ট্যানারি স্থানান্তর

হাজারীবাগে ফিরে এসেছে বসবাসের পরিবেশ

  লালবাগ প্রতিনিধি ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ট্যানারি

ট্যানারি স্থানান্তরে স্বস্তি ফিরে পেয়েছেন হাজারীবাগবাসী। এতে এ এলাকায় বসবাসের একটি সুন্দর পরিবেশ ফিরে এসেছে। লেগেছে উন্নয়নের ছোঁয়া।

এখন বিভিন্ন ডেভেলপার কোম্পানি বহুতল ভবন নির্মাণে এগিয়ে এসেছে। এ কারণে হাজারীবাগ এলাকায় অনেক মানুষ বাসা ভাড়া নিচ্ছেন।

ট্যানারি থাকাকালীন হাজারীবাগের জনগণ বিভিন্ন সমস্যায় ভুগতেন। ট্যানারির চামড়ায় ব্যবহৃত বিষাক্ত কেমিক্যাল বাড়ির আসবাবপত্র নষ্ট করে ফেলত।

স্টিল, লোহা, তামা, সিলভার, এমনকি স্বর্ণ-রুপার কালার নষ্ট হয়ে যেত বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী। ট্যানারির মেশিনের প্রচণ্ড শব্দে ছেলেমেয়েরা লেখাপড়া করতে পারত না, ঘুমাতে পারত না। ট্যানারির চামড়ার পচা পানি রাস্তার ওপর চলে আসায় মানুষ ভালোভাবে চলাচল করতে পারত না। চামড়ার ‘ওয়েস্টেজ’র পচা দুর্গন্ধে মানুষের অনেক সমস্যা হতো। এসব বিভিন্ন সমস্যার কারণে বহুদিন ধরে ট্যানারিগুলো অন্য কোথাও স্থানান্তরের জোর দাবি জানিয়ে আসছিলেন হাজারীবাগবাসী।

হাজারীবাগের প্রায় সাড়ে তিনশ’ ট্যানারির মধ্যে তিনশ’ ট্যানারি সাভারের হেমায়েতপুরে স্থানান্তর করা হয়েছে। কিছু ট্যানারি বন্ধ হয়ে গেছে। আর বাকি কয়েকটি ট্যানারি অল্প দিনের মধ্যে স্থানান্তর করা হবে।

ট্যানারি থাকাকালে হাজারীবাগের গজমহল, শিকারীটোলা, মনেশ্বর রোড, বউবাজার, বিবুন কাচরা, গ্লাস ফ্যাক্টরি ও ট্যানারি মোড় এলাকার বাসিন্দারা সবচেয়ে বেশি সমস্যার মধ্যে বসবাস করতেন। হাজরীবাগের ট্যানারি মোড়ের বাসিন্দা মোহনদাস যুগান্তরকে বলেন, এখানে ২৪ ঘণ্টাই ট্যানারিতে মেশিন চলত।

সেই মেশিনের প্রচণ্ড শব্দে ছেলেমেয়েরা ঠিকমতো লেখাপড়া করতে পারত না, ঘুমাতে পারত না। না ঘুমানোর কারণে আমার মেজাজ সবসময় চড়া থাকত। ট্যানারিগুলো এখান থেকে সরিয়ে নেয়ার পর এখন খুব শান্তিতে আছি। ঘুমাতে পারছি।

ছেলেমেয়েরা লেখাপড়া করতে পারছে। হাজারীবাগের বিবুন কাচরার বাসিন্দা সোহেল যুগান্তরকে বলেন, আগে যখন ট্যানারি ছিল, ট্যানারিসংলগ্ন রাস্তা দিয়ে চলাফেরা করতে পারতাম না। কারণ ট্যানারির চামড়ার পচা পানি রাস্তার ওপরে চলে আসত। আর চামড়ার পচা দুর্গন্ধে আমার প্রায় বমি হতো। এখন অনেক শান্তিতে আছি।

হাজারীবাগের গ্লাস ফ্যাক্টরি এলাকার বাসিন্দা সালমা যুগান্তরকে বলেন, আগে কোনো আত্মীয়-স্বজন আমার বাড়িতে বেড়াতে আসতে চাইত না। কারণ আগে ট্যানারি থাকাকালীন চামড়ার পচা দুর্গন্ধ বাতাসে ভেসে বেড়াত। গন্ধ শুকে মানুষ বলে দিত এটা হাজারীবাগ।

ট্যানারিগুলো এখান থেকে সরিয়ে নেয়ার পর পচা দুর্গন্ধ দূর হয়ে গেছে। এখন আত্মীয়-স্বজন বেড়াতে আসে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) ১৪নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. সেলিম যুগান্তরকে বলেন, ট্যানারিগুলো সরানোর মূল কারণ বুড়িগঙ্গা নদীর পানি দূষণ।

ট্যানারির কারণে এ নদীর পানি সব সময় দূষিত থাকত। বিদেশি বায়াররা হাজারীবাগে আসতে চাইত না। এসব চিন্তা করে হাজারীবাগ থেকে ট্যানারিগুলো সাভারের হেমায়েতপুরে স্থানান্তর করা হয়েছে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter