‘ঐতিহ্যবাহী জামদানি নকশা’ শীর্ষক গ্রন্থ প্রকাশ

  সাংস্কৃতিক রিপোর্টার ০২ জুলাই ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বাংলাদেশের সমৃদ্ধ ঐতিহ্যের উপাদান জামদানি বয়নশিল্প। ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যের স্বীকৃতি অর্জনের পর এটি এখন আর শুধু বয়নশিল্প নয়, দেশের সমৃদ্ধ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের অংশ। অনন্য সেই জামদানির গৌরবগাথা স্থান পেয়েছে ছাপানো বইয়ের পাতায় পাতায়। গবেষণালব্ধ তথ্যের ভিত্তিতে জামদানি নিয়ে প্রকাশিত হল ‘ট্র্যাডিশনাল জামদানি ডিজাইনস’ বা ‘ঐতিহ্যবাহী জামদানি নকশা’ শীর্ষক গ্রন্থ। জামদানির ঐতিহ্যের পাশাপাশি বইটিতে তুলে ধরা হয়েছে জামদানি কাপড়ের বুনন কৌশল। আলোকচিত্রের সঙ্গে লিখিতভাবে উপস্থাপিত হয়েছে মিহি সুতোয় বোনা কাপড়টির বিচিত্র নকশা, বয়নসহ নানা বিষয়।

বাংলাদেশ কারুশিল্প পরিষদের তত্ত্বাবধানে বইটি প্রকাশ করেছে জাতীয় জাদুঘর। আর বইটির গবেষণাকর্মে আর্থিক সহায়তা করেছে ঢাকার মার্কিন দূতাবাস।

রোববার বিকালে জাদুঘরের সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে বইটির মোড়ক উন্মোচন করা হয়। প্রকাশনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর। এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশে মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শিয়া স্টিফেন ব্লুম বার্নিকাট। গ্রন্থ পর্যালোচনা করেন জাদুঘরের সাবেক মহাপরিচালক ফয়জুল লতিফ চৌধুরী।

জাদুঘরের মহাপরিচালক মো. আবদুল মান্নান ইলিয়াসের সভাপতিত্বে বইটি নিয়ে আলোচনা করেন বাংলাদেশ জাতীয় কারুশিল্প পরিষদের সভাপতি মো. রফিকুল ইসলাম, বইটির প্রধান গবেষক চন্দ্র শেখর সাহা এবং প্রকল্প সমন্বয়ক শাহিদ হোসেন শামীম। সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর বলেন, জামদানি মূলত ইতিহাসখ্যাত ঢাকাই শাড়ি মসলিনেরই একটি প্রজাতি। জামদানি ঢাকা জেলার বিশেষ ঐতিহ্যবাহী লোকশিল্প। বাংলাদেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে জড়িয়ে রয়েছে জামদানি শিল্পের নাম। বাংলাদেশের অহংকার হিসেবে চিহ্নিত এ শিল্পের ভেতরের যে ঐশ্বর্য ছড়িয়ে আছে আমাদের ঐতিহ্যে, তার ধারক হয়ে আজও জনপ্রিয়তায় অনন্য হয়ে আছে জামদানি বয়ন। জামদানির প্রসারে যাদের সীমাহীন অবদান রয়েছে তারা বর্তমানে খুবই ম্রিয়মাণ। ব্যক্তিস্বার্থ জামদানি শিল্পকে গ্রাস করে ফেলছে। মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শিয়া স্টিফেন ব্ল–ম বার্নিকাট বলেন, বাংলাদেশের লোকজ সংস্কৃতির ধারক জামদানিকে টিকিয়ে রাখতে হলে সম্মিলিত উদ্যোগ জরুরি। এর ডিজাইন ও ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখা যেমন জরুরি, তার চেয়ে বেশি জরুরি তাঁতিদের পৃষ্ঠপোষকতা। কারণ ভালো জামদানি তৈরিতে যে সময় লাগে সে তুলনায় টাকা খুব কম পান তাঁতিরা। তাই তাঁতিদের আর্থিক সচ্ছলতা আনার দিকে বেশি নজর দেয়া প্রয়োজন। ফয়জুল লতিফ চৌধুরী বলেন, জামদানি শাড়ির আগের সব বিখ্যাত ও অবিস্মরণীয় নকশা ও বুননের অনেকগুলোই বর্তমানে বিলুপ্ত প্রায়। নবীন কারিগররা অধিকাংশ নকশাই বুনতে জানেন না। এ গ্রন্থে আদি বুনন কৌশল আর হারিয়ে যাওয়া নকশা পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করা হয়েছে। মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, জামদানি শাড়ির মূল আকর্ষণ নকশা বা মোটিফ। এ নকশা সাধারণত কাগজে এঁকে নেয়া হয় না। জামদানির শিল্পীরা নকশা আঁকেন সরাসরি তাঁতে বসানো সুতায় শাড়ির বুননে বুননে। তারা এমন পারদর্শী যে, মন থেকে ভিন্ন ভিন্ন নকশা আঁকেন। পুরো জমিনে নকশা করা একটি শাড়ি তৈরি করতে ন্যূনতম সময় লাগে দুই মাস।

চন্দ্র শেখর সাহা বলেন, জামদানি শাড়ির দাম নির্ভর করে শাড়ির গাঁথুনি এবং সুতার কাউন্টের ওপর। যত বেশি কাউন্টের সুতা, শাড়ির দামও তত বেশি। সেই সঙ্গে নকশা তোলার সুতার কাউন্টও হতে হবে কম এবং নকশাও হতে হবে ছোট ছোট। আগে সুতা ও রেশম ব্যবহৃত হলেও বর্তমানে জামদানির বুননের সিল্ক, সুতির সুতা এবং নাইলন ব্যবহৃত হচ্ছে। জামদানি বুননের মূল শক্তিই হল সুতা। এ বইটি জামদানির নকশার ওপর বেশি গুরুত্ব দিয়েছে। এ গ্রন্থ নবীন শিল্পীদের দক্ষতা বৃদ্ধি করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

শাহিদ হোসেন শামীম বলেন, জামদানি, যে শাড়ির নকশায় প্রাণ পায় কারিগরদের শিল্পভাবনা। অনেকে মনে করেন, মুসলমানরাই ভারতীয় উপমহাদেশে জামদানি শাড়ির প্রচলন করেছিলেন। তবে আজকের জামদানি শাড়ি বাংলার এ সুপ্রাচীন ঐতিহ্যের প্রতীক হলেও এটি কিন্তু পুরোপুরি দেশীয় ঐতিহ্যেরও নয়। বরং মুঘল ও পারসিক ঐতিহ্যের এক সুন্দর মেলবন্ধন জামদানি শাড়িতে মিশে আছে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
×