পিআইবির প্রশিক্ষণ কর্মশালা সমাপ্ত

বস্তুনিষ্ঠ সংবাদের ধারা অব্যাহত রাখার আহ্বান

  যুগান্তর রিপোর্ট ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

সততা, বস্তুনিষ্ঠতা ও জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে সংবাদ পরিবেশনের ধারা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়ে শেষ হল বাংলাদেশ প্রেস ইন্সটিটিউটের (পিআইবি) তিন দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা। রাজধানীর বিভিন্ন ওয়ার্ডে কর্মরত দৈনিক যুগান্তরের সাংবাদিকদের জন্য সাংবাদিকতা বিষয়ক এ বুনিয়াদি প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়। ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অনুষ্ঠিত কর্মশালায় ৩০ জন শিক্ষানবিস সাংবাদিক অংশ নেন।

বৃহস্পতিবার পিআইবি সেমিনার কক্ষে কর্মশালার সমাপন অনুষ্ঠান হয়। পিআইবির মহাপরিচালক মো. শাহ আলমগীরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন দৈনিক যুগান্তরের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সাইফুল আলম, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক খন্দকার আলী আর রাজী। বক্তব্য রাখেন পিআইবির অধ্যয়ন ও প্রশিক্ষণ বিভাগের পরিচালক আনোয়ারা বেগম।

আবুল কালাম আজাদ বলেন, সাংবাদিকতা যেন বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর কাজে আসে- গণমাধ্যমকর্মীদের সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে, যা সত্য তাই বলতে হবে। দেশ ও বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর কথা চিন্তা না করে সাংবাদিকতা করলে এ প্রশিক্ষণ কর্মশালা কোনো কাজে আসবে না। সাংবাদিকতার পূর্বেকার এবং বর্তমান অবস্থা তুলে ধরে তিনি বলেন, আমাদের সময় সাংবাদিকতার প্রশিক্ষণ গ্রহণের এত সহজ উপায় ছিল না। হাতে-কলমে সাংবাদিকতার প্রশিক্ষণ নিয়েছি। কিন্তু এখন সাংবাদিকতা শিক্ষার ক্ষেত্র বিস্তৃত হয়েছে। এ সুযোগের ইতিবাচক ব্যবহার করতে হবে। উদ্দেশ্যমূলক নেতিবাচক সংবাদ পরিহার করতে হবে।

যুগান্তরের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সাইফুল আলম শিক্ষানবিস সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, প্রতিটি মানুষের মধ্যে সাংবাদিক মনস্কতা রয়েছে। জন্মের পর থেকেই সে জানতে চায়, বুঝতে চায়, বিভিন্ন প্রশ্ন করে। আর জানার এ অদম্য স্পৃহাই একজন সাংবাদিকের প্রাণশক্তি। একজন সাংবাদিক তখনই পূর্ণ সাংবাদিক হয়ে উঠবে যখন তিনি ২৪ ঘণ্টা খবর ও সাংবাদিকতার মধ্যে থাকবেন। আর এখন থেকেই সেই ব্রত নিয়ে সাংবাদিকতার সূচনা গুরুত্বপূর্ণ।

পিআইবিকে ধন্যবাদ জানিয়ে যুগান্তরের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক বলেন, ঢাকা শহর এত বড় হয়েছে যে, পত্রিকায় সব খবর দেয়া আমাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছিল। সে কারণে ২০১৬ সাল থেকে আমরা রাজধানীর প্রায় প্রতিটি এলাকায় রিপোর্টার নিয়োগ দিয়েছি। আর সেজন্যই দেখবেন, ঢাকা শহরের কোনো সংবাদ যুগান্তরে বাদ যায় না। তিনি বলেন, আমরা শিক্ষানবিস এই সাংবাদিকদের পেশাগত মানোন্নয়নের লক্ষ্যে পিআইবির মাধ্যমে প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নিয়েছি। আশা করছি, এর ফলে যুগান্তর সাধারণ মানুষের হয়ে কাজ করার ক্ষেত্রে আরও এগিয়ে যাবে।

মো. শাহ আলমগীর বলেন, আমরা যারা সাংবাদিকতা পেশায় আছি তাদের বুঝতে হবে এ পেশার একটা আলাদা মর্যাদা আছে। মনে রাখতে হবে, সাংবাদিকতা কেবলই একটি পেশা নয়। এ পেশার চরিত্রই হল- আপনার দেশের মানুষের জন্য আপনি কিছু করবেন। অর্থ উপার্জনের জন্য এ পেশা নয়। সেজন্য অন্য অনেক পেশা আছে। অনেকেই বিভিন্নভাবে এ পেশার অমর্যাদা করছে। তাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ গড়ে তুলতে হবে। তিনি বলেন, সততা না থাকলে সাংবাদিকতা থাকে না। সত্য বলতে গিয়ে নির্যাতনের শিকার হলেও সত্য বলতে হবে। পাশাপাশি বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনে বদ্ধ পরিকর হতে হবে। এ সময় তিনি কলমের শক্তিকে ইতিবাচক কাজে ব্যবহারের আহ্বান জানান। সমাপন অনুষ্ঠানে যুগান্তরের ৩০ জন শিক্ষানবিস সাংবাদিক ও পাশাপাশি অনলাইন সার্টিফিকেট কোর্স অন জার্নালিজমে প্রশিক্ষণ শেষে ৩৫ জন প্রশিক্ষণার্থীর মধ্যে সনদ বিতরণ করা হয়।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter