রবীন্দ্রনাথ ও নজরুলের গানের দুই আসর

  সাংস্কৃতিক রিপোর্টার ০৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

অনুষ্ঠান

বাঙালির জীবনে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলাম সব সময় প্রাসঙ্গিক। তাই সারা বছরই এই দুই মহীরুহকে নিয়ে থাকে নানা আয়োজন।

রাজধানীতে ছুটির সন্ধ্যায় তেমনি দুটি আয়োজন ছিল। যাতে গানে গানে কবিগুরু আর জাতীয় কবির সৃষ্টিসুধায় মোহিত হয়েছেন দর্শকশ্রোতা।

গত বাইশে শ্রাবণ ছিল কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও বারোই ভাদ্র ছিল জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের প্রয়াণ দিবস। এ উপলক্ষে শুক্রবার জাতীয় জাদুঘরের প্রধান মিলনায়তনে রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী সংস্থার আয়োজনে রবীন্দ্রনাথ এবং ছায়ানট মিলনায়তনে ছায়ানটের উদ্যোগে নজরুলকে স্মরণ করা হয়। দুটো আয়োজনই ছিল সবার জন্য উন্মুক্ত।

‘অহংকার চূর্ণ করো/প্রেমে মন পূর্ণ করো’ প্রতিপাদ্যে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মরণ-সঙ্গীতানুষ্ঠানটি দুই দিনের। এই আয়োজন সাজানো হয়েছে রবীন্দ্রনাথের গীতবিতান থেকে নির্বাচিত পূজা, প্রেম, প্রকৃতি, স্বদেশ ও বিচিত্র পর্যায়ের শতাধিক গান দিয়ে। সংস্থার ৮০ জন শিল্পীর পাশাপাশি আমন্ত্রিত শিল্পীরাও এই স্মরণ-সঙ্গীতানুষ্ঠানে একক ও দ্বৈত পরিবেশনায় অংশ নিচ্ছেন।

প্রথম দিনের অনুষ্ঠানের সূচনা হয় সংস্থার শিল্পীদের কণ্ঠে ‘সকাতরে ওই কাঁদিছে সকলে, শোনো শোনো পিতা’ ও ‘আগুনের পরশমণি ছোঁয়াও প্রাণে’ পরপর দুটি কোরাসের মধ্য দিয়ে। এরপর ছিল একক গান। পরিবেশন করেন আসিফুল বারী, অনিন্দিতা রায়, সেমন্তি মঞ্জরী, লিটন চন্দ্র বৈদ্য, আজিজুর রহমান তুহিন, আবদুল ওয়াদুদ, আবদুর রশিদ, জয়ন্ত আচার্য্য, প্রমোদ দত্ত, মামুন জাহিদ খান, অনুশ্রী ভট্টাচার্য, বুলা মাহমুদ, ছায়া কর্মকার, আমিনা আহমেদ, মীরা মণ্ডল, সত্য চক্রবর্তী, অনুপম কুমার পাল, মৃদুল চক্রবর্তী, কাজল মুখোপাধ্যায়, তমাল চক্রবর্তী, দীপা চৌধুরী, ভুবন জোড়া, নুসরাত জাহান সাথী, প্রান্তিকা সরকার, রাইয়ান খালিদ স্যান্ড্রা, রিফাত জামাল মিতু, সর্ব্বানী চক্রবর্তী, শর্মিলা চক্রবর্তী, সুস্মিতা মণ্ডল, সুমাইয়া ফারাহ খান, তনুশ্রী দীপক, আশিকুর রহমান, তানজিনা তমা ও নাসরিন আক্তার।

সংস্থার সভাপতি তপন মাহমুদ বলেন, ‘রবীন্দ্রনাথ ভেতরে একজন সাধক, সহজ-সাধক। সহজ-সাধনার আর্তি, পরমতর জনের প্রেমের জন্য তার গভীর ব্যাকুলতা গানের ছন্দে, সুরে ও কথায় অপূর্ব রসমধুর হয়ে প্রকাশ পেয়েছে। আন্তরিক আকুলতায় কবিচিত্তের আনন্দ-বেদনা শতদলের মতো সহাস্য রাগে ফুটে উঠেছে সঙ্গীতের অফুরন্ত সুরের ঝরনাধারায়।’

আজ সমাপনী ও দ্বিতীয় দিনের অনুষ্ঠান শুরু হবে সন্ধ্যা ছয়টায়। এদিনও একই মঞ্চে গান পরিবেশন করবেন দেশের প্রবীণ-নবীন শিল্পীরা। শুক্রবার একই সময়ে নজরুলের গানের সুরেলা ধ্বনিতে মুগ্ধতা ছড়ায় ছায়ানট সংস্কৃতি ভবনে। ছায়ানটের শিল্পীরা নজরুলের ভাদর, প্রেম আর দেশের গান গাইলেন। প্রধান মিলনায়তনে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের প্রয়াণবার্ষিকী স্মরণে ছায়ানট এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

আয়োজনের শুরুতেই ছায়ানটের বড়দের দল গেয়ে শোনান ‘শুভ্র সমুজ্জ্বল হে চিরনির্মল’। তারা আরও গেয়ে শোনায় ‘দেশ গৌর-বিজয়ে দেবরাজ’ ও ‘মৃত্যু নাই, নাই দুঃখ’ গান দুটি।

একক কণ্ঠে তানভীর আহমেদ ‘ডাকতে তোমায় পারি যদি’, নাসিমা শাহীন ফ্যান্সি ‘ভাদরের ভরা নদীতে ভাসায়ে’, মনীষ সরকার ‘আমার ভবের অভাব লয়’, নুসরাত জাহান রুনা ‘শিউলী ফুলের মালা দোলে’, রেজাউল করিম ‘মেঘের ডমরু ঘন বাজে’, নাহিয়ান দুরদানা শুচি ‘জয় ব্রক্ষবিদ্যা শিব-সরস্বতী’, প্রিয়ন্তু দেব ‘কেমনে রাখি আঁখি-বারি’, ফারহানা আক্তার শ্যার্লি ‘আয় মরু পারের হাওয়া’, জান্নাত-ই-ফেরদৌসী লাকী ‘ওরে নীল যমুনার জল’, সৈয়দা সনজিদা জোহরা বীথিকা ‘রস-ঘনশ্যাম-কল্যাণ সুন্দর’, শ্রাবন্তী ধর ‘তুমি যতই দহনা দুখের’, সুমন মজুমদার ‘মাগো চিন্ময়ী রূপ ধরে আয়’। এছাড়া নজরুলের কবিতা আবৃত্তি করেন কৃষ্টি হেফাজ, রফিকুল ইসলাম।

সবশেষে মঞ্চে আসে ছায়ানটের ছোটদের দল। কোমল কণ্ঠে তারা গেয়ে শোনায় ‘সবুজ শোভার ঢেউ খেলে যায়’ ও ‘স্নিগ্ধ শ্যাম-বেণী-বর্ণা এসো’ গান দুটি। সর্বশেষে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে শেষ ছায়ানটের এ আয়োজন।

 

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter