প্রশিক্ষণ নিলেই মেলে চাকরি

  তেজগাঁও প্রতিনিধি ১১ মে ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

প্রশিক্ষণ নিলেই মেলে চাকরি

শিক্ষিতদের পাশাপাশি অল্প শিক্ষিতদেরও কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে স্বাবলম্বী করে তুলছে বাংলাদেশ শিল্প কারিগরি সহায়তা কেন্দ্র (বিটাক)। ‘আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দারিদ্র্য বিমোচন’ (সেপা) প্রকল্পের মাধ্যমে এ কাজ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মেয়ে আইরিন আক্তার কম্পিউটারে ডিপ্লোমা করে চাকরি না মেলায় হতাশ ছিলেন। বিটাকে অটো-ক্যাডে প্রশিক্ষণ নিয়ে বর্তমানে তিনি সিনো বাংলা লিমিটেড কোম্পানিতে চাকরি করছেন।

আইরিন বলেন, ‘আমি কম্পিউটার নিয়ে পড়াশোনা করেছি। বিটাক থেকে অটো-ক্যাডে প্রশিক্ষণ নিয়ে আমি চাকরি করছি। বিটাকে প্রশিক্ষণের পর আমার আত্মবিশ্বাস অনেক বেড়ে গেছে। ইচ্ছে আছে কম্পিউটার নিয়ে আরও পড়াশোনা করার।’

বাগেরহাট জেলার হাওয়া খাতুন দরিদ্র কৃষক পরিবারের মেয়ে। অভাব ও দারিদ্র্যের কারণে জেএসসির গণ্ডি পেরোতে পারেননি। সেপা প্রশিক্ষণ নিয়ে প্রাণ-আরএফএলে চাকরি করছেন।

তিনি বলেন, ‘আমি দরিদ্র ঘরের মেয়ে। বেশি পড়াশোনা করতে পারিনি। প্রশিক্ষণ শেষে বিটাক থেকেই চাকরির ব্যবস্থা করে দিয়েছে।’ হাওয়া বলেন, ‘অভাবের তাড়নায় অনেক কাজ করেছি। কিন্তু পড়াশোনা অল্প থাকায় ভালো চাকরি করতে পারিনি। সরকারকে অনেক ধন্যবাদ আমাদের মতো মানুষদের বিনামূল্যে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণের সুযোগ করে দেয়ার জন্য।’

বিটাকে আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দারিদ্র্য বিমোচন (সেপা) প্রকল্পে নারীদের ৯টি ট্রেডে (কোর্স) ৩ মাসে এবং পুরুষদের ৩টি কোর্সে ২ মাসের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। প্রকল্পে প্রশিক্ষণার্থীদের কোর্স, থাকা-খাওয়া, যাতায়াতসহ সব খরচ সরকারের।

সেপা প্রশিক্ষণ শেষে প্রাণ গ্রুপ, বেঙ্গল প্লাস্টিক লিমিটেড, নাসির গ্রুপ, বেক্সিমকো ফার্মা, নিটল টাটাসহ প্রায় ৩৫টির অধিক কোম্পানিতে চাকরির সুযোগ করে দিচ্ছে বিটাক। এছাড়াও যারা উদ্যোক্তা হতে চায়, তাদেরও সহযোগিতা দেয়া হয় বলে জানান বিটাকের কর্মকর্তারা।

বর্তমানে সেপা প্রকল্পে নতুন ব্যাচের প্রশিক্ষণ নিচ্ছে কুড়িগ্রামের মেয়ে শাহিনা আক্তার। তিনি বলেন, ‘আমি কুড়িগ্রাম কলেজে অনার্স করছি। আমি গরিব পরিবারের সন্তান। টিউশনি করে পড়াশোনা ও অন্যান্য খরচ চালাচ্ছি। আমার কিছু বান্ধবী বিটাক থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে এখন ভালো চাকরি করছে। তাই আমিও বিটাকে সেপা প্রশিক্ষণ নিচ্ছি।’ শাহানা বলেন, ‘প্রশিক্ষণ নিতে আসার আগে মনে হয়েছিল মেয়ে বলে কিছুই করতে পারব না। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে অনেক কিছুই করতে পারব।’

২০০৯ সালে শুরু হওয়া সেপা প্রকল্পে এ পর্যন্ত ২১৬৬১ জন নারী-পুরুষ প্রশিক্ষণ নিয়েছে। এর মধ্যে ৯০০০ নারী ও ১২৬৬১ জন পুরুষ। বর্তমানে নারীদের ৩৪তম ব্যাচে প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। এ প্রকল্পে প্রশিক্ষণার্থীদের মধ্যে প্রায় অর্ধেক প্রশিক্ষণার্থীকে কোর্স শেষেই বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরির সুযোগ করে দেয় বিটাক।

বিটাকের অতিরিক্ত পরিচালক ও সেপা প্রকল্পের পরিচালক মো. ইকবাল হোসাইন পাটোয়ারি বলেন, দেশের গরিব, অসহায় ও অল্পশিক্ষিত মানুষরা সেপা প্রকল্পের মাধ্যমে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ নিয়ে দক্ষতা অর্জন করছে।

প্রশিক্ষণ নিয়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মসংস্থানের সুযোগ পাচ্ছে। সেপা প্রশিক্ষণ নিয়ে নারীরা সমাজে স্বাবলম্বী এবং আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠছে। বিটাকের পরিচালক সৈয়দ মো. ইহসানুল করিম বলেন, আমাদের দেশে দারিদ্র্যের জন্য বা বিভিন্ন কারণে যেসব নারী পড়াশোনা করতে পারছেন না, বিয়ে করতে পারছেন না, সমাজে অবহেলিত মূলত তাদের জন্য এই প্রকল্পটি।

বিটাক দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে এসব বেকার অসহায় মানুষদের এনে তাদের চাহিদা ও পছন্দ অনুযায়ী প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করছে। বিটাকের মহাপরিচালক মো. মফিজুর রহমান বলেন, বিটাকের মূল কাজ হচ্ছে শিল্প কারিগরি ক্ষেত্রে দক্ষতা বৃদ্ধি, দক্ষ কর্মীবাহিনী তৈরি, উদ্ভাবনের মাধ্যমে শিল্প খাতে অবদান বাড়ানো।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভিশন ২০২১ ও ২০৪১ অর্জন এবং ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে বিটাকের সেপা প্রকল্প শুরু হয়। সমাজে পিছিয়ে পড়া অসহায়, দরিদ্র, বেকার, দারিদ্র্যের জন্য পড়াশোনার সুযোগ নেই এবং বিধবা- এমন নারীদের আত্মবিশ্বাসী ও স্বাবলম্বী করাই সেপা প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য।

 

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter