে স্বাধীনতা’, সৈয়দ শামসুল হকের ‘মুছে ফ্যালো মিছে অশ্র“ তোমার’, জীবনানন্দ দাশের ‘অদ্ভুত আঁধার এক’, রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহর ‘সশস্ত্রবাহিনীর প্রতি’, মোহাম্মদ মনিরুজ্জামানের ‘জার্নাল ১৯৭১’ ও হেলাল হাফিজের ‘যাতায়াত’। শেষ পরিবেশনা ছিল দিলসাদ জাহান পিউলীর। তিনি আবৃত্তি করেন আহসান হাবীবের ‘প্রদক্ষিণ’ ও ‘আমি আছি’, মৃন্ময় মিজানের ‘নীরার শেষ চিঠি’, শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের ‘যখন বৃষ্টি নামলো’, সুবোধ সরকারের ‘অঞ্জলির কথা’, রফিক আজাদের ‘প্রতীক্ষা’, সৈয়দ শামসুল হকের ‘পরাণের গহীন ভিতর-৪’, নির্মলেন্দু গুণের ‘দণ্ডকারণ্য’ ও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘বিদায়’।

কাজী মৃণালের ‘রূপ অরূপ অপরূপ’ চিত্র প্রদর্শনী শুরু : শনিবার ধানমণ্ডির গ্যালারি শিল্পাঙ্গনে শুরু হয়েছে কাজী মৃণালের প্রথম ‘রূপ অরূপ অপরূপ’ শীর্ষক একক চিত্র প্রদর্শনী। শিল্পীর ছবিতে যেন তার এই দীর্ঘ কয়েক দশকের শিল্প অন্বেষণের সারাংশ ফুটে উঠেছে। মানুষের সামাজিক কাঠামো যে আরোপিত মানুষ যে প্রকৃতিজাত এই দর্শনই ফুটে ওঠে তার ক্যানভাসে। দীর্ঘ সময় প্রকৃতি ঘনিষ্ঠ থেকে এবং ধরাবাধা সামাজিক জীবনের ঘেরাটোপের বাইরে থেকে তিনি নিজেও হয়ে উঠেছেন নিরাভরণ। ক্যানভাসে রয়েছে তার প্রতিফলন। নিরাভরণ সরল অংকন প্রণালী আর সহজ গল্প।

প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন চিত্রশিল্পী অধ্যাপক সমরজিৎ রায় চৌধুরী এবং লেখক অধ্যাপক সলিমুল্লাহ খান। স্বাগত বক্তব্য রাখেন গ্যালারি শিল্পাঙ্গনের পরিচালক রুমী নোমান। সাদা কাগজে কালি-কলমে আঁকা ৫৭টি চিত্রকর্ম প্রদর্শনীতে স্থান পেয়েছে। প্রদর্শনী চলবে ১৫ মে পর্যন্ত। প্রতিদিন দুপুর ৩টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা থাকবে।

নাচ-গানে নজরুল সম্মেলন : আগামী ১১ জ্যৈষ্ঠ নজরুলজয়ন্তী। এ উপলক্ষ সামনে রেখে শনিবার অনুষ্ঠিত হল নজরুলপ্রেমীদের সম্মেলন। বিশিষ্টজনদের কণ্ঠে উচ্চারিত হল অনুবাদের মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী নজরুলচর্চাকে ছড়িয়ে দেয়ার আহ্বান। ইন্সটিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্সের কাউন্সিল হলে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে আন্তর্জাতিক নজরুল চর্চা কেন্দ্র। অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন নজরুল গবেষক অধ্যাপক ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. রফিকুল ইসলাম। প্রধান অতিথি ছিলেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন পাবলিক সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ সাদিক, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আবদুস সামাদ, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এএইচএম মুস্তাফিজুর রহমান ও নজরুল গবেষক ড. সৌমিত্র শেখর। সভাপতিত্ব করেন কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা।

উদ্বোধনী বক্তব্যে অনুবাদের মাধ্যমে নজরুলচর্চাকে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দেয়ার আহ্বান জানান রফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, ইতিমধ্যে নজরুল ইন্সটিটিউটের মাধ্যমে স্প্যানিশ, ফরাসি ও জার্মান ভাষায় নজরুলের সাহিত্যসম্ভার অনুবাদের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। আফসোস করে তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আরবি বিভাগ থাকলেও এখন পর্যন্ত আরবি ভাষায় নজরুল সাহিত্যের কোনো অনুবাদ হয়নি। একইভাবে ঢাকার আরব দেশের দূতাবাসগুলোও এ বিষয়ে নির্বিকার।

অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে সম্মেলক কণ্ঠে দোলনচাঁপা ললিতকলা একাডেমির শিল্পীরা শোনায় ‘জাগো অনশন বন্দী, ওঠ রে যত/জগতের লাঞ্ছিত ভাগ্যহত’। সুমধুর কণ্ঠে নাশিদ কামাল গেয়েছেন ‘আমিনার কোলে নাচে হেলেদুলে’ ও ‘ঘুমায়েছে ফুল পথেরই ধুলায়’ শিরোনামের দুটি গান। এমএ মান্নান পরিবেশিত গানের শিরোনাম ছিল ‘আল্লাতে যার পূর্ণ ইমান কোথায় সে মুসলমান’ ও ‘পুবান হাওয়া পশ্চিমে যাও কাবার পথে বাইয়া’। ছন্দা চক্রবর্তীর কণ্ঠে গীত হয় ‘ডেকে ডেকে কেন সখী ভাঙাইলে আমার ঘুম’ ও ‘হারানো হিয়া’। যারিন তাসনিম শুভ্রা গেয়ে শোনান ‘আমার আপনার চেয়ে আপন যে জন’। রোজী আক্তার শেফালীর কণ্ঠে গীত হয় ‘সুদূর মক্কা মদিনার পথে’।