শাহবাগ ফুল মার্কেট

দোকান বরাদ্দ পাননি ব্যবসায়ীরা

রাজস্ব হারাচ্ছে সিটি কর্পোরেশন

  বিল্লাল হোসেন ০৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ফুল ব্যবসায়ী

অনেক বছর অতিবাহিত হলেও এখনও ব্যবসা করার জন্য নির্দিষ্ট কোনো দোকান বা মার্কেট বরাদ্দ পাননি শাহবাগের ফুল ব্যবসায়ীরা। ফুটপাত আর খোলা জায়গায় বিভিন্ন মহলকে চাঁদা দিয়ে তারা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন।

মাঝেমধ্যে উচ্ছেদও করা হয়। তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, নির্দিষ্ট দোকান বরাদ্দের জন্য একাধিকবার আবেদন করেও তারা সাড়া পাননি। এ কারণে রাজস্ব হারাচ্ছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি)।

সরেজমিন দেখা যায়, ভোর ৪টা থেকে সকাল ৮টা পর্যন্ত শিশুপার্কের সামনের অংশ থেকে শাহবাগ ফুটওভারব্রিজের নিচ পর্যন্ত ফুলের বাজার বসে। বিভিন্ন ধরনের ফুল নিয়ে বসেন পাইকারি ফুল ব্যবসায়ীরা। ফুল ব্যবসায়ীদের বেশির ভাগ ঢাকার বাইরে থেকে আসেন।

পাইকারি ব্যবসায়ীরা সিটি কর্পোরেশনের নির্মাণাধীন ভবনের নিচে ২ থেকে আড়াই হাত জায়গায় দোকান নিয়ে বসেন। সাভার থেকে গোলাপ ফুল নিয়ে আসা হযরত আলী যুগান্তরকে বলেন, ১০ বছর ধরে এখানে ফুল বিক্রি করি। সব সময় রাস্তার ওপর দাঁড়িয়েই ফুল বিক্রি করতে হয়। বৃষ্টি এলে আশ্রয়ের জায়গা থাকে না।

সিজন ভালো থাকলে ফুলের ভালো দাম পাই। না হয় পানির দামে ফুল বিক্রি করতে হয়। গাদা ফুল আসে চুয়াডাঙ্গা, যশোর থেকে। ঝিনাইদহ থেকে আসে কদম ফুল। এ ছাড়াও গেলো ডিলাক্স, সাদা কালো ডিলাক্স, সাদা গোলাপ, কামানি পাতা, মালা, পান পাতা, ঘাষ ফুলসহ বিভিন্ন জেলা থেকে ফুল নিয়ে আসেন ব্যবসায়ীরা।

এ ফুলের মার্কেটের ফুটপাতে বসে প্রতিদিন ফুলের মালা বানিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন ১৫-২০ নারী। ফুল কিনতে আসা রাজিব হোসেন যুগান্তরকে বলেন, কোনো অনুষ্ঠানের ফুলের প্রয়োজন হলেই এখানে আসি। তবে এখানে বাজারের কোনো পরিবেশ নেই। জানা যায়, শাহবাগে পাইকারি দোকানের সংখ্যা ১২০টি।

১৯৯০ সালে এখানে ফুলের ব্যবসা শুরু হয়। ছড়িয়ে ছিটিয়ে সীমানা প্রচীর ছাড়া এসব দোকানের মাসিক ভাড়া গুনতে হয় ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা। বিভিন্ন জেলা থেকে আসা ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ময়লা পরিষ্কার বাবদ নেয়া হয় ৫০ টাকা। এছাড়াও ভেতরে রয়েছে অনেক ককসিটের ও সাজসজ্জার দোকান।

যা স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা ও পুলিশকে ম্যানেজ করে চলে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যবসায়ী বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে এ ভবনের নিচে ব্যবসা করে আসছি। সিটি কর্পোরেশন এ ভবনের কাজ শুরু করার পর মামলা হওয়ায় আর কাজ হয়নি। এখন এ ভবনের ওপর হোটেল আর রাজনৈতিক সংগঠনের অফিস।

এ ভবনটি যদি আমাদের মার্কেট হিসেবে বরাদ্দ দেয়া হতো তা হলে সরকার ও ফুল ব্যবসায়ীরা লাভবান হতো। এখন বিভিন্ন নেতারা এ মার্কেটের টাকা খাচ্ছেন। ঢাকা ফুল ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সভাপতি বাবুল প্রসাদ বলেন, এ বাজারটি আমরা স্থায়ী বরাদ্দ পাইনি।

সিটি কর্পোরেশনে আবেদন করেছি। পুনর্বাসনের আশ্বাসের কারণে এখনও এখানে আছি। স্থায়ী বরাদ্দ না হওয়ায় মাঝে মাঝে এখানে উচ্ছেদ অভিযানের মুখে পড়তে হয়। এ কারণে আমাদের অনেক সমস্যায় পড়তে হয়। মার্কেট করার জন্য এ বিল্ডিং করা হচ্ছিল।

কিন্তু পরিবেশ অধিদফতর মামলা করার কারণে কাজ বন্ধ হয়ে যায়। প্রত্যেক দোকান থেকে ভাড়া কারা নেয় প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ সমিতি সমবায় আইন অনুযায়ী পরিচালিত হয়। প্রতি বছর অডিটও হয়। মার্কেটের স্টাফদের খরচ বাদে বাকি টাকা বিভিন্ন কল্যাণ ও অনুষ্ঠানের কাজে ব্যয় করা হয়।

শাহবাগ বটতলা ক্ষুদ্র ফুল ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সভাপতি মো. সাদেকুর রহমান বলেন, সরকার বলছে বটতলার ভেতরের সাইডে আমাদের বসার ব্যবস্থা করে দেবে। আশা করি হবে। এখানের দোকান থেকে কারও নির্দিষ্ট কোনো ভাড়া নেই। শুধু পরিষ্কার বাবদ কিছু টাকা নেয়া হয়।

ডিএসসিসি ২০ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ফরিদ উদ্দিন আহমেদ রতন বলেন, আমি নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে এখানে একটি আধুনিক মার্কেট করার জন্য কয়েকবার কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়েছি।

কেননা, মার্কেটটি হলে সিটি কর্পোরেশন লাখ লাখ টাকা রাজস্ব পাবে। এখন এক টাকাও পাচ্ছে না। চাঁদাবাজদের পকেটে যাচ্ছে টাকা। এখন এখানে একটি আধুনিক মার্কেট করার প্রক্রিয়া চলছে। রাজনৈতিক অনেক চাপ থাকার পরেও আমি নিজে ৯ বার উচ্ছেদ অভিযান করেছি।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter