কারহাট সাধ্যের মধ্যে সাধ পূরণের স্থান

  তেজগাঁও প্রতিনিধি ০১ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

কারহাট
কারহাট-যুগান্তর

ছয় বন্ধু মিলে রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউর রাজধানী উচ্চবিদ্যালয় মাঠে শুরু করা কারহাট ১৯ বছরে পদার্পণ করল। ১৯৯৯ সালের আগস্টে কারহাট যাত্রা শুরু করে। শুরুর দিকে তেমন সাড়া না মিললেও অল্প সময়ের ব্যবধানে হাটটি জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।

বর্তমানে হাটে দেড় শতাধিক গাড়ি বিক্রির জন্য প্রদর্শন করা হয়। গড়ে ২০টি গাড়ি বিক্রি হয়। ১৯ বছরে প্রায় ২০ হাজারেরও বেশি গাড়ি বিক্রি হয়েছে এ কারহাটে। প্রতি শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত রাজধানী উচ্চবিদ্যালয় মাঠে বসে এ কারহাট।

কারহাট সংশ্লিষ্টরা জানান, রিকন্ডিশন্ড বা পুরাতন গাড়ি ক্রয়-বিক্রয়ে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের একটি মাধ্যম কারহাট। এ হাটে যে কোনো গাড়ি সরাসরি দেখে গাড়ির মালিকের সঙ্গে দরদাম করা যায়। গাড়ির কাগজপত্র যাচাইয়ের ঝামেলা নেই। আমরা গাড়ির কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করেই রেজিস্ট্রেশন করাই। গাড়ি কেনার পর প্রতি বছর বিআরটিএর নবায়ন আমাদের মাধ্যমে করে দিই। আমরা কারহাটের মাধ্যমে ক্রেতা-বিক্রেতাদের সব ধরনের সেবা দিয়ে থাকি।

সর্বস্তরের মানুষের সাধ্যের মধ্যে নিজের একটি গাড়ি মেলে এ হাটে। রাজধানীসহ সারা দেশ থেকে পছন্দের পুরনো গাড়ি কিনতে এ হাটে ভিড় জমান ক্রেতারা। এখানে নতুন-পুরান সব মডেল ও ব্র্যান্ডের বাহারি রং আর আকর্ষণীয় ডিজাইনের গাড়ি প্রদর্শন করা হয়। দামও ক্রেতার হাতের নাগালে। দরকষাকষির তেমন ঝামেলা নেই এ হাটে।

মূল্য ও গাড়ি সম্পর্কে সব তথ্য গাড়ির সামনে দেয়া থাকে। এ ছাড়া আগ্রহী ব্যক্তি দীর্ঘসময় নিয়ে দেখেশুনে পছন্দের গাড়িটি কেনারও সুযোগ পান। এমনকি গাড়ি কেনার আগে টেস্ট ড্রাইভ করারও সুযোগ রয়েছে। এ কারহাটে বিভিন্ন মডেলের প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস ও জিপ গাড়ি পাওয়া যায়।

হাটে গাড়ি কিনতে আসেন প্রিন্স নামের এক ব্যবসায়ী। তিনি বলেন, আমি ছোটখাটো ব্যবসা করি। প্রয়োজনে ও শখের জন্য হলেও একটি গাড়ি দরকার। তাই সাধ্যের মধ্যে নিজের একটি গাড়ি কিনতে কারহাটে আসা। ১০-১৫ বছর ব্যবহৃত গাড়ি সাধ্যের মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। গাড়ি নিয়ে বাড়িতে গেলে একটু আলাদা সম্মান পাওয়া যায়। হাট ঘুরে দেখা মেলে বিভিন্ন পেশার মানুষ। সপরিবারেও কারও দেখা মেলে।

আরেক দর্শনার্থী শান্ত আহসান বলেন, আমরা এ হাট থেকে এর আগেও একটি গাড়ি কিনেছি। পুরাতন গাড়ির শোরুমে বেশি দাম এবং গাড়ির মালিকের সাথে যোগাযোগ করা যায় না। আর এখানে সরাসরি ক্রেতা-বিক্রেতার সঙ্গে কথা বলে কেনাবেচা করা যায়। উত্তরা থেকে সুমন আহমেদ নোয়া ২০০০ সালের মডেলের একটি গাড়ি বিক্রির জন্য কারহাটে এনেছেন।

তিনি বলেন, এ ধরনের হাট ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ের জন্য ভালো। কারহাটের গাড়িগুলো হাটের ওয়েবসাইটেও দেখা যায় এবং গাড়ি সম্পর্কে সব তথ্য পাওয়া যায়। কারহাটের ওয়েবসাইট www.carhaat.com.bd। এ ছাড়া ১৯ বছরে এ হাটের রয়েছে বহু সাফল্য। ২০০৯ সালে লন্ডন থেকে ‘কোয়ালিটি ক্রাউন’ বিজয় লাভ করেছে কারহাট।

কারহাট লিমিটেডের ডিরেক্টর গোলাম আরিফ (রিপন) বলেন, আমাদের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে গাড়িসংক্রান্ত সেবা দেয়া। আমরা কারহাটের সেবা আরও বাড়ানোর চেষ্টা করছি। কারহাটকে ডিজিটালাইজড করছি। যাতে করে ক্রেতা-বিক্রেতারা অনলাইনে (ডোর টু ডোর) গাড়ি কেনা-বেচা করতে পারে। ক্রেতা অথবা বিক্রেতাকে যাতে প্রতারিত না হতে হয় আমরা সে বিষয়ে খেয়াল রাখি। আগামীতে ক্রেতা-বিক্রেতাদের জন্য আরও কিছু আকর্ষণ নিয়ে আসছি।

তিনি আরও বলেন, অনেকে আছেন যারা পুরান গাড়ি বিক্রি করতে চায়। আর দালালের মাধ্যমে বিক্রি করলে তারা ন্যায্যমূল্য পায় না। তাই তাদের কারহাটে আসার আহ্বান জানান তিনি।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter