সাবেক দনিয়া ইউনিয়ন

‘বন্দিদশা’য় বসবাস

  খোরশেদ আলম শিকদার ২০ জানুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বন্দিদশায় দুর্ভোগের মধ্যে বসবাস করছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) নবসম্পৃক্ত ৬০, ৬১ ও ৬২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দারা। এ তিনটি ওয়ার্ড নগরীর সাবেক দনিয়া ইউনিয়ন এলাকায় ছিল।

সরেজমিন দেখা যায়, বর্তমানে এ ওয়ার্ডগুলোর বাসিন্দারা এক প্রকার বন্দি জীবনযাপন করছেন। ডিএসসিসির পয়োনিষ্কাশনের ড্রেনেজ নির্মাণের কাজ ধীরগতিতে চলছে। একই সঙ্গে এলাকার বিভিন্ন সড়কে ঠিকাদার পানি চলাচলের ব্যবস্থা না করে ড্রেনেজ বন্ধ করে কাজ করছেন। ফলে এলাকার পয়োনিষ্কাশনের পানি এখন সড়কের উপর। সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা। অপরদিকে চারপাশের সড়কগুলো কেটে ফেলায় বাসিন্দাদের হেঁটে চলা ছাড়া কোনো উপায় নেই। রোগীদের গাড়িতে করে হাসপাতালে নেয়ার ব্যবস্থাটিও নেই। এ ছাড়া দোকান ও আড়তে মালামাল আনা-নেয়া বন্ধ রয়েছে। বাসাবাড়ির আসবাবপত্র পরিবহন না হওয়ায় বাসা পরিবর্তন করে যেতে ও আসতে পারছেন না ভাড়াটেরা। এককথায় বছরের শুরু থেকেই এ এলাকার বাসিন্দারা এখন বন্দিদশায় আছেন।

এ ছাড়া ব্যস্ততম শনির আখড়া জিয়া সরণির আয়েশা মোশারফ মার্কেটের মোড় থেকে চব্বিশ ফুট সড়ক, মৃধাবাড়ি ও দোলাইরপাড় পর্যন্ত উভয় পাশের ফুটপাত ও রাস্তা দখল করে রয়েছে অবৈধ দোকানপাট। রয়েছে শনির আখড়া, দোলাইরপাড়, রায়েরবাগ অবৈধ সিএনজি ও ইজিবাইক স্ট্যান্ড। যার ফলে শনির আখড়া-কদমতলী, দোলাইরপাড়, মৃধাবাড়ি সড়কে থাকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা তীব্র যানজট। ফুটপাত অবৈধভাবে দখল হয়ে যাওয়ায় পথচারীদের মূল সড়ক দিয়ে চলাচল করতে হয়। এতে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন পথচারীরা। এসব অবৈধ দোকান থেকে স্থানীয় বাড়ির মালিক, বিভিন্ন ক্লাবের লোকজন ও পুলিশ নিয়মিত চাঁদা আদায় করে বলে অভিযোগ রয়েছে। অবৈধভাবে ফুটপাত ও রাস্তা দখলের কারণে এলাকাবাসীর চরম ভোগান্তি হলেও দেখার যেন কেউ নেই। ডিএসসিসির ৬০, ৬১ ও ৬২ নম্বর ওয়ার্ড সাবেক দনিয়া ইউনিয়ন, কদমতলী ও যাত্রাবাড়ী থানায় অবস্থিত। ১৯২০ সালে শ্যামপুর ইউনিয়ন থেকে এর প্রথম কার্যক্রম শুরু হয়। দনিয়া ইউনিয়ন সাবেক শ্যামপুর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড হিসেবে ছিল। ১৯৯৩ সালে শ্যামপুর ইউনিয়ন আলাদা হয়। আইনগত জটিলতার কারণে ২৪ বছর ধরে দনিয়া ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন স্থগিত থাকে। ২৭ জুন ২০১১ সালে দনিয়া ইউপির প্রথম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। দনিয়া ইউপির বর্তমান চেয়ারম্যান মো. জুম্মন মিয়া। এ ইউনিয়নে জনসংখ্যা রয়েছে ২ লাখ ৬১ হাজার ৭৪ জন। পুরুষ ১ লাখ ৪০ হাজার ৩১৫ জন ও নারী ১ লাখ ২০ হাজার ৭৫৯ জন। ভোটার সংখ্যা ১ লাখ ১৯ হাজার ১৯৮ জন। তাদের মধ্যে পুরুষ ৬১ হাজার ৬৩৭ জন, নারী ৫৭ হাজার ৫৬১ জন।

দনিয়া ইউনিয়নে পাকা রাস্তা ৯.৮৯ কিলোমিটার, কাঁচা রাস্তা ১২.৩৫ কিলোমিটার। হোল্ডিং সংখ্যা ৪ হাজার ৬০০। রয়েছে সরকারি কৃষি ব্যাংক, পূবালী ব্যাংক, ৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। নেই খেলার মাঠ, পার্ক, পাবলিক টয়লেট, কমিউনিটি সেন্টার, ঈদগাহ, কবরস্থান, শ্মশানঘাট, ব্যায়ামাগার, সরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক, মাতৃসদন, পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্র, ইপিআই সেন্টার, পুকুর, বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র, সড়কবাতি, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও ফায়ার সার্ভিস।

দনিয়া ইউপির চেয়ারম্যান মো. জুম্মন মিয়া যুগান্তরকে বলেন, ইউনিয়নে ব্যাপক কাঁচা রাস্তা পাকাকরণ ও ড্রেনেজ নির্মাণসহ ইউনিয়নবাসীর জলাবদ্ধতা নিরসনে কাজ করেছি। জলাবদ্ধতা বাসিন্দাদের এখন বড় সমস্যা। ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও খাল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা না হলে যতই ড্রেনেজ ব্যবস্থা করা হোক না কেন জলাবদ্ধতা থাকবেই। তিনি বলেন, প্রত্যেকে সচেতন হলে আমাদের দুর্ভোগ কমে আসবে। তিনি আরও বলেন, কর্তৃপক্ষের সহায়তায় বাসিন্দাদের দুর্ভোগ লাঘবে ড্রেনেজসহ রাস্তার কাজ চলছে।

দনিয়া ইউপির ১নং ওয়ার্ডের মেম্বার মো. শাহ আলম যুগান্তরকে বলেন, এলাকায় সরকারি কমিউনিটি সেন্টার ও সরকারি হাসপাতাল জরুরি। তাছাড়া শনির আখড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পাবলিক টয়লেট স্থাপন ও স্কুল-কলেজের সামনে বখাটে ছেলেদের আনাগোনা বন্ধের কথা জানান। পলাশপুর পঞ্চায়েত কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. লিটন মিয়া যুগান্তরকে বলেন, শনির আখড়া সড়কের দু’পাশে ফুটপাত দখল করে দোকান বসানোর কারণে মানুষের হাঁটতে চরম দুর্ভোগ হচ্ছে। সৃষ্টি হয় যানজট। ফুটপাত উচ্ছেদ করে মানুষের নির্ভিঘেœ চলাচলের দাবি জানান। শহীদ ফারুক মো. ইকবাল উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. লুৎফর রহমান মোল্লা রতন যুগান্তরকে বলেন, এলাকায় গ্যাসের তীব্র সংকট রয়েছে। বাসায় রান্নাবান্নার সমস্যা দেখা দিয়েছে। তাছাড়া এলাকায় রয়েছে বিশুদ্ধ পানির সংকট। জলাবদ্ধতায় মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে।

দনিয়া ইউপির ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার মো. আবদুর রহমান রতন যুগান্তরকে বলেন, এলাকায় জলাবদ্ধতা নিরসনে শনির আখড়া আন্ডারপাসের নিচে ড্রেনেজটি বড় ও পরিষ্কার রাখতে হবে। পাশাপাশি জনগণকে সচেতন থাকতে হবে। শেখদী সামাজিক পঞ্চায়েত পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মোস্তাক আহমেদ যুগান্তরকে বলেন, এলাকায় জলাদ্ধতা এখন প্রধান সমস্যা। সরকারি কমিউনিটি সেন্টার না থাকার কারণে গরিব অসহায় মানুষের ছেলেমেয়েদের বিয়েসহ সামাজিক অনুষ্ঠানে ব্যাপক সমস্যা হচ্ছে।

মদিনাবাগ ও রায়েরবাগ পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি মো. ইকবাল সরকার যুগান্তরকে বলেন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ড্রেনেজ নির্মাণের কাজে চলছে ব্যাপক অনিয়ম। পানি চলাচলের ব্যবস্থা না করে ড্রেনেজ বন্ধ করে কাজ করার কারণে মেরাজনগর, মদিনাবাগ, মোহাম্মদবাগ, রায়েরবাগসহ অত্র এলাকার বাসিন্দারা গৃহবন্দি হয়ে পড়েছেন। মানুষ চরম দুর্ভোগের মধ্যে বসবাস করছেন। বর্ণমালা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান মো. আবদুস সালাম বাবু যুগান্তরকে বলেন, শনির আখড়া ও দনিয়া এলাকায় মানুষ ও গাড়ির সংখ্যা কয়েক গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রতিনিয়ত সড়কে যানজট লেগেই থাকে। তিনি শনির আখড়া আন্ডারপাসের দু’পাশে ট্রাফিকের দাবি জানান।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

E-mail: [email protected], [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter