‘সিক্কাটুলী শিশু পার্ক’

দ্রুত সংস্কার চান এলাকাবাসী

  খোরশেদ আলম শিকদার ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

সিক্কাটুলী শিশু পার্ক

বংশালের ‘সিক্কাটুলী শিশু পার্ক’ দ্রুত সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার কাজ চলায় এ পার্ক ব্যবহার করা যাচ্ছে না। নগরীর সিক্কাটুলী লেনে অবস্থিত এ পার্ক।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র সাঈদ খোকন সিটি কর্পোরেশনের পার্কগুলো সংস্কার করে আধুনিকভাবে সাজানোর উদ্যোগ নিয়েছেন। এ প্রকল্পের নাম দেয়া হয়েছে জল সবুজে ঢাকা। জল সবুজে ঢাকা প্রকল্পের আওতায় ‘সিক্কাটুলী শিশু পার্ক’র সংস্কার কাজ চলছে। পার্কে থাকছে ওয়াকওয়ে, সবুজ ঘাসের উঁচু স্তর, মার্বেল পাথর দিয়ে বসার সিট, কোলেন্ড লাইটিং, কফিশপ, পাবলিক টয়লেট, ভাস্কর্য, ঢেঁকি খেলনা, স্লিপার খেলনা, শিশুদের খেলার জোনসহ বিভিন্ন আইটেম।

২০১৭ সালের ১০ সেপ্টেম্বর কাজের ওয়ার্ক অর্ডার দিয়ে শেষ করার জন্য ২০১৮ সালের ২০ জুন সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে ডিএসসিসি। পরে এ সময় ২০১৯ সালের জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয়। এ পার্ক সংস্কার কাজের জন্য বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ২ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। এর দায়িত্ব পেয়েছে রিদি কনস্ট্রাকশন।

‘সিক্কাটুলী শিশু পার্ক’র জায়গায় আগে ময়লার টেক ছিল, খাল ছিল, জল্লার পাড় ছিল, ড্রেন ছিল। ময়লার টেকে দাঁড়িয়ে শিশু-কিশোররা ঘুড়ি উড়াত। পরে আশির দশকে সাবেক মেয়র মোহাম্মদ হানিফের শ্বশুর বর্তমান মেয়র সাঈদ খোকনের নানা নাজিরাবাজার এলাকার বাসিন্দা মাজেদ সর্দারের উদ্যোগে পার্কটি সংস্কার করা হয়। শিশুদের খেলনা, বসার সিট স্থাপন করা হয়। তিনি পার্কের ভেতর নানা প্রজাতির গাছ লাগান।

পার্কের নামকরণ নিয়ে এলাকায় রয়েছে দলাদলি। যখন যে সরকার আসে তখন সে সরকারের লোকজনের নামে পার্কের নামকরণ করার অভিযোগ রয়েছে। আগে পার্কের নাম দেয়া হয়েছিল সিক্কাটুলী শিশু পার্ক, মোহন পার্ক, খালেক সর্দার পার্ক ও ইলিয়াছ পার্ক। বর্তমানে কেউ সিক্কাটুলী পার্ক, কেউ বলছে সিক্কাটুলী শিশু পার্ক আবার কেউ বলছে খালেক সর্দার শিশু পার্ক নাম দিতে। এ নিয়ে ডিএসসিসি মেয়য় বরাবর আবেদনও করা হয়েছে।

গেল বছরের সেপ্টেম্বরে শুরুর পর ফের সেপ্টেম্বরেও কাজ চলছে। ১০ মাসে কাজ শেষ করার কথা থাকলেও এক বছরেও পার্কটির কাজ শেষ করতে পারেননি ঠিকাদার। ধীরগতির কাজের কারণে এলাকাবাসীর মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

বংশাল এলাকার বাসিন্দা তারেক হোসেন যুগান্তরকে বলেন, পার্ক ঘেঁষেই রয়েছে মাজেদ সর্দার বা কাজী আলাউদ্দিন রোড। এর পাশে রয়েছে সিক্কাটুলী পুকুর পাড় বা পচা পুকুর। এর একটু পশ্চিম পাশেই রয়েছে ‘বাংলাদেশ মাঠ’। ৩ থেকে ৪শ’ গজ দক্ষিণে রয়েছে বংশাল পার্ক বা বংশাল ত্রিকোণাকৃতি পার্ক।

পার্কের পাশের সিমেন্ট ব্যবসায়ী ও সিক্কাটুলী এলাকার বাসিন্দা মো. রুবেল যুগান্তরকে বলেন, আমার বয়স বর্তমানে ৪৫ বছর। ছোটবেলায় ময়লার টেকে দাঁড়িয়ে আমরা ঘুড়ি উড়াতাম। এলাকার দানশীল ও প্রভাবশালী ব্যক্তি মাজেদ সর্দারের উদ্যোগে আশির দশকে এ জায়গায় মাটি ভরাট করে পার্কের কার্যক্রম শুরু করা হয়।

সিক্কাটুলী ও বংশাল এলাকার একাধিক বাসিন্দা যুগান্তরকে বলেন, পার্কটির কাজ ধীরগতিতে চলছে। তারা দ্রুত পার্কটি সংস্কার করার দাবি জানান।

ডিএসসিসির ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মো. আউয়াল হোসেন যুগান্তরকে বলেন, পার্কটির নামকরণ নিয়ে রয়েছে মতানৈক্য। এলাকার কেউ চাচ্ছে সিক্কাটুলী পার্ক, আবার কেউ সিক্কাটুলী শিশু পার্ক। আগে মোহন পার্ক ও ইলিয়াছ পার্ক নামে নামকরণ করা হয়। যখন যারা ক্ষমতায় তখন তারা নাম দেয়। বর্তমানে পার্কের ভেতর শিশুদের খেলনা, ওয়াকওয়ে, পাবলিক টয়লেট, কফি হাউস, বসার সিট, পানির ফোয়ারাসহ আধুনিকভাবে সাজানো হচ্ছে।

ডিএসসিসি অঞ্চল-৪ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাইফুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, সিক্কাটুলী পার্কের কাজ প্রায় ৭০ ভাগ শেষ হয়েছে। পার্কে আধুনিক সামগ্রী বসানো হবে। যা দেশের বাইরে থেকে আনা হবে। সে জন্য একটু বিলম্ব হচ্ছে। শিগগির কাজ শেষ করে বাসিন্দাদের ব্যবহারের উপযোগী করে দেয়া হবে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter