ইসলামিক ফাউন্ডেশনে দিবাযত্ন কেন্দ্র জরুরি

৩২ কর্মকর্তা-কর্মচারীর বাচ্চার বয়স পাঁচ বছরের নিচে * মহিলাবিষয়ক অধিদফতরে যোগাযোগ করে আশ্বাস ছাড়া কিছুই মেলেনি

  যুগান্তর রিপোর্ট ০৭ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

নগরীর আগারগাঁও ইসলামিক ফাউন্ডেশনে ডে-কেয়ার সেন্টার জরুরি হয়ে পড়েছে। এ প্রতিষ্ঠানের ৮০ থেকে ৮৫ জন কর্মজীবী মায়ের মধ্যে ৩২ জনের বাচ্চার বয়স পাঁচ বছরের নিচে।

দেড় বছর আগে মহিলাবিষয়ক অধিদফতরে আবেদন করা হলেও কাজের কোনো অগ্রগতি হচ্ছে না। তারা শুধু আশ্বাস দিয়ে যাচ্ছেন। এতে প্রতিনিয়ত ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে এ প্রতিষ্ঠানের কর্মজীবী মায়েদের।

সন্তানকে গৃহকর্মীর কাছে রেখেও চিন্তার শেষ নেই। বাচ্চা খেয়েছে তো? কোনো বিপদ হলো না তো? কর্মজীবী মা-বাবার এমন হাজারো চিন্তার সমাধান হতে পারে ডে-কেয়ার সেন্টার বা দিবাশিশু পরিচর্যা কেন্দ্র। আর সেই ডে-কেয়ার সেন্টার যদি থাকত নিজ কর্মস্থলে, তা হলে মায়েদের সন্তান লালন-পালনে কোনো চিন্তাই থাকত না।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কর্মজীবী মায়েদের মনোযোগ দিয়ে কাজ করার জন্য এখানে ডে-কেয়ার সেন্টার খুব জরুরি হয়ে পড়েছে।

ডে-কেয়ার সেন্টার নিয়ে দীর্ঘদিন কাজ করেছেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সহকারী জনসংযোগ কর্মকর্তা শায়লা শারমিন। কোন দফতরে কতজন কর্মজীবী মা ও তাদের বাচ্চাদের তালিকাও তৈরি করেছেন তিনি।

বহুবার মহিলাবিষয়ক অধিদফতরের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। গত বছর ২২ মে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক সামীম মোহাম্মদ আফজালের মাধ্যমে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন ইসলামিক ফাউন্ডেশনে একটি শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র স্থাপন বিষয়ে মহিলাবিষয়ক অধিদফতরের মহাপরিচালক বরাবর আবেদন করা হয়।

আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মহিলাবিষয়ক অধিদফতর থেকে ফোনে জানানো হয় আপনাদের একটি ডে-কেয়ার দেয়া হবে। কিন্তু এক বছর পার হলেও তা এখনও বাস্তবে রূপ নেয়নি।

নিজ কর্মস্থলে ডে-কেয়ার থাকলে কী সুবিধা সে বিষয়ে জানতে চাইলে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পরিকল্পনা কর্মকর্তা মোসা. হোমায়রা আখতার যুগান্তরকে বলেন, আমি মনে করি একজন মায়ের টেনশন ফ্রি কাজ করার জন্য নিজ প্রতিষ্ঠানে ডে-কেয়ারের বিকল্প কিছু হতে পারে না।

আমি কাজের ফাঁকে একটু সময় পেলে তাকে দেখে আসতে পারব। ব্রেস্টফিডিং করাতে পারব। বাসায় গৃহকর্মীর কাছে রাখলে এটা কখনই সম্ভব না। মাথার মধ্যে আলাদা চিন্তা ভাবনা থাকে বাচ্চার কোনো কিছু হল কিনা? ঠিক মতো খেল কিনা। নানা ধরনের টেনশন কাজ করে।

এ বিষয়ে কথা হয় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পরিকল্পনা বিভাগের (ডাটা এন্ট্রি অপারেটর) খন্দকার কাজরী ইয়াসমিনের সঙ্গে। তিনি বলেন, একজন মায়ের কাছে প্রিয় হলো তার সন্তান। এখন চাকরিও করতে হবে, সন্তানও লালন-পালন করতে হবে। এজন্য নিজের কর্মস্থলে যদি ডে-কেয়ার থাকত তাহলে আমাদের জন্য খুব ভালো হতো। মা হিসেবে তো সন্তানের প্রতি অনেক দায়িত্ব।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক সামীম মোহাম্মদ আফজাল যুগান্তরকে বলেন, আমাদের এখানে কর্মজীবী মায়েদের জন্য ডে-কেয়ার সেন্টার জরুরি হয়ে পড়েছে।

আমরা মহিলাবিষয়ক অধিদফতরের সঙ্গে যোগাযোগ করছি। ডে-কেয়ারের জন্য জায়গাও নির্ধারণ করা হয়েছে। এখন মন্ত্রণালয়ের অনুমতি পেলে যত দ্রুত সম্ভব বাস্তবায়ন করা হবে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ডে-কেয়ার সেন্টারের কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে মহিলাবিষয়ক অধিদফতরের উপ-পরিচালক (দিবাযত্ন) সৈয়দা মাসুদা ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, আমি অতিরিক্ত দায়িত্বে আছি।

এ বিষয়ে কিছু জানি না। তিনি এ প্রতিবেদককে সহকারী পরিচালক (দিবাযত্ন) নাসরীন সুলতানার কাছে যেতে

বলেন। তিনিই নাকি সব খবর জানেন। পরে সহকারী পরিচালকের কাছে গেলে তিনি বলেন, এ ব্যাপারে আমার কিছু জানা নেই। এমনকি তিনি মহাপরিচালকের অনুমতি ছাড়া কোনো মন্তব্য করতেও রাজি হননি।

 

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter