রাজউকের মাঠ নিয়ে বাণিজ্য

উত্তরায় বঞ্চিত হচ্ছে দরিদ্র শিশু-কিশোররা

প্রকাশ : ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  রফিকুল ইসলাম

উত্তরা ৩নং সেক্টরে অবস্থিত রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) খেলার মাঠ নিয়ে বাণিজ্য করছে একটি মহল। তারা নির্ধারিত টাকার বিনিময়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে বিভিন্ন সময় মাঠ ভাড়া দিয়ে থাকে।

এ কারণে এলাকার সাধারণ শিশুরা এ মাঠে খেলা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। টাকা দিয়েও নানা নিয়ম-কানুন পালন করে পরে মাঠে খেলতে হয়। বছরের বেশির ভাগ সময় এ মাঠে বিভিন্ন ক্লাবের লিগ, গার্মেন্ট ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বাৎসরিক খেলা, বৈশাখী মেলাসহ বিভিন্ন অজুহাতে মাঠ ভাড়া দেয়া হয়।

৩নং সেক্টরের বাসিন্দা শিক্ষক আমিনুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, তিনি দীর্ঘদিন এ মাঠে ছুটির দিনগুলোতে ছাত্রদের নিয়ে খেলতে আসতেন। কিন্তু কয়েক বছর ধরে টাকা না দিলে খেলা যাবে না, এ রকম নিয়মের কারণে শিশুদের নিয়ে আর খেলতে আসতে পারেন না।

সরেজমিন ৩নং সেক্টর খেলার মাঠে গেলে সাদা পোশাক পরা অর্ধশতাধিক কিশোরকে খেলতে দেখা যায়। তাদের দায়িত্বে থাকা বেলাল হোসেন যুগান্তরকে বলেন, এরা সবাই ফ্রেন্ডস ক্লাবের তালিকাভুক্ত খেলোয়াড়। তিনি বলেন, দুই হাজার টাকা দিয়ে ভর্তি হতে হয়। মাসিক ১৫শ’ টাকা প্রদান করতে হয়।

পোশাক ও আইডি কার্ডের জন্য এককালীন ১৫শ’ টাকা দিতে হয়। প্রতি শনি, রবি, মঙ্গল ও বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে ৩টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত শুধু ভর্তি খেলোয়াররা এখানে খেলতে পারে।

মাঠের পাশেই রোডের ফুটপাতের ওপর খেলতে থাকা রবিন নামে এক শিশু যুগান্তরকে বলে, আংকেল এটা তো বড় লোকের মাঠ। আমরা তো গরিব মানুষের সন্তান, তাই এ মাঠে খেলতে দেয়া হয় না। রবিন জানায়, এ মাঠে ঢুকলে মাঠের দায়িত্বে থাকা লোকজন তাদের ধমক দিয়ে বের করে দেয়। তাই তারা রাস্তায় ও ফুটপাতে খেলাধুলা করে।

জানতে চাইলে মাঠের একাংশে গড়ে ওঠা উত্তরা ফ্রেন্ডস ক্লাবের এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে যুগান্তরকে বলেন, বাইরের কেউ মাঠ ব্যবহার করতে চাইলে ফ্রেন্ডস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক বরাবর আবেদন করতে হবে।

তিনি অনুমতি দিলে রক্ষণাবেক্ষণ খরচ বাবদ ধার্য কিছু ফি পরিশোধ করে খেলাধুলা করা যায়। জানতে চাইলে ৩নং সেক্টর কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক ড. আনোয়ার হোসেন যুগান্তরকে বলেন, ওই মাঠের মালিক রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)। পাঁচ বছর পর পর তারা ওই মাঠ রক্ষণাবেক্ষণের জন্য কল্যাণ সমিতিকে দায়িত্ব দেয়।

এ ব্যাপারে একটি চুক্তি হয়। তিনি আরও বলেন, ২০১২ থেকে ২০১৭ সালের নভেম্বর পর্যন্ত চলমান চুক্তির মেয়াদ ছিল। পুনরায় চুক্তির জন্য আবেদন করা হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত রিনিউ হয়নি। অন্য কাউকে রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে কি না তার জানা নেই।

জানতে চাইলে রাজউক উত্তরার দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী প্রকৌশলী খন্দকার ওয়াহিদ সাদিক শুভ যুগান্তরকে বলেন, ৩নং সেক্টর খেলার মাঠটি রাজউকের মালিকানাধীন। শুধু রক্ষণাবেক্ষণের জন্য কল্যাণ সমিতি বা অন্য কারও সঙ্গে চুক্তি করা হয়।