অবৈধভাবে চলছে ন্যাশনাল হেলথ কেয়ার হাসপাতাল

দালালের মাধ্যমে আনা হয় রোগী * আবাসিক এলাকায় কার্যক্রম

  যুগান্তর রিপোর্ট ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

হাসপাতাল

মোহাম্মদপুরের ২২/১৪-বি খিলজী রোডে আবাসিক এলাকার মধ্যে চলছে ন্যাশনাল হেলথ কেয়ার জেনারেল হাসপাতালের কার্যক্রম। অভিযোগ রয়েছে এ হাসপাতালের লাইসেন্স নেই।

এছাড়া চুরি করে বাচ্চা বিক্রয়, ভুয়া ডাক্তার দিয়ে অপারেশন ও চাপের কারণে রোগীর আত্মহত্যাসহ আরও অনেক অভিযোগ রয়েছে। হাসপাতালের মালিক নূরনবী মাঝেমধ্যেই ডাক্তার না থাকলে হয়ে যান বড় ডাক্তার। হাসপাতালের ম্যানেজার মো. আকরাম হোসেন পরিচয় দেন একজন প্রফেসর হিসেবে।

মো. নূরনবী ছাড়াও এ হাসপাতালের মালিকানায় রয়েছে তার স্ত্রী ডা. মাছুমা পারভীন, ভাগিনা মহিউদ্দিন ও রহমতউল্লাহ। এত অপকর্ম করেও তারা বহাল তবিয়তে ব্যবসা করছে। আগে এ হাসপাতালের নাম ছিল বেবী কেয়ার হাসপাতাল। চুরি করে বাচ্চা বিক্রির অভিযোগে মামলা হওয়ার পর সেটি বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তীতে হাসপাতালের নাম পরিবর্তন করে দেয়া হয় ন্যাশনাল হেলথ কেয়ার জেনারেল হাসপাতাল।

মহিউদ্দিন ও রহমতউল্লাহ ইসলামিক মানসিক হাসপাতালের কার্যক্রম চালাতেন একই ভবনের ৫ম তলায়। সেখানে একজন রোগী আত্মহত্যা করায় মাস চারেক হল বন্ধ হয়ে যায় সেটি। নূরনবী ও তার স্ত্রী ডা. মাসুমা পারভীন মিলে ক্রিসেন্ট হাসপাতাল পরিচালনা করতেন।

মাস ছয়েক আগে ভুয়া ডাক্তার দিয়ে অপারেশন, অতিরিক্ত বিল আদায়, দালালের মাধ্যমে রোগী আনার অভিযোগে এ হাসপাতাল সিলগালা করে দেয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, ন্যাশনাল হেলথ কেয়ার জেনারেল হাসপাতালে ক্রিসেন্ট হাসপাতালের কার্যক্রমও গোপনে পরিচালনা করা হচ্ছে।

ন্যাশনাল হেলথ কেয়ার হাসপাতালে মূলত দালাল চক্রের মাধ্যমে রোগী ভর্তি করা হয়। ন্যাশনাল হেলথ কেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা এক ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, খেলতে গিয়ে তার পায়ের একটি লিগামেন্ট ছিঁড়ে যায়। তারপর বেশ কিছু দিন ব্যথার ওষুধ খেয়ে ভাল হওয়ার কথা ছিল।

কিন্তু এমআরআই করার পর ধরা পড়ে তার পায়ে রগ ছিঁড়ে গেছে। তারপর ঝিনাইদহ থেকে ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে আসেন।

সেখান থেকে ওয়ার্ড বয় ইমদাদুল হকের মাধ্যমে এখানে ভর্তি করা হয়। মালিক নূরনবী জানান, আমি ক্রিসেন্ট হাসপাতালের কোনো কাজ এখানে করি না। আমাদের সব কাগজপত্র ঠিক আছে।

দালালদের মাধ্যমে রোগীও ভর্তি করি না। কাগজপত্র দেখতে চাইলে তিনি এ প্রতিবেদককে বলেন, আপনাকে কেন কাগজ দেখাব। আমার সব কাগজ ঠিক আছে। আপনি যা লেখার লেখেন তাতে আমাদের কিছুই হবে না।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter