১০নং ওয়ার্ড কমিউনিটি সেন্টার

জরাজীর্ণ ভবনে কার্যক্রম

  আফজাল হোসেন ১৪ জানুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) ১০নং ওয়ার্ড কমিউনিটি সেন্টারের কার্যক্রম জরাজীর্ণ ভবনে চলছে। এটি নগরীর দারুস সালাম থানা এলাকায় অবস্থিত। বিশাল আয়তনের এ সেন্টারটি দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় এখন পরিত্যক্ত হওয়ার পথে। অথচ আগে এলাকার সামাজিক অনুষ্ঠান এখানে বেশ অনাড়ম্বরভাবে করা হতো। ঝকঝকে মোজাইক, এসি, জেনারেটর, পর্যাপ্ত পানি, বড় বড় কক্ষ ও চাকচিক্যময় পরিবেশ কোনো কিছুর কমতি ছিল না এ কমিউনিটি সেন্টারে। সংস্কারের অভাবে মুখ থুবড়ে পড়েছে নাগরিক সেবা। কর্তৃপক্ষের নজরদারি ও উদাসীনতায় এ অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। সেন্টারটি বাইরে থেকে দেখলে মনে হবে পুরাতন জরজীর্ণ ভবন। এ ভবনের ভেতরের অবস্থা আরও করুণ। মেঝের বেশির ভাগ জায়গায় মোজাইক নষ্ট হয়ে ছোট ছোট গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এসিগুলো পুরাতন হয়ে যাওয়াই কার্যক্ষমতা হ্রাস পেয়েছে। আবার কিছু অকেজো অবস্থায় পড়ে রয়েছে। পানির তীব্র সংকট ও বড় কক্ষগুলো দখলে চলে গেছে। এলাকাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এ কমিউনিটি সেন্টারে অনুষ্ঠানের জন্য আগে সিরিয়াল দিতে হত। কিন্তু এখন অনুষ্ঠান করার কোনো পরিবেশ নেই।

নিচতলা ও দ্বিতীয় তলা ঘুরে দেখা গেছে, হলরুম, ওয়েটিং রুম, গেস্টরুমের মোজাইক নষ্ট হয়ে বিভিন্ন জায়গায় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। দেয়ালের রং উঠে গেছে। আবার দরজা-জানালাও ভাঙাচুরা। নিচতলার কয়েকটি কক্ষের ফ্লোর ফেটে ডেবে গেছে।

সেন্টারটিতে প্রবেশ করতেই দেখা যায়, অনেক বড় পার্কিংয়ের জায়গা দখলে চলে গেছে। পুলিশের গাড়ি, পরিত্যক্ত কয়েকটি যানবাহন, রিকশা, ড্রাম ও পুরাতন-আসবাবপত্র ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে।

পরিত্যক্ত যানবাহনগুলো অনেক বছর ধরেই এ অবস্থায় পড়ে রয়েছে। নিচতলার ৫টি কক্ষের একটি কক্ষ বুকিং রুম অন্যটি কাউন্সিলরের কার্যালয় হিসেবে ব্যবহৃত হলেও বাকি ৩টি বিভিন্নভাবে দখলে রয়েছে। নিচতলার টয়লেটগুলোও ব্যবহার অনুপেযোগী। পাশের ড্রেনের ব্যবস্থাও নাজুক। সামান্য বৃষ্টি হলে বর্ষাকালে নিচতলা ঘণ্টার পর ঘণ্টা তলিয়ে থাকে। ২য় তলার হলরুম অনেক বড় হলেও ছাদ ফেটে যাওয়ায় বৃষ্টি হলে পানি পড়ে । হলরুমের অপর পাশেই রয়েছে ভিআইপি কক্ষ। কক্ষটি অনেক দিন পুলিশ সদস্যদের দখলে রয়েছে। হলরুম ও ভিআইপি কক্ষের বারান্দার চারপাশ ময়লা-আবর্জনায় ভরা। নিজস্ব পরিচ্ছন্নতাকর্মী থাকলেও নিয়মিত পরিষ্কার করা হয় না বলে অভিযোগ রয়েছে।

দারুস সালাম থানার ওসি মো. সেলিমুজ্জামান বলেন, পুলিশের জায়গার সঙ্কুুলন না হওয়ায় আপাতত সেখানেই থাকছে আমার থানার সদস্যরা। স্থানীয় বাসিন্দা আলাউদ্দীন বলেন, সেন্টারটির ভাড়া শুরুতে ৯ থেকে ১০ হাজার টাকা ছিল।

তত্ত্বাবধায়ক মো. আবদুল হাই আল হাদী বলেন, মোজাইক পরিষ্কার, রং করা ও এসির কাটারের জন্য নোট দেয়া হয়েছে। সিটি কর্পোরেশন এ ব্যাপারে পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

এলাকার আর্থিকভাবে অসচ্ছল মানুষের কথা চিন্তা করে ১৯৯৮ সালে ১০নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর

মোহাম্মদ শাহজাহান দেওয়ান ১ দশমিক ০৭ একর জায়গার ওপর কমিউনিটি সেন্টারটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। পরবর্তীতে সাবেক ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের তৎকালীন মেয়র মোহাম্মদ হানিফ ২০০০ সালে ২য়তলা বিশিষ্ট সেন্টারটির উদ্বোধন করেন। বিশাল আয়তনের কমিউনিটি সেন্টারটির হলরুমে অতিথি ধারণক্ষমতা ৬০০ জন। দিবা ও রাত্রে ২ শিফটে ভাড়া দেয়া হয়। দিবা ২৭ হাজার টাকা ও রাত্রে ২৯ হাজার টাকা।

ডিএনসিসি ১০নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আবু তাহের বলেন, ১০নং ওয়ার্ড কমিউনিটির সেন্টারটি সংস্কারের ব্যাপারে অঞ্চল-৪-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করা হয়েছে। সংস্কার কাজ দ্রুত শুরু করা হবে।

 
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

 

gpstar

 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

E-mail: [email protected], [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter