বংশাল পার্ক সংস্কারে ধীরগতি

এলাকাবাসীর ক্ষোভ

  খোরশেদ আলম শিকদার ০১ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ট্রাইংগেল পার্ক
ধীরগতিতে সংস্কার চলছে বংশাল পুরাতন চৌরাস্তায় ট্রাইংগেল পার্কের। পাকর্টি আগে বংশাল লেডি বাগান নামে পরিচিত ছিল-যুগান্তর

জল সবুজে ঢাকা পার্ক প্রকল্পের আওতায় সংস্কার কাজ চলছে রাজধানীর পুরান ঢাকার বংশাল পুরাতন চৌরাস্তায় ট্রাইংগেল (ত্রিকোণাকৃতি) পার্কের। পার্কটি পূর্বে বংশাল পার্ক বা বংশাল লেডি বাগান পার্ক নামে পরিচিত ছিল।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র মো. সাঈদ খোকন পার্কটি সম্পূর্ণ নতুন উদ্যমে সংস্কার করার উদ্যোগ নিয়েছেন। পার্কে থাকবে ওয়াকওয়ে, সবুজ ঘাসের উঁচু স্তর, বসার সিট, লাইট, কফি শপ, পাবলিক টয়লেট, ভাস্কর্য, শিশুদের খেলার জোনসহ বিভিন্ন সুবিধা।

২০১৭ সালের ১০ সেপ্টেম্বর কাজের ওয়ার্ক অর্ডার দিয়ে শেষ করার জন্য ২০১৮ সালের ২০ জুন সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিল ডিএসসিসি। আর এজন্য পার্কের সংস্কার কাজ করার দায়িত্ব পেয়েছে মেসার্স এইচএমএইচইডটএইচসি (জেভি) লিমিটেড ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

গেল অক্টোবরে কাজ শুরুর পর ফের অক্টোবর মাস ঘনিয়ে এলেও এক বছরেও পার্কটির সংস্কার কাজ শেষ করছে না ঠিকাদার। এ ধীরগতির কাজের কারণে এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

তারা বলছে, পার্কে তেমন আর কী কাজ। এ সামান্য কাজটি এক বছরেও ঠিকাদার শেষ করছে না। এলাকাবাসী পার্কের কাজটি দ্রুত সমাপ্তের দাবি জানান। ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) বংশাল পুরাতন চৌরাস্তায় বা বংশাল ফ্রেঞ্চ রোড, বংশাল রোড ৩৫ নম্বর ওয়ার্ডের আওতায় পার্কটি অবস্থিত হলেও পার্কটি ঘিরে রয়েছে উত্তর পাশে ডিএসসিসির ৩৩ নম্বর ওয়ার্ড, পূর্ব-উত্তর পাশে ৩২ নম্বর এবং পূর্ব পাশে ৩৪ নম্বর ওয়ার্ড।

অর্থাৎ সিটি কর্পোরেশনের ৪টি ওয়ার্ডের মাঝে পুরান ঢাকার বংশাল পুরাতন চৌরাস্তায় অবস্থিত বংশাল ট্রাইংগেল বা ত্রিকোণাকৃতি পার্ক। পার্কটি ত্রিভুজ আকৃতির হওয়াতে ইংজেী শব্দে ট্রাইংগেল (বাংলাতে ত্রিকোণাকৃতি) নাম দেয়া হয়েছে।

বংশাল এলাকার ষাটোর্ধ্ব বয়সের একাধিক বাসিন্দা যুগান্তরকে বলেন, কবে বা কখন পার্কের উৎপত্তি তা নির্দিষ্টভাবে জানা নেই। তবে স্বাধীনতার আগে থেকেই এ পার্ক স্থাপিত। পার্কে ছিল লাইব্রেরি। ১০ থেকে ১২টি বেঞ্চ ছিল। একেক বেঞ্চে ৫ থেকে ৬ জন বসতে পারত। চারপাশে গ্রিলের বেড়া ছিল।

এলাকার লোকজন পার্কে এসে বই পড়ত, অবসর সময় কাটাত। পার্কটি প্রথম পর্যায়ে আরও বড় ছিল। মধ্যখানে পার্কের জায়গা কমিয়ে পাশের রাস্তা প্রশস্ত করার কারণে পার্কটি একটু ছোট হয়ে গেছে।

পরবর্তীতে সাবেক মেয়র মোহাম্মদ হানিফ পার্কটি সংস্কার করে পার্কের ভেতরে শান্তির প্রতীক দু’টি পায়রা ও পানির ঝরনা স্থাপন করেন। এক পর্যায়ে সেই পানির ঝরনা বা ফোয়ারা নষ্ট হয়ে যায় ও শান্তির প্রতীক পায়রা দুটিও বিলীন হয়ে যায়। দীর্ঘ ১০-১২ বছর পার্কটি অযত্নে অবহেলায় পড়ে থাকে।

পার্কের পাশেই এলাকার ময়লা-আবর্জনা ফেলার ডাস্টবিন রয়েছে। ময়লা ফেলতে ফেলতে রাস্তা পর্যন্ত ছড়িয়ে যেত। ওই স্থানটি ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। ময়লার দুর্গন্ধে পাশে বংশাল রুকনদ্দিন জামে মসজিদ, দেশের সুপরিচিত বংশাল সাইকেল, রিকশা, মোটরপার্টসের দোকান ও নয়াবাজার স’মিলে গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের সম্পত্তি বিভাগের অবহেলা ও অযত্নের কারণে দিন দিন পার্কটি বিলুপ্ত হয়ে যায়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকার একাধিক বাসিন্দা যুগান্তরকে বলেন, শুনেছি পার্কটিতে আগের মতো গ্রিল দেয়া বেড়া থাকবে না, খোলা থাকবে। পার্কটি খোলা থাকলে মাদকাসক্তদের আড্ডাস্থল হিসেবে পরিণত হবে। অহেতুক পার্কের সিটে ঘুমাবে, যে সে পার্কে ময়লা ফেলবে। গ্রিল দিয়ে বেড়া দেয়া হলে এসব থেকে অনেকটা বিরত থাকবে। তারা পার্কের চারপাশে গ্রিল দিয়ে বেড়া দেয়ার দাবি জানান।

বংশালের বাসিন্দা জলিল আহমেদ যুগান্তরকে বলেন, পার্ক ও এর আশপাশের এলাকা ৪-৫ বছর ধরে ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়। মেয়র সাঈদ খোকন পার্কটি সংস্কারে উদ্যোগ নেয়ায় এলাকাবাসী ও পার্কের পাশের ব্যবসায়ীরা প্রথমত দুর্গন্ধ থেকে মুক্ত হবে। দ্বিতীয়ত, এলাকার পরিবেশ সুন্দর হবে। তৃতীয়ত, বাসিন্দারা সেই পুরনো উদ্যমে পার্কে এসে সময় কাটাতে পারবে। তিনি পার্কটির কাজ দ্রুত সম্পন্নের দাবি জানান।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন অঞ্চল ৪ এর উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. ইমরান হোসেন যুগান্তরকে বলেন, এ এলাকায় জল সবুজে ঢাকা পার্ক প্রকল্পের আওতায় বংশাল ত্রিকোণাকৃতি পার্ক, ছিক্কাটুলী পার্ক, সিরাজদৌলা পার্ক ও মালিটোলা পার্ক সংস্কারে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

আর এ ৪টি পার্ক সংস্কারে একটি প্যাকেজ করে ১১ কোটি ১৯ লাখ টাকায় চুক্তি করা হয়েছে। ইতিমধ্যে বংশাল ট্রাইংগেল বা ত্রিকোণাকৃতি পার্কসহ ৩টি পার্কের সংস্কার কাজ ৭০ থেকে ৭৫ ভাগ হয়েছে। দেশের বাইরের কিছু মালামাল এ পার্কে স্থাপন করা হবে, সে জন্য একটু বিলম্ব হচ্ছে।

 

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter