বুড়িগঙ্গার ওয়াকওয়েতে বাইক চলে

  আল ফাতাহ মামুন ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বুড়িগঙ্গা

ঢাকার ঐতিহ্যবাহী নদী বুড়িগঙ্গার তীরঘেঁষে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে শ্যামপুর পর্যন্ত নির্মিতি ওয়াকওয়ে ব্যবহার হচ্ছে যথেচ্ছভাবে।

নাম যদিও ওয়াকওয়ে অর্থাৎ হাঁটার পথ, কিন্তু বাইসাইকেল ও মোটরবাইক নিয়ে অনায়াসেই ঢুকে পড়ছেন কেউ কেউ। এতে পথচারীদের পড়তে হচ্ছে মহাভোগান্তিতে।

বাইক নিয়ে ওয়াকওয়ে ক্রস করার সময় কথা হয় আরিফুল ইসলামের সঙ্গে। এটা তো বাইকের পথ নয়, তারপরও কেন বাইক নিয়ে যাচ্ছেন- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সবসময় তো এ পথেই যাই।

এ পাশ দিয়ে গেলে জ্যামের যন্ত্রণা হয় না। আরেক বাইক আরোহী মোজাম্মেল হোসেন বলেন, আমরা জানি এটা ওয়াকওয়ে। এ পথে বাইক চালানো অন্যায়। কিন্তু আমাদের কেউ নিষেধ করছে না। তাই বোধহয় আমরা সাহস পেয়ে যাচ্ছি।

রাসেল আহমেদ নামে এক পথচারী যুগান্তরকে বলেন, এটা হাঁটার রাস্তা। কিন্তু অনেকেই এ পথে বাইক ও সাইকেল নিয়ে ঢুকে পড়ছে। তখন পথচারীদের চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। শারমীন আক্তার সাথী নামে অন্য এক পথচারী বলেন, এখানে ট্রাফিকও নেই যে, বাইক কিংবা সাইকেল আটকে দেবে। তাই অনিয়ম একটু বেশিই হচ্ছে। যথেচ্ছভাবে বাইক প্রবেশের কারণে দুর্ঘটনাও ঘটছে।

সরেজমিন দেখা গেছে, ওয়াকওয়ের পরিবেশ ভয়াবহ ধরনের নোংরা। শ্যামপুরের প্রবেশপথ থেকে ফতুল্লা পর্যন্ত পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নেই বললেই চলে। কোথাও ভেঙে পড়েছে, আবার কোথাও ফাটল দেখা দিয়েছে রাস্তায়। কোথাও বা রেলিং ভেঙে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে ওয়াকওয়ে। পথচারী মোস্তফা আহমেদ বলেন, আমরা না হয় দেখে চললাম। কিন্তু শিশু ও বৃদ্ধদের জন্য তো এ পথ খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। একটু পরেই দেখা গেল একদল স্থানীয় শিশু হেঁটে যাচ্ছে ওয়াকওয়ে ধরে। মোস্তফা আহমেদ বললেন, যে কোনো মুহূর্তেই দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। ওয়াকওয়ে এভাবে অরক্ষিত রাখার কোনো যুক্তি নেই।

নোংরা পরিবেশ সম্পর্কে আরেক পথচারী নোমান আহমেদ বলেন, ওয়াকওয়ের জন্য আলাদা কোনো পরিচ্ছন্নতাকর্মী নেই। তার ওপর ওয়াকওয়ে ঘেঁষে যে বাড়িগুলোতে যারা বসবাস করে, অনেক সময় তারাও নোংরা করে। এরা ওয়েকওয়েকে নিজেদের অংশই মনে করে। ঘরোয়াভাবে নিজেদের প্রয়োজনে ব্যবহার করে ওয়াকওয়ে। কিন্তু ব্যবহারের পর আর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার ধার ধারে না।

রাজধানীর ঐতিহ্যবাহী নদী বুড়িগঙ্গার প্রাণ ফিরিয়ে আনতে দুই হাজার কোটি টাকার এক প্রকল্পের অংশ হিসেবে ২০১৬ সালে নির্মাণ করা হয় ওয়াকওয়ে। এরপর থেকে আর সংস্কার হয়নি।

ওয়াকওয়ের সংস্কার ও অন্যান্য বিষয় নিয়ে কথা হয় বিআইডব্লিউটিএর সহকারী প্রকৌশলী মতিউর রহমানের সঙ্গে। বাইক ও সাইকেল প্রবেশের বিষয়ে তিনি বলেন, আসলে এটা ব্যবহারকারীদেরই দায়িত্ব। আমি জানি, এটা হাঁটার পথ।

তার পরও কেন এ পথে গাড়ি ঢোকাব? আমাদের এত জনবল নেই যে, এসব বিষয় তদারকি করতে পারি। একইভাবে, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কথাও আসে। জনবলের সংকটের কারণে আমরা পরিচ্ছন্ন অভিযান করতে পারছি না। আমি নিজে দেখেছি, ওয়াকওয়ের অনেক জায়গায় ভেঙে গেছে, ফাটল ধরেছে।

বাজেট হয়েছে, শিগগির আমরা এ বিষয়ে কাজ শুরু করব। ভাঙা মেরামত করব। পরিচ্ছন্ন অভিযান করব। মতিউর রহমান আরও বলেন, চাইলেই আমরা অনেক কিছু করতে পারি না। এ ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রভাবশালীরা এগিয়ে এলে সহজ হয়। ওয়াকওয়ে দখল ছিল দীর্ঘদিন।

এ বছরের মে মাসের শেষের দিকে আমরা উচ্ছেদ অভিযান করে দখলমুক্ত করি। এখন আবার দখলের পাঁয়তারা চলছে। সার্বক্ষণিক তদারকি করা তো কারও পক্ষেই সম্ভব নয়।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter