জবিতে হাত বাড়ালেই মাদক

বিভিন্ন পয়েন্টে নিয়মিত মাদকসেবীদের আড্ডা বসে

প্রকাশ : ০৯ জুন ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  হুমায়ুন কবির

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়। ছবি-সংগৃহীত

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ভেতরে-বাইরে চলছে জমজমাট মাদক ব্যবসা ও সেবন। হাত বাড়ালে মিলছে গাঁজা, ফেনসিডিল, হেরোইন ও ইয়াবাসহ বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য। বিভিন্ন পয়েন্টে নিয়মিত মাদকসেবীদের আড্ডা বসে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ভবনের বেজমেন্ট (জিরো পয়েন্ট) থেকে শুরু করে নজরুল হক হল, ক্যান্টিন, পাটুয়াটুলী গেট, সামাজিক বিজ্ঞান চত্বর, রেভেনাস ক্যান্টিন, নির্মাণাধীন ছাত্রী হল, ২য় গেটের বাসস্ট্যান্ড, লোকপ্রশাসন বিভাগের ছাদ, পোগোজ স্কুল মাদকসেবীদের আড্ডার স্পট হিসেবে ক্যাম্পাসে পরিচিতি পেয়েছে।

এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ে দিন দিন মাদকসেবী শিক্ষার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, বাইরের কয়েকজন মাদক ব্যবসায়ী ছাত্রদের হাতে মাদক পৌঁছে দেয়। তারাই বিশ্ববিদ্যালয়সহ আশপাশের মাদক বিক্রয়ের সিন্ডিকেটগুলো পরিচালনা করে।

এছাড়াও সদরঘাটগামী সড়কে অবস্থিত ফুট ওভারব্রিজের ওপরে ও আশপাশে হরহামেশাই মিলছে নেশাজাতীয় দ্রব্য। আশপাশের কয়েকটি স্পটে সক্রিয় এসব মাদকসেবীর সিন্ডিকেট। পরিচিত ক্রেতা ছাড়া এরা সবার কাছে বিক্রি করে না।

এদিকে মাদকদ্রব্যের টাকা জোগাড় করতে চুরি-ছিনতাইয়ে জড়িয়ে পড়ছেন মাদকসেবী ছাত্ররা। এজন্য ক্যাম্পাসে বাড়ছে চুরি-ছিনতাইয়ের ঘটনা। এমনকি পথচারীকে রাতের অন্ধকারে ক্যাম্পাসের দ্বিতীয় গেটে ধরে নিয়ে আসে মাদকসেবীরা। সবকিছু কেড়ে নেয়ার পর ছেড়ে দেয়া হচ্ছে।

এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু কিছু শিক্ষার্থী নিয়মিত মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েছেন। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ে মাদকসেবীর সংখ্যা বাড়ছে। তবে মাদকের বিরুদ্ধে সতর্কাবস্থায় রয়েছে বলে জানান বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

এছাড়া জবি শিক্ষার্থীদের টার্গেট করে সক্রিয় রয়েছে কয়েকটি মাদক ব্যবসায়ী চক্র। এ চক্রের সদস্যরা জবির পার্শ্ববর্তী ধোলাইখাল, সূত্রাপুর, নয়াবাজার, নবাবপুর রোড, আরমানিটোলা মাঠ, চানখাঁরপুল, কেরানীগঞ্জের বাসিন্দা। এসব এলাকার মাদক ব্যবসায়ীদের সঙ্গে জবির মাদকসেবী শিক্ষার্থীদের রয়েছে বিশেষ সখ্য।

শিক্ষার্থীদের চাহিদামতো মাদক সরবরাহ করেন ব্যবসায়ীরা। স্থানীয় অনেক মাদক ব্যবসায়ী বিভিন্ন বেশ ধরে ক্যাম্পাসে ঘোরাফেরা করেন। পরিচিত মাদক সেবনকারীদের প্রয়োজনমতো তাৎক্ষণিক মাদকদ্রব্য সরবরাহ করেন তারা। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশে বিভিন্ন দোকানের নামে মাদক ব্যবসা করার অভিযোগ রয়েছে।

মাদক সেবন করতে করতে কিছু বিপথগামী শিক্ষার্থীও মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েছেন বলে জানা গেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে বলেন, প্রশাসন ধারাবাহিক কোনো অভিযান না থাকায় দিন দিন মাদকসেবীর সংখ্যা বাড়ছে। আর মাদকসেবীদের অনেকেই ছাত্রলীগের রাজনীতি করে।

এদিকে মাদকের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ছাত্রলীগের উদ্যোগে বিভিন্ন লিফলেট ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি তরিকুল ইসলাম বলেন, কোনো ছাত্র যাতে মাদকাসক্ত হতে না পারে সে ব্যাপারে খুবই সতর্ক আছি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে সচেতন করার জন্য মাদকের বিরুদ্ধে আরও বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। মাদক সম্পর্কে সচেতন করতে নিজেরা গিয়ে ঢাকা শহরের অলিগলিতে লিফলেট বিতরণ করেছি।

সাধারণ সম্পাদক শেখ জয়নুল আবেদীন রাসেল বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে মাদকাসক্তদের কোনো স্থান নেই। যদি কোনো ছাত্র মাদক সেবন অথবা ব্যবসা সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে তাদের কোনো ছাড় নেই। আমরা সব ছাত্রের ব্যাপারে নিয়মিত খোঁজখবর নিচ্ছি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. নূর মোহাম্মদ বলেন, শিক্ষার্থীদের মাদকাসক্তের বিষয়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে প্রশাসন। এরই মধ্যে ক্যাম্পাসে মাদকবিরোধী একটি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। মাদক ব্যবসায় যারা জড়িত, তাদের খুঁজে বের করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ বিষয়ে কোতোয়ালি থানার ওসি মসিউর রহমান বলেন, বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার। কর্তৃপক্ষের অনুরোধক্রমে আমরা এর আগে অভিযান চালিয়েছিলাম। এ ব্যাপারে সতর্ক আছি। প্রয়োজনে আবারও অভিযান চালানো হবে।