ইফতার বাজার

নগরজুড়ে সুস্বাদু বিরিয়ানির ঘ্রাণ

  হক ফারুক আহমেদ ২৩ মে ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বিরিয়ানি
ছবি: যুগান্তর

বিরিয়ানি এই উপমহাদেশের জনপ্রিয় খাবার। সেই দিক থেকে ঢাকার বিরিয়ানির আলাদা কদর আছে। ইফতারিতে অন্য খাবারের পাশাপাশি বিরিয়ানি ছোটবড় অনেকের প্রিয় খাবার। শুধু বাসাবাড়ির ইফতারি নয় ইফতার পার্টিতেও বিরিয়ানি এখন থাকেই।

মুখরোচক বিরিয়ানি নানাভাবে রান্না হয়ে তেহারি, বিরিয়ানি, কাচ্চি নামে পরিবেশিত হয়। পাশাপাশি আরও আছে মোরগ-পোলাও। বছরদশেক আগেও সুস্বাদু সব বিরিয়ানির টানে রাজধানীর নানা প্রান্তের মানুষকে ছুটে আসতে হতো পুরনো ঢাকায়। কিন্তু এখন দৃশ্যপট পাল্টেছে। পুরনো ঢাকার প্রসিদ্ধ সব বিরিয়ানি প্রস্তুতকারকরা তাদের শাখা খুলেছেন শহরের নানা জায়গায়। পাশাপাশি অনেক এলাকায় নতুন নতুন বিরিয়ানির দোকান গড়ে উঠেছে, যারা ইতিমধ্যে প্রশংসিত হয়েছে। রোজার সময়ে প্রসিদ্ধ সব বিরিয়ানি, তেহারি এবং কাচ্চির দোকানগুলোতে ইফতারের জন্য বিশেষ আয়োজনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

ঢাকার বিরিয়ানির কথা বললে আজও সবার আগে চলে আসে হাজীর বিরিয়ানির নাম। পুরনো ঢাকার কাজী আলাউদ্দিন রোডের ছোট্ট একটা দোকানে ১৯৩৯ সালে হাজীর বিরিয়ানির যাত্রা শুরু। হাজী মোহাম্মদ হোসেন এই বিরিয়ানির গোড়াপত্তন করেন। আজও সেখানেই হাজীর বিরিয়ানি বিক্রি হয়। তবে মজার ব্যাপার হল আসল হাজীর বিরিয়ানির দোকানে এখনও কোনো সাইনবোর্ড নেই। কচি খাসির মাংস, আতপ চাল আর সরিষার তেলে রান্না এই বিরিয়ানির কদর আজও দেশ-বিদেশে। ঐতিহ্য ধরে রেখে এখনও কাঁঠাল পাতার বক্সে এই বিরিয়ানি পার্সেল করা হয়। যাতে খাবারের স্বাদ অটুট থাকে। তবে এখন যুক্ত হয়েছে কাগজের বক্সও।

মঙ্গলবার বিকালে হাজীর বিরিয়ানির প্রধান শাখা কাজী আলাউদ্দিন রোডে দেখা গেল- লাইন ধরে লোকে বিরিয়ানি কিনছেন। হাজী সাহেব অনেক আগেই মারা গেছেন। এখন পারিবারিক এ ব্যবসার দায়িত্বে আছেন তার নাতি হাজী মো. শাহেদ হোসেন। তিনি যুগান্তরকে জানান, হাজীর বিরিয়ানি আরও সহজলভ্য করার জন্য আমরা মতিঝিল ও বসুন্ধরায় শাখা খুলেছি। তবে রমজানের সময় শুধু পার্সেলের জন্য। বর্তমানে কাঁঠালের পাতার প্যাকেটে হাজীর বিরিয়ানির দাম রাখা হচ্ছে ১৬০ টাকা এবং কাগজের প্যাকেটে ১৮০ টাকা।

হাজীর বিরিয়ানির পাশাপাশি বর্তমানে অসম্ভব জনপ্রিয় হানিফের বিরিয়ানি। খাসির মাংস দিয়ে তৈরি করা হানিফের বিরিয়ানি হাজীর বিরিয়ানির চেয়েও সুস্বাদু বলে জানান অনেক ক্রেতা। মঙ্গলবার এলিফেন্ট রোড থেকে হানিফের বিরিয়ানি কিনতে এসেছিলেন ব্যবসায়ী সোহেল রহমান। তিনি যুগান্তরকে জানান, হানিফের বিরিয়ানির স্বাদ অতুলনীয়। তেলটাও একটু কম থাকে আর মাংসের পরিমাণও দেয়া হয় ভালো। কাজী আলাউদ্দিন রোড ছাড়াও হানিফের বিরিয়ানির শাখা আছে রায়সাহেবের বাজার ও মতিঝিলে। এখানে হাফ প্লেট ৯০ টাকা, ফুল প্লেট ১৬০ টাকা এবং স্পেশাল ১৮০ টাকা।

বিরিয়ানির ক্ষেত্রে আরেক প্রসিদ্ধ নাম ফকরুদ্দিন। তাদের শাখা আছে বেইলি রোড, গুলশান, মিরপুর ও ধানমণ্ডিতে। তাদের কচ্চি বিরিয়ানির দাম হাফ ১৬০ টাকা ও ফুল ৩০০ টাকা, তেহারি হাফ ১৪০ টাকা ও ফুল ২৫০ টাকা। পুরনো ঢাকার ইসলামপুরে রূপম ও মামতির বিরিয়ানি বেশ প্রসিদ্ধ। দাম পড়বে ১৩০-১৫০ টাকা। একই জায়গার ছনঘরের তেহারি নামডাক আছে বেশ। এখানে প্লেট প্রতি তেহারি বিক্রি হয় ৮০ টাকায়।

মোহাম্মদপুরে বোবার বিরিয়ানি বিক্রি হয় প্রচুর। এটি মূলত তেহারি। দাম মাত্র ৫০ টাকা। কাচ্চি বিরিয়ানিতে ভিন্নতার স্বাদ এনে দিয়েছে কোলকাতা কাচ্চি ঘর ও গ্রান্ড নবাব। দুটোই সাতরওজাতে। তবে গ্রান্ড নবাবের একটি শাখা কাজী আলাউদ্দিন রোডেও আছে। এই দুটো কাচ্চির বিশেষত্ব হচ্ছে নানা ধরনের মশলার স্বাদে বাসমতি চাল দিয়ে তৈরি। থাকে খাসির আস্ত টুকরা আর আলু। আর পরিবেশনের সময় দেয়া হয় চাটনি ও সালাদ। দুটো কাচ্চিরই প্লেট বা প্যাকেট-প্রতি দাম রাখা হয় ১৮০ টাকা।

ঢাকার কাচ্চি বিরিয়ানিতে আরেকটি জনপ্রিয় নাম যুক্ত হয়েছে কয়েক বছর আগে। সেটি হল রয়েলের কাচ্চি। হাজী নান্নার মোরগ-পোলাও খুবই জনপ্রিয়। হাজী নান্না মোরগ-পোলাওয়ের আদি দোকানটি বেচারাম দেউরিতে। তবে তারা তাদের এ জনপ্রিয় খাবার নিয়ে এখন ছড়িয়ে আছে মিরপুর বেনারসি পল্লীর ১নং গেট, এলিফেন্ট রোড, নাজিম উদ্দিন রোড, নবাবগঞ্জ বাজার, লালবাগ চৌরাস্তায়ও।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
×