তেজগাঁও ট্রাকস্ট্যান্ড এলাকা

বন্ধ হচ্ছে না সড়কে পার্কিং

  তেজগাঁও প্রতিনিধি ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ট্রাকস্ট্যান্ড

তেজগাঁও ট্রাকস্ট্যান্ড সংলগ্ন সড়কগুলোতে ট্রাক, কাভার্ডভ্যান ও পিকআপ রাখা বন্ধ হচ্ছে না। বিশেষ করে রাতে এ অবস্থা আরও ভয়াবহ হয়। এতে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে চলাচলকারীদের।

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) ও ট্রাফিক পুলিশ বিভাগ শত চেষ্টা করেও এসব সড়ক পার্কিংমুক্ত করতে পারছে না। ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান মালিক-শ্রমিকরা বলছেন, প্রয়োজনের তুলনায় স্ট্যান্ডে জায়গা সংকট। তাই তারা বাধ্য হয়ে শুধু রাতে রাস্তায় গাড়ি পার্কিং করে রাখছেন।

বাংলাদেশ ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান মালিক সমিতির হিসাবে তেজগাঁও এলাকায় কমপক্ষে সাত হাজার ট্রাক, কাভার্ডভ্যান ও পিকআপ চলাচল করে। কিন্তু তেজগাঁও স্ট্যান্ডে দেড় হাজারের মতো গাড়ি রাখার জায়গা রয়েছে।

ডিএনসিসি প্রচেষ্টায় ২০১৫ সালের ১০ ডিসেম্বর তেজগাঁওয়ে সড়কের ওপর থেকে ট্রাকস্ট্যান্ড উচ্ছেদ করে ‘পার্কিংমুক্ত’ ঘোষণা করা হয়। এরপর শ্রমিকরা সড়কের ওপর থেকে ট্রাক সরিয়ে ভেতরের টার্মিনালে রাখতে শুরু করে। নগরবাসীও স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে। তবে কোনোভাবেই ঠেকানো যাচ্ছে না সড়কের ওপর এসব গাড়ি পার্কিং।

সরেজমিন দেখা যায়, তেজগাঁও ট্রাকস্ট্যান্ড মূল সড়কের পাশাপাশি সাতরাস্তা সংলগ্ন পাশের সড়কগুলোতে ট্রাক, কাভার্ডভ্যান ও পিকআপ রাখা হয়েছে। সড়কের দুই পাশে কোথাও এক লাইন, কোথাও দুই লাইনে করে ট্রাক পার্কিং করে রাখা হয়েছে।

তেজগাঁও রেলক্রসিং থেকে সাতরাস্তা এসেনশিয়াল ড্রাগস লিমিটেডের (ইডিসিএল) মূল গেট পর্যন্তও একই অবস্থা। সড়কের ডান পাশেও পার্কিং করে রাখা হয়েছে। এ কারণে পাশে বাংলাদেশ জরিপ অধিদফতর পর্যন্ত সৃষ্টি হয় যানজট। সিএসডি গুদামের ২ নম্বর গেট, সিএসডি ভাঙা গেট মোড় হয়ে পুরনো এফডিসি সড়কের পুরোটাই এখন ট্রাকের দখলে।

মাঝে যে জায়গা আছে তাতে একটি গাড়ি বা রিকশা কোনোমতে চলতে পারে। তবে দুটি বাহন একসঙ্গে গেলে জটলা বেঁধে যায়। সাতরাস্তা মোড় থেকে ডিপিকা মোড় ও হাতিরঝিল লিংক রোড সড়কেও রাতে রাখা হচ্ছে ট্রাক ও পিকআপ।

পিকআপ চালক মো. জসিম উদ্দিন বলেন, ট্রাকস্ট্যান্ডে খুব অল্প গাড়ি রাখা যায়। তাই রাতে রাস্তায় রাখি। তবে এখন দিনে রাস্তায় গাড়ি থাকলে পুলিশ রেকার দিয়ে দেয়। দিনে আমরা গাড়ি রাখি না। আরও কয়েকজন চালক বলেন, আমাদের স্ট্যান্ডে কোনো জায়গা নেই। এ জন্য শুধু রাতে ট্রাক রাখা হচ্ছে। যে গাড়িগুলো রাখা হচ্ছে, সেগুলো ভোর হলেই চলে যায়।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির কার্যকরী সভাপতি ও বাংলাদেশ ট্রাক-কাভার্ডভ্যান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. রুস্তম আলী খান যুগান্তরকে বলেন, এখনও রাতের বেলায় গাড়ি রাখা আমরা বন্ধ করতে পারছি না। রাত ১০টা থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত রাখা হচ্ছে। কেননা, রাতে এই গাড়িগুলো লোড-আনলোড করে।

সরকারের নিয়ম অনুযায়ী রাতে এ ট্রাক কাভার্ডভ্যানগুলো চলাচল করতে পারে। তাই আমরা রাতে বন্ধ করতে পারি না। প্রতিদিন হাজার হাজার ট্রাক তেজগাঁওয়ের আশপাশে ঢোকে। অথচ এসব গাড়ি রাখার জন্য তেমন জায়গা নেই। তিনি আরও বলেন, মেয়র আনিসুল হক আমাদের ভেতরে জায়গা করে দিয়েছেন।

তবে প্রয়োজনের তুলনায় তা খুবই কম। তাই মেয়র মহোদয়ের ট্রাক ও কাভার্ডভ্যানের একটি বড় স্ট্যান্ড করে দেয়ার কথা ছিল। অথচ আজও তা বাস্তবায়ন করা হয়নি। ডিএনসিসির প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা মো. আমিনুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, তেজগাঁও ট্রাকস্ট্যান্ড, সাতরাস্তা ও সংলগ্ন সড়কগুলোতে যাতে কোনো গাড়ি পার্কিং না করা হয়।

সে বিষয়ে প্যানেল মেয়র ট্রাফিক বিভাগে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি বলেন, আমিনবাজারে আমাদের একটি ট্রাক টার্মিনাল রয়েছে। সেটি ব্যবহার করা হবে। আরেকটি জায়গা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। তবে সে প্রকল্পটি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter