কড়াইলের বেহাল সড়ক সংস্কার হয়নি দীর্ঘদিনেও

  যুগান্তর রিপোর্ট ০১ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

কড়াইল বেলতলা মোড় সড়ক
কড়াইল বেলতলা মোড়ে সড়কটিতে কাদা মাটি মাড়িয়ে পথ চলছে এলাকাবাসী। পথচারীদের পা পিছলে যেকোনো সময় ঘটতে পারে ‍দুর্ঘটনা-যুগান্তর

রাজধানীর মহাখালীর ওয়্যারলেস গেটের টিঅ্যান্ডটি কড়াইল বেলতলা মোড় থেকে বৌবাজার পর্যন্ত সড়কের বেহাল দশা। বিভিন্ন জায়গায় ভাঙা। খানাখন্দ আর গর্তে ভরা সড়ক। অল্প বৃষ্টি হলেই কাদা-কাদা হয়ে যায়।

এলাকাবাসী ও পথচারীরা পথ চলতে গিয়ে হোঁচট খাচ্ছেন। পড়ে গিয়ে হাত-পা ভাঙছেন। চরম ভোগান্তিতে এলাকাবাসী। সড়কটি দীর্ঘদিন সংস্কার করেনি সিটি কর্পোরেশন। এ কারণে এলাকাবাসীর মনে প্রশ্ন- কড়াইল সড়ক কবে সংস্কার হবে?

সরেজমিন দেখা যায়, কড়াইল বেলতলা মোড় থেকে বৌবাজার পর্যন্ত সড়কে কাদামাটি ও পানি জমে আছে। সড়কটির বেশ কিছু স্থানে ও বাজারের কয়েকটি স্থানে বৃষ্টির পানি জমে আছে। সড়কের দু’পাশে কোনো লাইটপোস্ট নেই।

এলাকাবাসী জানান, সড়কটি হওয়ার পর আজ পর্যন্ত সংস্কার হয়নি। তারা আরও জানান, সংস্কারের কথা বলে বাজার কমিটির সদস্যরা দোকানপ্রতি ৫০০-১০০০ করে টাকা চাঁদা তোলে। আর তাদেরকে (দোকানদারদের) আস্বস্ত করে বলে, কোরবানির ঈদের পর সংস্কারের কাজ শুরু হবে। এখন পর্যন্ত সংস্কার শুরু হয়নি। সড়কটি ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্ভুক্ত।

বেলতলা মোড়ের বাসিন্দা আবদুল মঈন বলেন, আমাদের এলাকার সড়ক সংস্কার হয় না অনেক দিন ধরে। প্রতিবেদককে বলেন, আমাদের সাহায্য করুন। বৃষ্টি হলেই সড়ক কাদা-কাদা হয়ে যায়। ভালোভাবে চলাফেরা করা যায় না। আমরা অনেক ভোগান্তিতে আছি।

বৌবাজারের বাসিন্দা আমেনা খাতুন বলেন, এ সড়ক ১৯৯৮ সালে হয়েছে। ২০ বছরেও সংস্কার হয়নি। অনেক দিন ধরে শুনে আসছি সংস্কার করা হবে। কিন্তু আর সংস্কার হয় না। এমনও শুনেছি দোকানদারদের কাছ থেকে টাকা নেয়া হয়েছে সংস্কারের জন্য। কোনো দোকান থেকে ৫০০ আবার কোনোটি থেকে এক হাজার টাকা করে চাঁদা তোলা হয়েছে। টাকা তুলেছে (কড়াইল) বৌবাজার কমিটির সদস্যরা।

এ বিষয়ে কড়াইল ইউনিট-২ এর সহসভাপতি ও বৌবাজার কমিটির ক্যাশিয়ার মো. ইউসুফ কাজী বলেন, সড়কটি তৈরি করা হয় ১৯৯৮ সালে। এর পরে দু’বার সংস্কার করা হয়। আর বেশ কয়েকবার নিজস্ব উদ্যোগে সংস্কার করা হয়। সড়ক সংস্কারের জন্য দোকান থেকে টাকা তোলা হয়েছে। কিন্তু এ বিষয়ে আমি কিছুই জানতাম না। আমাকে না জানিয়ে বাজারের দোকান থেকে টাকা তোলা হয়েছে। ছোট দোকান থেকে ৫০০ টাকা। বাজারে যেসব দোকানে ট্রাকে করে মাল আসে, সে দোকানগুলো থেকে এক হাজার করে টাকা তোলা হয়।

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ১৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. মফিজুর রহমান বলেন, কড়াইল এলাকাটি বস্তি এরিয়া। এ জায়গাটি সরকারি। আমাদের সিটি কর্পোরেশনের বাজেট থেকে কাজ করতে পারি না। বস্তি উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে সড়ক সংস্কার করা সম্ভব। বিদেশি অর্থায়নে বস্তিতে উন্নয়নমূলক কাজ করা হয়। বিদেশি অর্থ বছরে একবার আসে। যেসব বস্তিতে জরুরি ভিত্তিতে সংস্কার প্রয়োজন হয়, সেখানেই কাজ হয়। এখানকার দোকানদার ও ব্যবসায়ীরা সড়ক সংস্কারের জন্য টাকা দিয়েছে। ব্যবসায়ীরা তাদের স্বার্থেই টাকা দিয়েছেন সড়ক সংস্কারের জন্য।

ডিএনসিসি অঞ্চল-৩ এর নির্বাহী প্রকৌশলী খন্দকার মাহবুব আলম যুগান্তরকে বলেন, কড়াইল বস্তি আমাদের আওতাধীন নয়। টিঅ্যান্ডটি এলাকার মধ্যে পড়েছে। টিঅ্যান্ডটি এলাকার মধ্যে আমরা কাজ করি না।

 

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter