দিনের স্টেশন রাতে ভয়ঙ্কর

  গেণ্ডারিয়া প্রতিনিধি ০৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

সংস্কার

‘স্টেশনের সানসেটের সংস্কার প্রয়োজন। বৃষ্টি হলেই পানি পড়ে। আশপাশে নোংরা ও ময়লা-আবর্জনায় ভয়াবহ রকম দূষিত হয়ে পড়েছে স্টেশনের পরিবেশ’- বলছিলেন গেণ্ডারিয়া স্টেশন হয়ে নিয়মিত যাতায়াত করেন এমন কয়েকজন।

গেণ্ডারিয়ার স্থানীয় বাসিন্দা নাসির উদ্দিন বলেন, শেষ কবে স্টেশন এলাকায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে, আমাদের মনে নেই। আমরা তো অনেকদিন ধরেই এখানে বসবাস করছি।’

গেণ্ডারিয়া স্টেশনের ব্যাপারে যাত্রীদের বড় অভিযোগ হল- স্টেশন ঘিরে গড়ে ওঠেছে একাধিক বস্তি। ভাসমান অনেক পরিবারও বসবাস করছে তাঁবু ফেলে। এতে করে স্টেশন ঘিরে গড়ে ওঠেছে একাধিক সিন্ডিকেট। মাদক ও দেহব্যবসার স্বর্গরাজ্য বললেও ভুল হবে না গেণ্ডারিয়া স্টেশনের এই অংশকে।

সন্ধ্যা নামার আগেই বদলে যায় গেণ্ডারিয়া স্টেশনের চেহারা। সারাদিন হকারের আনাগোনা থাকলেও বিকেলে বিশেষ হকাররা এসে ভিড় জমায় স্টেশনে। অবৈধ যৌন উত্তেজক ওষুধ থেকে শুরু করে মাদক ও নারী সহজেই মিলছে গেণ্ডারিয়া স্টেশন এলাকায়।

বিষয়টি নিয়ে বিব্রত স্থানীয় অভিভাবকরাও। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন অভিভাবক বলেন, বড় ধরনের সিন্ডিকেটের দখলে গেণ্ডারিয়া স্টেশন। আমরা সাধারণ মানুষরা তাদের কাছে অসহায়। ছেলেপুলে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। খারাপ মেয়েদের পাল্লায় পড়ে, মাদকের আড্ডায় গিয়ে ঘর ভাঙছে অনেকেরই।

রহিমা নামে এক গৃহবধূ বলেন, একসময় আমার স্বামী খুব ভালো ছিল। কাজ-কর্মে মনযোগও ছিল তার। যেদিন থেকে মাদকের আড্ডায় জড়িয়ে পড়েছে, স্টেশনের খারাপ মেয়েদের সঙ্গে মেলা-মেশা শুরু করেছে, সেদিন থেকে আর কাজকর্মে-সংসারে মনোযোগ নেই। টাকা-পয়সার জন্য প্রায়ই আমাকে মারধর করে।

পুলিশের নাকের ডগায় স্টেশনের আশপাশে অপরাধের আখরা গড়ে ওঠা সত্ত্বেও পুলিশ কোনো ভূমিকা রাখছে না বলে অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী। মিজানুর রহমান নামে এক ভুক্তভোগী বলেন, কিছুদিন আগে রাত ১২টার দিকে স্টেশন হয়ে বাসায় ফিরছিলাম। কয়েজকন বস্তির ছেলে এসে অস্ত্র ঠেকিয়ে টাকা-পয়সা, মোবাইল সেট নিয়ে যায়। পুলিশ দেখেও না দেখার ভান করেছিল। এছাড়া দিনে দুপুরে এখানে মাদকের কেনাবেচা হয়, পুলিশ থাকে সাক্ষী গোপাল।

গেণ্ডারিয়া স্টেশন ঘিরে অপরাধচক্র সম্পর্কে শ্যামপুর থানার ওসি মো. মিজানুর রহমান বলেন, আমরা প্রায়ই অভিযান পরিচালনা করি। মাদক ক্রেতা-বিক্রেতাকে গ্রেফতার করছি। পুলিশের উপস্থিতি অপরাধ হচ্ছে- এমন অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে ওসি মিজানুর রহমান বলেন, এমন কোনো ঘটনা আমার জানা নেই। কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হলে আমার কাছে আসবেন। আমরা মামলা নেব। অভিযোগের আলোকে ব্যবস্থা নেব।

গেণ্ডারিয়া স্টেশনের সংস্কার ও বস্তি উচ্ছেদের ব্যাপারে কথা হয় স্টেশন মাস্টার রাজিব মোশারেফ হোসেনের সঙ্গে। তিনি যুগান্তরকে বলেন, স্টেশনের কিছু সমস্যা আছে। সমাধানের কাজ হাতে নেয়া হয়েছে। জুরাইনের কাজ শেষ হলেই গেণ্ডারিয়ায় উচ্ছেদ অভিযান শুরু হবে। আর অবকাঠামোগত সমস্যা এখন আর সমাধান হবে না। এখানে নতুন স্টেশনের কাজ শুরু হবে।

 

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter