খাল দখল করে দোকানপাট

যাত্রাবাড়ী-শনির আখড়া

  দনিয়া প্রতিনিধি ০২ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

খাল দখল
যাত্রাবাড়ী-শনির আখড়া খালের ওপর গড়ে তোলা বিভিন্ন ধরনের দোকানপাট ও অবৈধ স্থাপনা-যুগান্তর

যাত্রাবাড়ী-শনির আখড়া খাল দখল করে রিকশা গ্যারেজ, দোকানপাট ও অবৈধ ভবন গড়ে তোলা হয়েছে। উত্তর কুতুবখালী বৌবাজার নিউ থ্রিস্টার ফলের আড়ত থেকে শনিরআখড়া বাজার পর্যন্ত বিস্তৃত এ খাল।

যাত্রাবাড়ী কাঁচাবাজার ও ফলের আড়তের ময়লা-আবর্জনা এ খালে ফেলা হচ্ছে। খালের ওপর সরু পাইপ বসিয়ে রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে। এতে খালের পানি চলাচল কমে গেছে। সামান্য বৃষ্টিতে যাত্রাবাড়ী থেকে কাজলা পর্যন্ত জলাবদ্ধতা হয়। সড়কে যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। যানজটের সৃষ্টি হয়।

উত্তর কুতুবখালী, কাজলা, নয়ানগর, ছনটেক এলাকার সড়ক ও বাসাবাড়ি ডুবে যায়। আর বৃষ্টি হলে হাঁটুপানি হয়। এতে এলাকার বাসিন্দাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। খালটির ওপর থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে খালের ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করার দাবি জানিয়েছে এলাকাবাসী। ৪০ বছরের আগের এ খাল এখন আগের মতো কাজে আসছে না।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) ৫০ নম্বর ওয়ার্ড থেকে শুরু হয়ে নব সম্পৃক্ত ৬১ ও ৬২ নম্বর ওয়ার্ড পর্যন্ত বিস্তৃত এ খাল। খালের ওপর অসংখ্য বাঁশ গেড়ে বাঁশের দোকান নির্মাণ করা হয়েছে। রিকশার হুড বানানোর জন্য খালের ভেতর বাঁশ ভিজিয়ে রাখা হয়েছে।

যাত্রাবাড়ী আড়তের লিচুর খাঁচি, আলুর বস্তা, জালিসহ ময়লা-আবর্জনা খালের মধ্যে ফেলা হচ্ছে। এতে খালটি ভরাট হয়ে যাচ্ছে। আর এ কারণে এ এলাকার পয়ঃনিষ্কাশন ও বৃষ্টির পানি চলাচল করতে না পেরে স্থায়ী জলাবদ্ধতায় বাসিন্দাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

এছাড়া শনিরআখড়া আন্ডারপাসের নিচ দিয়ে পানি চলাচলের ২টি পাইপের একটি বন্ধ হয়ে আছে। আরেকটি পাইপ সচল থাকলেও ময়লা জমে রয়েছে। সেজন্য ধীরগতিতে পানি চলাচলের কারণে এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়।

ব্রাইট স্কুল অ্যান্ড কলেজের চেয়ারম্যান লায়ন মাসুদ হাসান লিটন যুগান্তরকে বলেন, পানি নিষ্কাশনে বাধা হলে সেই পানিতে বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়। আমাদের প্রত্যেকের উচিত পানি নিষ্কাশনের ড্রেনেজ, খাল পরিষ্কার রাখা।

জাতীয় ছাত্রসমাজ কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জাতীয় ছাত্রসমাজের সিনিয়র সহসভাপতি মো. ইব্রাহীম খাঁন (জুয়েল) যুগান্তরকে বলেন, এ খালটির ওপর অবৈধভাবে ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। তাছাড়া খালের ওপর ময়লা-আবর্জনা ফেলে খালটি একরকম বন্ধের মতো। ফলে এ এলাকার পয়ঃনিষ্কানের পানিতেই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। খালটির ওপর থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের জন্য এলাকার বাসিন্দারা স্থানীয় এমপি হাবিবুর রহমান মোল্লার কাছে একাধিকবার আবেদন ও প্রতিবাদ জানিয়েও কোনো ফল পাননি।

কুতুবখালী এলাকার বাসিন্দা সাবেক ছাত্রনেতা ইঞ্জিনিয়ার কাজী ইসমাইল হোসেন যুগান্তরকে বলেন, আমি জন্মের পর থেকে দেখে আসছি এ খাল দিয়ে এ এলাকার পানি চলাচল করে। এখন অবৈধ দখলদারিত্বের জন্য খালটি যেন বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।

দনিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আহমেদুল করিম জয় যুগান্তরকে বলেন, খালটি সচল করা খুবই প্রয়োজন। খালের ওপর থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করতে হবে।

দনিয়া ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. আক্তার হোসেন যুগান্তরকে বলেন, এলাকার রাস্তা, পানি নিষ্কাশনের ড্রেনেজ ব্যবস্থা উন্নত ও খাল পরিষ্কার না থাকলে মানুষের দুর্ভোগ বেড়ে যায়। খালটির অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করা প্রয়োজন।

দনিয়া ইউপির ৭নং ওয়ার্ডের মেম্বার মো. মোমেন খান যুগান্তরকে বলেন, আগে এ এলাকাটি কৃষিজমি ছিল। ঢাকা-চট্টগ্রাম সড়কটি মাটি কেটে নির্মাণের সময় থেকে কুতুবখালী থেকে শনিরআখড়া পর্যন্ত খালে পরিণত হয়। সেই থেকে খালের উৎপত্তি। আর এ খাল দিয়ে এলাকার পানি চলাচল করে। খালটি এখন দখল, ভরাট ও ময়লা আবর্জনা ফেলে চলাচল রুদ্ধ করা হয়েছে। খালটি উদ্ধার করে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা জরুরি হয়ে পড়েছে। অন্যথায় জলাবদ্ধতার সমস্যা যাবে না।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) ৫০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হাজী মো. দেলোয়ার হোসেন খান যুগান্তরকে বলেন, যাত্রাবাড়ী আড়তের বর্জ্য ড্রেন বা খালের মধ্যে যাতে না ফেলে সে বিষয়ে কঠোরভাবে ব্যবসায়ীদের বলা হয়েছে। তাদের বোঝা উচিত ড্রেন ভরাট হলে সড়কে ও এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হবে। এতে বাসিন্দাদের দুর্ভোগ বেড়ে যাবে।

 

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter