বিপর্যয়ের মুখে হাতিরঝিল

ভাসছে ময়লা-আবর্জনা * পানির রং কালচে হয়ে গেছে * চারদিকে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে

  মো. আরমান ভূঁইয়া ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

হাতিরঝিল

দৃষ্টিনন্দন হাতিরঝিলের পরিবেশ এখন বিপর্যয়ের মুখে। ঝিলের পানিতে ভাসছে ময়লা-আবর্জনা। পানির রং কালচে আকার ধারণ করে ছড়াচ্ছে পচা দুর্গন্ধ। কিছুদিন বৃষ্টিপাত কম হওয়ায় কমেছে লেকের পানি।

সেজন্য বেড়েছে ভাসমান ময়লা-আবর্জনা। এমনকি জমাট পানিতে কচুরিপানাও সৃষ্টি হয়েছে। নেই পরিচ্ছন্ন পরিবেশ। এতে দর্শনার্থী ও পথচারীরা নাকে রুমাল চেপে চলাচল করেন। পাশাপাশি আশপাশের এলাকাগুলোতেও ছড়িয়ে পড়ছে দুর্গন্ধ।

ঝিলের আশপাশ থেকে প্রতিনিয়ত লেকে ময়লা ফেলা হচ্ছে। এমনকি হাতিরঝিলে বেড়াতে আসা কিছু অসচেতন দর্শনার্থী ও পথচারী হরহামেশাই ঝিলের ময়লা-আবর্জনা ফেলে পানি দূষিত করছে। দর্শনার্থী ও এলাকাবাসী অভিযোগ করে বলেন, দীর্ঘদিন ঝিলে পানি আটকে থাকায় ক্রমেই পানির রং কালো হয়ে পড়ছে।

ওয়াটার ট্যাক্সিতে চড়ে এফডিসি ঘাট থেকে গুদারাঘাটে আসা যাত্রীদের একজন আকবর আলী। তিনি বলেন, যানজট ও ঝামেলা এড়াতে ওয়াটার ট্যাক্সিতে চলাচল করি। দুর্গন্ধের কারণে যাতায়াতে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। এ কারণে অনেক মানুষ হাতিরঝিলে আসেন না।

চাকরিজীবী আফসানা মিমি বলেন, দুর্গন্ধের কারণে ওয়াটার ট্যাক্সিতে যাতায়াতকারীদের অসুবিধা হচ্ছে। পানিতে বিভিন্ন ধরনের ময়লা ভাসতে দেখা যায়। দুর্গন্ধের কারণে ওয়াটার ট্যাক্সিতে যাতায়াতে আগ্রহ হারাচ্ছেন অনেকে।

ঢাকার বাইরেরও অনেক মানুষ হাতিরঝিলের সৌন্দর্য একনজর দেখতে ছুটে আসেন। আর সকাল-সন্ধ্যা নিয়মিত শরীরচর্চা করতে আসেন বহু মানুষ। অথচ রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে শহরের কোলাহলের

মাঝে স্বস্তির নিঃশ্বাস নিতে গড়ে ওঠা বিনোদন কেন্দ্র হাতিরঝিলের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। গুলশান লেক, কারওয়ান বাজার ও বেগুনবাড়ি দিয়ে হাতিরঝিলের পানিতে প্রতিনিয়ত ময়লা-আবর্জনা ঢুকছে। দর্শনার্থী ও পথচারীরাও ঝিলের পানিতে ময়লা-আবর্জনা ফেলে দূষিত করছেন। এ দূষিত পানির ওপর দিয়ে প্রতিদিন চলাচল করেছে ওয়াটার ট্যাক্সি। এ থেকে সৃষ্ট ঢেউয়ের কারণে আশপাশে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ায় নাকাল দর্শনার্থী-পথচারীরা। আশপাশের বাসিন্দারাও অনেক সমস্যায় পড়ছেন। আশপাশের বাসাবাড়ির গৃহস্থালি ময়লা-আবর্জনা লেকে ফেলা হচ্ছে। এমনকি অনেক দর্শনার্থীও বিভিন্ন খাবারের প্যাকেট চানাচুর ও চিপসের প্যাকেট লেকের পানিতে ফেলে। হাতিরঝিলের চারপাশে গড়ে ওঠা দোকানের ময়লা-আবর্জনাও ফেলা হচ্ছে।

জানা গেছে, ঝিলের সঙ্গে মহাখালী, মগবাজার, মধুবাগ, বেগুনবাড়ী, নিকেতন, তেজগাঁও, বাড্ডা ও রামপুরায় এলাকায় বেশ কয়েকটি ড্রেনেজ সংযোগ আছে। যেগুলো দিয়ে আশপাশের এলাকার বৃষ্টির পানিসহ ময়লা পানি, পয়োবর্জ্য এসে পড়ছে হাতিরঝিলে। পথচারী ও দর্শনার্থীরা বলছেন, বুকভরে নিশ্বাস নিতে তারা হাতিরঝিলে ঘুরতে আসেন। কিন্তু ঝিলের পানির পচা গন্ধে তারা অতিষ্ঠ।

এ বিষয়ে হাতিরঝিল প্রকল্প কর্মকর্তা মেজর সাদিক শাহরিয়ার বলেন, হাতিরঝিলের পানি দুর্গন্ধ ও দূষণমুক্ত করতে একটি পরিকল্পনা হাতে নেয়া হয়েছে। প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৪৯ কোটি টাকা। তিনি বলেন, ইতিমধ্যে পানি পরিশুদ্ধকরণে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়েছে। দ্রুত এ কাজ শুরু হবে বলে জানান তিনি।

 

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter