তেজগাঁও রেলওয়ে কলোনিতে ভাড়া বাণিজ্যের প্রতিযোগিতা

  মো. আরমান ভূঁইয়া ০২ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

তেজগাঁও রেলওয়ে কলোনি
তেজগাঁও রেলওয়ে কলোনির জরাজীর্ণ ভবন। এসব ভবনের বেশিরভাগ বরাদ্দ নিয়ে ভাড়া দেয়া হয়।কিন্ত দেখার যেন কেউ নেই-যুগান্তর

তেজগাঁও রেলওয়ে কলোনিতে ভাড়া বাণিজ্যের প্রতিযোগিতা চলছে। কলোনির ভেতরে ও বাইরে কাঁচা-পাকা ঘর নির্মাণ করে অবৈধভাবে ভাড়া দেয়া হচ্ছে।

তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের জন্য বরাদ্দ করা বাসায় কর্মচারীরা থাকেন না। আর এমন ঘরে অবৈধভাবে দেয়া হয়েছে গ্যাস, পানি ও বিদ্যুৎ সংযোগ।

কলোনিজুড়ে রয়েছে ময়লা-আবর্জনা। নেই ভালো ড্রেনেজ ব্যবস্থা। সামান্য বৃষ্টি হলেই পুরো কলোনি ময়লা পানিতে একাকার হয়ে যায়। কলোনির ভেতরে মাদক ব্যবসা, মাদকসেবীদের আড্ডা, এমনকি নানারকমের বেআইনি কর্মকাণ্ডের প্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

স্থানীয় প্রভাবশালী ও রেলওয়ের কিছু আসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশেই চলছে ভাড়া বাণিজ্য। অবৈধ গ্যাস, পানি ও বিদ্যুৎ সংযোগের ক্ষেত্রেও টাকা লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে।

রেলওয়ে প্রকৌশলী (পূর্ত) তেজগাঁও বিভাগ সূত্রে জানা যায়, তেজগাঁওয়ে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের জন্য ৩০০টি বাসা ছিল। এর মধ্যে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের জন্য ১২০টি বাসা ভেঙে ফেলা হয়েছে।

আরও ৫৩টি ভাঙার পরিকল্পনা রয়েছে। যেসব বাসা আছে সেগুলো তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারীদের জন্য ৮টি ও বাকি বাসাগুলো চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের জন্য বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

সরেজমিন দেখা যায়, তেজগাঁও রেলওয়ে কলোনির প্রত্যেক বাসায় দুটি করে রুম রয়েছে। তবে প্রত্যেক বাসায় ৮-১০টি করে অবৈধ ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। প্রতিটি ঘর ৪ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকায় ভাড়া দেয়া হচ্ছে।

পুরো কলোনির কোথাও খালি জায়গা নেই। নির্মাণ করা ঘরগুলোতে বছরের পর বছর অবৈধভাবে বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানির সংযোগ দেয়া হয়েছে। রেলওয়ের কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাবশালী একটি চক্রের মাধ্যমে দিনের পর দিন এমন অনৈতিক কর্মকাণ্ড চলে আসছে।

এতে প্রতি বছর সরকারকে বিপুল পরিমাণ ভর্তুকি দিতে হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে এমন অবস্থা চললেও রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না।

আবদুল আজিজ রেলওয়ের তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারী। তেজগাঁও খেলাঘর মাঠের উত্তর পাশে ই-৮৫ নম্বর বাসা বরাদ্দ পেয়েছেন। অথচ তিনি সেখানে থাকেন না। বাসায় মূলত দুটি ঘর থাকলেও দেখা যায় কাঁচা-পাকা মিলে ১২টি ঘর রয়েছে। প্রতিটি ঘর ৫-৬ হাজার টাকায় ভাড়া দেয়া হয়েছে।

একই অবস্থা চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী কোয়ার্টারগুলোতে। টি-৭৬-এ নম্বর বাসায় থাকেন গোলাপ মিয়া। তিনি ৬টি ঘর ও দুটি দোকান তুলে ভাড়া দিয়েছেন। এল-৪১-এ নম্বর বাসায় মিয়ার উদ্দিন নামে এক কর্মচারী থাকেন। তিনি ৮টি ঘর নির্মাণ করে ভাড়া দিয়েছেন।

অবৈধভাবে ঘর তুলে ভাড়া বাণিজ্য করার ব্যাপারে জানতে চাইলে গোলাপ মিয়া বলেন, সবাই ঘর তুলে ভাড়া দিয়েছে। আমার জায়গায় আমি ঘর না তুললে অন্য কেউ তুলে ভাড়া দেবে। এল-৪২-এ নম্বর বাসার জলিল বলেন, আমাদের এ ঘরগুলো থেকে ভাড়া নেয় নেত্রী সুমী।

জানা যায়, স্থানীয় রাজনৈতিক পরিচয়ে নেত্রী সুমী বেশকিছু ঘর থেকে ভাড়া তোলেন। কোয়ার্টারের কয়েকজন কর্মচারী তার (সুমী) মাধ্যমে ভাড়া নেয়। এ বিষয়ে সুমীর কাছে জানতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

জানা যায়, তার মতো আরও অনেক রাজনৈতিক নেতা কিছু কিছু ঘর তুলে ভাড়া দিয়েছেন। খেলাঘর মাঠের উত্তর পাশে রেলওয়ের জায়গায় রয়েছে রিকশার গ্যারেজ। সেখানে দিন-রাত বসে মাদকসেবীদের আড্ডা। চলে নানা অপকর্ম। তেজগাঁও স্টেশন মসজিদ মাদ্রাসার পেছনের কোয়ার্টারেও একই অবস্থা। ড্রেনগুলোতে ময়লা পানি জমে আছে। দুর্গন্ধের পাশাপাশি বৃদ্ধি পাচ্ছে মশার উপদ্রব। কোয়াটারজুড়ে রয়েছে ময়লা-আবর্জনার স্তূপ। কলোনির রাস্তাগুলো ময়লা ও কাদামাটিতে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

তেজগাঁও থানার উপ-পরিদর্শক (তদন্ত) ওসি মোহাম্মদ সেন্টু মিয়া বলেন, কিছুদিন আগেও তেজগাঁও রেলওয়ে কলোনিতে মাদকবিরোধী অভিযান চালানো হয়েছে। মাদকের ব্যাপারে আমরা কঠোর অবস্থানে রয়েছি।

অবৈধ স্থাপনার ব্যাপারে তিনি বলেন, এগুলো রেলওয়ের ব্যাপার। তবে আমাদের কাছে সহযোগিতা চাইলে আমরা সব ধরনের সহযোগিতা দেব। বাংলাদেশ রেলওয়ের ঢাকা বিভাগীয় প্রকৌশলী-১ আবদুস সালামের কাছে অবৈধ ভাড়া বাণিজ্যের ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি এরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।

পরে ভাড়া বাণিজ্যের বিষয়টি অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, কিছু কিছু কর্মচারীর পরিবার বড়। তাই তারা কয়েকটি ঘর তুলতে পারে। তারপরও আমরা ভাড়া বাণিজ্যের বিষয়টি খতিয়ে দেখব। অবৈধ গ্যাস, পানি ও বিদ্যুৎ সংযোগের বিষয়টিও তিনি এরিয়ে যান।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter