আহমদ রফিকের ৯০তম জন্মদিন উদযাপন

‘প্রত্যেকের সামাজিক দায় থেকে কাজ করতে হবে’

  সাংস্কৃতিক রিপোর্টার ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

জন্মদিন

‘ভাষা সংগ্রামের পথ ধরে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের মধ্যদিয়ে আমাদের রাজনৈতিক মুক্তি এসেছে। কিন্তু আজও আমাদের সমাজের কাক্সিক্ষত পরিবর্তন ঘটেনি। মানবিক চেতনা আমরা দিনে দিনে হারিয়ে ফেলছি।

’৭১-এ পাক হানাদার বাহিনীর বর্বরতার শিকার হয় শিশু, নারী থেকে শুরু করে সব শ্রেণী-পেশার মানুষ। তখন দেশের মানুষের মধ্যে একে অপরের প্রতি যে সহমর্মিতা দেখেছি তার আজ বড়ই অভাব।

যেই চেতনা নিয়ে দেশ স্বাধীন হয়েছে তা থেকে আমরা ক্রমাগত দূরে সরে যাচ্ছি। এ অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে হলে প্রত্যেকটি মানুষকে তার সামাজিক দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে কাজ করে যেতে হবে। শিল্পী, সাহিত্যিকদের সে দায় আরও বেশি। তাদের বিশ্বমানবতা ও শান্তির লক্ষ্যে কাজ করতে হবে।

আমাদের অগ্রজ যারা সেই পথ ধরে এগিয়েছিলেন সেই পথ ধরেই চলার চেষ্টা করছি। যারা অনুজ তাদেরও সমাজ বদলে নিবিষ্টভাবে কাজ করে যেতে হবে।’ ভাষা সংগ্রামী, গবেষক, কবি ও কলামিস্ট আহমদ রফিক তার ৯০তম জন্মদিনের আনন্দ উদ্যাপনের বক্তব্যে কথাগুলো বলেন।

বুধবার জাতীয় জাদুঘরের কবি সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে আহমদ রফিকের জন্মোৎসবের আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর।

জাতীয় অধ্যাপক ড. রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে আহমদ রফিককে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়ে বক্তব্য রাখেন নাট্যজন রামেন্দু মজুমদার, কথাসাহিত্যিক আনোয়ারা সৈয়দ হক, লোকগবেষক শামসুজ্জামান খান ও রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক বিশ্বজিৎ ঘোষ।

স্বাগত বক্তব্য রাখেন অন্যপ্রকাশের প্রধান নির্বাহী মাজহারুল ইসলাম। আহমদ রফিককে নিয়ে অভিনন্দন বচন পাঠ করেন কবি মুনির সিরাজ। অনুষ্ঠানে শিল্প-সাহিত্য ও সংস্কৃতি অঙ্গনের নানা সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে আহমদ রফিককে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়। যৌথভাবে এ জন্মোৎসবের আয়োজন করেছে অন্যপ্রকাশ ও অনিন্দ্য প্রকাশ।

আহমদ রফিক বলেন, আমার কাছে মনে হয় জন্মদিন পালন বাচ্চাদের বিষয়। কবি শামসুর রাহমানের জীবদ্দশায় যখন জন্মদিন পালিত হতো, তখন আমি তাকে একবার জিজ্ঞেস করলাম, কেমন লাগে এ বয়সে এসব? তিনি আমাকে উত্তর দিলেন, বেশ মজাই তো লাগে। রঙিন কাপড়চোপড় পরে আসি।

নিজেকে বাচ্চাদের মতো মনে হয়। গত কয়েক বছর ধরে আমার জন্মদিন পালন হচ্ছে। এরকম আয়োজনে এসে অনেকেই প্রশংসাসূচক নানা কথা বলেন। ভালোই লাগে। রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘প্রথম শহীদ মিনার যেটি নির্মাণ করা হয়, তার সঙ্গে মিশে আছে আহমদ রফিকের নাম।

সবাই যেখানে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শিলাইদহ, শাহজাদপুর নিয়ে লিখছেন তখন তিনি পতিসরে রবীন্দ্রনাথকে আবিষ্কার করলেন সবার কাছে। তার আরেক পরিচয় পেলাম। ভাষাসৈনিক থেকে ভাষা সংগ্রামী অভিধা দেয়ার ভূমিকাটিও তার।

আসাদুজ্জামান নূর বলেন, দেশে বড় মাপের শিল্পী-সাহিত্যিক-বুদ্ধিজীবীদের সংখ্যা কমে আসছে। তাদের মধ্যে যে কয়েকজন আমাদের সমাজকে নিয়ে নিয়ত ভাবেন তাদের একজন আহমদ রফিক।

তার চেতনা আমাদের সমৃদ্ধ করছে। রামেন্দু মজুমদার বলেন, তার লেখনি সব সময় সত্য তুলে ধরে। শামসুজ্জামান খান বলেন, ভাষা সংগ্রামী হিসেবে তিনি যা লিখেছেন তার ঐতিহাসিক গুরুত্ব অনন্য। রবীন্দ্রনাথের জীবনীর তিনটি খণ্ড তিনি রচনা করছেন। আনোয়ার সৈয়দ হক বলেন, জন্মদিন মানেই আনন্দ। তার লেখার মধ্যদিয়ে অনেক কিছু জেনেছি, বুঝেছি।

অনুষ্ঠানে যেসব সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে আহমদ রফিককে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয় তার মধ্যে রয়েছে ভাষা সংগ্রামী আহমদ রফিক ফাউন্ডেশন, শিশু একাডেমি, জাতীয় জাদুঘর, ভাষা আন্দোলন গবেষণা কেন্দ্র ও জাদুঘর, শওকত ওসমান স্মৃতি পরিষদ, পাঞ্জেরি পাবলিকেশন্স, খামখেয়ালি সভা, বাংলাদেশ সায়েন্স ফিকশন সোসাইটি, ইমপেরিয়াল কলেজ, দনিয়া পাঠাগার। জাতীয় কবিতা পরিষদের পক্ষ থেকে কবি তারিক সুজাত ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়ে আহমদ রফিককে নিয়ে তার লেখা ‘ভাষার জন্য ভালোবাসা’ কবিতাটি পাঠ করেন।

 

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter