নবীন শিল্পীদের শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের আসর ‘সুনাদ’

  সাংস্কৃতিক রিপোর্টার ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

উচ্চাঙ্গসঙ্গীত

বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের আয়োজনে উচ্চাঙ্গসঙ্গীত উৎসব হয় ২০১২ সাল থেকে। আয়োজনটি সূচনার কয়েক বছর পর তারা প্রতিষ্ঠা করেন শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের বিদ্যায়াতন ‘বেঙ্গল পরম্পরা সঙ্গীতালয়’।

যার উদ্দেশ্য, দেশে শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের নতুন প্রজন্মের শিল্পী তৈরি। যারা দীক্ষা নেবে ভারতীয় উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতের খ্যাতিমান গুরুদের কাছ থেকেই। সেভাবেই একটু একটু করে দেশে উচ্চাঙ্গসঙ্গীতে নবীন শিল্পীরা আসছেন।

বেঙ্গল উচ্চাঙ্গসঙ্গীত উৎসবের গত কয়েকটি আসরে এই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নাতিদীর্ঘ পরিবেশনা দেখেছেন অনেকেই। এবার তাদের নিয়ে দুই দিনব্যাপী প্রথম উচ্চাঙ্গসঙ্গীত আসরের আয়োজন শুরু হল। এসব তরুণ শিল্পীই শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের রাগ-রাগিনীর পরিবেশনায় মুগ্ধতা ছড়ালেন।

আয়োজকরা জানালেন, নবীন ও প্রতিভাবান শিল্পীদের উচ্চাঙ্গসঙ্গীতে উৎসাহিত করতেই এ আয়োজন। সোমবার শরতের সন্ধ্যায় ধানমণ্ডির ছায়ানট মিলনায়তনে শুরু হয় এই আসরের প্রথম দিনের পরিবেশনা। ‘সুনাদ উচ্চাঙ্গসঙ্গীত’ শীর্ষক দুই দিনের এ আসরে বেঙ্গল পরম্পরা সঙ্গীতালয়ের নিজস্ব শিল্পী ও অতিথি শিল্পীরা বিভিন্ন ঘরানার উচ্চাঙ্গসঙ্গীত পরিবেশন করেন।

আসরের প্রথম পরিবেশনায় ছিল দলীয় সরোদ বাদন। এতে অংশ নেন ঈশারা ফুলঝুরি খান, ইসহাম ফুলঝুরি খান, সাদ্দাম হোসেন ও আরেফিন রনি। তারা সমবেতভাবে ভুপালী রাগ পরিবেশন করেন। এতে তবলায় সঙ্গত করেন রতন কুমার দাস ও সুকান্ত মজুমদার।

অনবদ্য এ পরিবেশনা শেষে মিলনায়তনে আগতরা তালি দিয়ে শিল্পীদের প্রতি ভালো লাগার প্রকাশ ঘটান। সরোদের সুর শেষে পরিবেশিত হয় খেয়াল। শ্রী রাগের আশ্রয়ে কণ্ঠসঙ্গীত উপস্থাপন করেন মিরাজুল জান্নাত সোনিয়া। খেয়ালের সুরে তবলায় সঙ্গত করেন প্রশান্ত ভৌমিক ও হারমোনিয়ামে আলমগীর পারভেজ। তৃতীয় পরিবেশনায় বেজে ওঠে তবলার লহরা।

ত্রিতালে পেশকার, কায়দা, রেলা ও টুকরো বাজিয়ে শোনান সুপান্থ মজুমদার। প্রথম দিনের শেষ পরিবেশনায় কণ্ঠে খেয়াল নিয়ে মঞ্চে আসেন অতিথি শিল্পী অলোক সেন। রাগ রাগেশ্রী ও দেশ রাগ পেরিয়ে ভজনের মাধ্যমে শেষ হয় প্রথম দিনের সঙ্গীতাসর।

আয়োজনের শুরুতে বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আবুল খায়ের অংশগ্রহণকারী শিল্পীদের উত্তরীয় পরিয়ে এ আসরের উদ্বোধন করেন। তিনি বলেন, যে আশা নিয়ে আমরা বেঙ্গল উচ্চাঙ্গসঙ্গীত উৎসব শুরু করেছিলাম, তারই প্রতিফলন এই বেঙ্গল পরম্পরা সঙ্গীতালয়, যা ৪ বছর ধরে চলছে। এরই মধ্যে আমাদের দুইজন শিক্ষার্থী ভারতে সঙ্গীত পরিবেশন করেছেন।

আমরা আনন্দিত এবং আশা করছি এই ধারাবাহিকতা সামনে আরও ভালোভাবে অব্যাহত থাকবে। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক লুভা নাহিদ চৌধুরী।

দেশের শিল্প ও সংস্কৃতি জগতের অনেকেই উপস্থিত ছিলেন সঙ্গীতাসরে। আজ এই উচ্চাঙ্গসঙ্গীতের আসরের দ্বিতীয় দিন। শৌনিক দেবনাথ, সৌমিত রায় প্রমুখ। সঙ্গীতপিপাসুরা বিনা টিকিটে এ অনুষ্ঠান উপভোগ করতে পারবেন।

কবিতার উচ্চারণে পথচলার ৩৩ বছর পূর্তি স্বননের : আবৃত্তি সংগঠন স্বনন পথচলার ৩৩ বছর পূর্ণ করল। এ উপলক্ষে সোমবার সন্ধ্যায় জাতীয় জাদুঘরের কবি সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘তন্ময় তটিনীর তীরে’ শিরোনামের বর্ষপূর্তির আয়োজন। মঙ্গলপ্রদীপ প্রজ্বালন, কথন, নাচ, গান ও কবিতার দীপ্ত উচ্চারণে সাজানো হয় অনুষ্ঠান।

বর্ষপূর্তির এ আয়োজনে প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাচিকশিল্পী জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায় ও কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন। ঢাকের তালে তালে আবৃত্তিশিল্পীদের সঙ্গে নিয়ে মঙ্গলপ্রদীপ প্রজ্বালন করে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন অতিথিরা। এরপর রবীন্দ্রনাথের গান ‘আলোকের ঝরনাধারা ধুইয়ে দাও’ গানটির সঙ্গে নৃত্য পরিবেশন করেন র‌্যাচেল এগনেস প্যারিস প্রিয়াংকা ও তার দল।

আনিসুজ্জামান বলেন, সুন্দর করে কথা বলাটাও একটা শিল্প। আর সুন্দর করে কবিতা পড়ার মাধ্যমে আবৃত্তিশিল্পীরা মানুষকে নির্মল বিনোদন দান করে। কবিতার মাধ্যমে অন্যকে বিনোদিত করার কাজটা আবৃত্তিশিল্পীরাই করে যাচ্ছেন।

সেলিনা হোসেন বলেন, সাংস্কৃতিক ব্যর্থতার কারণেই জঙ্গি উত্থান হয়েছে। মুক্তবুদ্ধির চর্চা করতে না পারলে পরবর্তী প্রজন্ম কঠিন অন্ধকারে নিমজ্জিত হবে। আবৃত্তিশিল্পীরা নিজেদের সৃষ্টিশীলতার মাধ্যমে সমাজের অন্ধকার দূর করছে।

জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায় বলেন, একসময় কবি ও আবৃত্তিকারদের মধ্যে একটা দূরত্ব ছিল। আবৃত্তিশিল্পীরা বই পড়েই আবৃত্তি করত। কিন্তু এখন আবৃত্তিশিল্পের প্রসারে ভালো ভালো কবিতা লিখে কবিরাও এগিয়ে এসেছে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
×