বিদ্যুৎ বিড়ম্বনায় বনশ্রীবাসী

প্রিপেইড মিটার মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা!

  মো. মাহবুবুর রহমান ভূঁইয়া ০১ অক্টোবর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বিদ্যুৎ বিড়ম্বনা

রাজধানীর রামপুরার বনশ্রীবাসীর বিদ্যুৎ বিড়ম্বনার যেন শেষ নেই। তিন সপ্তাহ ধরে লোডশেডিং বাড়ছেই। বিদ্যুতের দশা এমন যেন এই আছে, এই নেই।

এছাড়া ভোল্টেজ আপডাউন সমস্যাও আগের তুলনায় বেড়েছে। আর অব্যাহত বিদ্যুৎ বিভ্রাটে নষ্ট হচ্ছে ইলেকট্রনিক নানা যন্ত্রপাতি ও জিনিসপত্র। ব্যাহত হচ্ছে এখানকার স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। অন্যদিকে মড়ার উপর খাঁড়ার ঘায়ের মতো প্রিপেইড মিটার বিড়ম্বনা তো রয়েছেই।

একদিকে বাড়তি খরচের বোঝা, অন্যদিকে একাধিকবার প্রিপেইড কার্ড রিচার্জে যাতায়াত ও সিরিয়াল জটিলতায় অতিষ্ঠ মানুষ। কারণ, এলাকাভিত্তিক প্রিপেইড কার্ড রিচার্জ সেন্টার না থাকায় গ্রাহকদের ভোগান্তি বেড়েছে কয়েকগুণ।

অন্যদিকে প্রিপেইড মিটারের প্রয়োজনীয় ও সর্বশেষ ব্যালেন্স সংকেত না পাওয়ায় হুট করে বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ হওয়ার ভোগান্তি আরও বেশি পীড়াদায়ক। অভিযোগ, প্রিপেইড মিটারে ব্যালেন্স শেষ হয়ে রাতে কোনো গ্রাহকের বিদ্যুৎ চলে গেলে গোটা রাত বিদ্যুৎবিহীন কাটাতে হয় ওই পরিবারকে। এ অবস্থার পরিত্রাণ চেয়ে বিদ্যুৎ বিভাগ সংশ্লিষ্টদের বারবার অবহিত করেও গ্রাহকরা সুফল পাচ্ছেন না।

তবে বিদ্যুৎ বিভাগ বলছে, এলাকাভিত্তিক প্রিপেইড কার্ড রিচার্জ সেন্টারের সমস্যা আর থাকবে না। ইতিমধ্যে দুটি রিচার্জ সেন্টার চালু হয়ে গেছে, আর মাসখানেকের মধ্যে আরও ২-৩টি সেন্টার চালু হয়ে যাবে।

তখন বনশ্রী এলাকায় বিদ্যুতের প্রিপেইড গ্রাহকদের ভোগান্তি আর থাকবে না। আর বনশ্রীতে লোডশেডিং বিড়ম্বনাও থাকবে না। ইতিপূর্বে বড় গ্রিডে সমস্যা হওয়ায় লোডশেডিং বেশি ছিল। ওই সমস্যা এখন আর হবে না।

সরেজমিন দেখা গেছে, মেরাদিয়া-বনশ্রী এলাকায় বিদ্যুৎ ভোগান্তি চরম আকার ধারণ করেছে। ৩ সপ্তাহ ধরেই এখানে বিদ্যুৎ সরবরাহে নানা সমস্যা হচ্ছে বলে অধিবাসীদের অভিযোগ। দিনে অন্তত ৭-৮ বার লোডশেডিং হয়।

কয়েকদিন আগেও দিনে ১৫ থেকে ২০ বার লোডশেডিং করেছে বিদ্যুৎ বিভাগ। আর ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন এলাকাবাসী। উৎপাদনমুখী ছোট ছোট নানা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, মার্কেট, বিপণিবিতান ও ছোট বড় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে লোডশেডিংয়ে বিঘ্ন হচ্ছে কর্মকাণ্ড। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনাও ব্যাহত হচ্ছে।

অপরদিকে নতুন করে প্রিপেইড মিটার নিয়ে বিপাকে রয়েছেন গ্রাহকরা। প্রিপেইড মিটারে রিচার্জ বিড়ম্বনাসহ নানা অসুবিধার সম্মুখিন হওয়ায় গ্রাহকরা এখনও এর সুবিধা শতভাগ বুঝে উঠতে পারছেন না বলে জানা গেছে। এছাড়া প্রিপেইড কার্ড রিচার্জ করতে গ্রাহকদের বনশ্রী থেকে খিলগাঁও তালতলা বিদ্যুৎ (ডিপিডিসি) অফিসে যেতে হয়। নতুন অবস্থায় বিধায় বেশিরভাগ গ্রাহককে মাসে ২-৩ বার পর্যন্ত যেতে হচ্ছে বলে জানা গেছে।

এছাড়া কম্পিউটারের মাধ্যমে শুধু কার্ড রিচার্জ করলেই শেষ নয়, ফিরে এসে মিটারে ওই কার্ড পাঞ্চ করলে তবেই বিদ্যুৎ সরবরাহ হয়। এভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহার যেন রীতিমতো বিরক্তিকর একটি বিষয়ে পরিণত হয়েছে বনশ্রীবাসীদের জন্য।

এ বিষয়ে বনশ্রীর ব্লক-এ’র এক ভবন মালিক মো. শাহজাহান যুগান্তরকে বলেন, প্রিপেইড মিটার আসায় আগের চেয়ে বিদ্যুৎ বিলের পরিমাণটা বেশি মনে হচ্ছে। তাছাড়া বিদ্যুৎ খরচ মিটারে চেক করার উপায় নেই। আর প্রতি রিচার্জেই আলাদাভাবে টাকা কেটে নেয়া হয়।

এদিকে অনেক গ্রাহক বলছেন প্রিপেইড মিটারে বিদ্যুৎ ব্যবহার সম্পর্কে সচেতনতা ফিরে এসেছে। মিটার চেক করলেই কত ইউনিট ব্যবহার হয়েছে তা দেখা যাচ্ছে। আর অতিরিক্ত ব্যবহার হলে পরবর্তী সময়ে সতর্ক হওয়া যায় যা পোস্টপেইড মিটারে কখনোই লক্ষ্য করা হতো না।

বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ডিপিডিসি-খিলাগাঁও অফিসের আওতায় প্রিপেইড মিটারের গ্রাহক সংখ্যা বর্তমানে ২৯ হাজার। পূর্ব রামপুরা টিভি রোড, বনশ্রী, মেরাদিয়ার কিছু অংশসহ আশপাশের বেশ কিছু এলাকা নিয়ে তাদের কার্যক্রম।

গত বছর সরকারিভাবে ইউনিট প্রতি বিদ্যুৎ বিল বেড়েছে। তখন থেকেই প্রিপেইড মিটারের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এতে নিয়ম অনুযায়ী বিদ্যুৎ বিল বেড়ে যাওয়ায় অনেকে মনে করছেন প্রিপেইড মিটারে বিল বেশি হচ্ছে। এমনটি ভাবার কোনো অবকাশ নেই।

কারণ পোস্টপেইড মিটারে বিলিং ব্যবস্থা যেভাবে ছিল অনেকটা সেভাবেই চলছে প্রিপেইড মিটারে। প্রতি মিটারে মাসভিত্তিক রিচার্জের ৫ শতাংশ ভ্যাট, পার কিলোওয়াট ডিমান্ট চার্জ ২৫ টাকা হারে নেয়া হচ্ছে। তবে মিটার ফ্রি দেয়ায় গ্রাহকদের কাছ থেকে এর ভাড়া প্রতি মাসে অতিরিক্ত ৪০ টাকা নিচ্ছে কর্তৃপক্ষ। এটি অবশ্য নতুন সংযোজন, কারণ গ্রাহকদের মিটার আলাদাভাবে কেনার অনুমতি নেই।

বনশ্রী এলাকার লোডশেডিংয়ের বিষয়ে জানতে চাইলে ডিপিডিসি-বনশ্রী জোনে দায়িত্বরত ডিপিডিসি-বাসাবো জোনের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মাঈন উদ্দিন যুগান্তরকে বলেন, ইতিমধ্যে ডিপিডিসি-বনশ্রী জোনে লোডশেডিংয়ের বিষয় সমাধান হয়ে গেছে।

বড় গ্রিডে সমস্যা দেখা দেয়ায় ওই এলাকায় কিছুদিন লোডশেডিং বেশি করতে হয়েছে। অনাকাক্সিক্ষত কোনো ঝামেলায় না পড়লে সামনে আর সমস্যা হবে না।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
×