এশীয় চারুকলা প্রদর্শনীর সমাপ্তি

  সাংস্কৃতিক রিপোর্টার ০১ অক্টোবর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

চারুকলা

শিল্পের মহাযজ্ঞের আসর বসেছিল শিল্পকলা একাডেমিতে। যেখানে বিশ্বের নানা প্রান্তের শিল্পীদের চিত্রকর্ম থেকে শুরু করে স্থাপনাশিল্প, ভিজুয়াল আর্ট, আলোকচিত্র, ভাস্কর্য, ছাপচিত্র, পারফরমেন্স আর্ট ছিল।

অষ্টাদশতম দ্বিবার্ষিক এশীয় চারুকলা প্রদর্শনীর শেষ দিন ছিল রোববার। এদিন চিত্রশালা মিলনায়তনে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় শিল্পকলা একাডেমি আয়োজিত প্রদর্শনীটির সমাপনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন সংস্কৃতি সচিব মো. নাসির উদ্দিন আহমেদ। স্বাগত বক্তব্য রাখেন একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী।

আসাদুজ্জামান নূর বলেন, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বদলেছে এ প্রদর্শনীর বৈশিষ্ট্য। শ্রীবৃদ্ধি ঘটার পাশাপাশি বৃদ্ধি পেয়েছে প্রদর্শনীর কলেবর। এবারের আয়োজনে আমরা দেশের তরুণ শিল্পীদের শক্তির পরিচয় পেয়েছি।

সেই সঙ্গে বিদেশি শিল্পীদের শিল্পসম্ভারের সামনে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে দেশের শিল্পীদের কাজ। আলোচনায় এশীয় চারুকলা প্রদর্শনী উপলক্ষে গড়ে ওঠা ভাস্কর্য পার্কটি স্থায়ীকরণসহ সংস্কৃতির বিকাশে বর্তমান সরকারের অঙ্গীকারের বিষয়ে সংস্কৃতিমন্ত্রী বলেন, আমরা নির্বাচনী প্রতিশ্র“তি অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় তৃণমূল পর্যায়ে সংস্কৃতিচর্চা বিকাশ ও সম্প্রসারণে কাজ করে যাচ্ছি। ইতিমধ্যে শিল্পকলা একাডেমি চত্বরে ভাস্কর্য পার্ক নির্মাণ করেছি।

জাতীয় চিত্রশালা ভবনের ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণের কাজ চলছে। এটি বাস্তবায়িত হলে ভবিষ্যতে দ্বিবার্ষিক এশীয় চারুকলা প্রদর্শনীর আয়োজনটি আরও সুন্দর ও গুছিয়ে করা সম্ভব হবে।

লিয়াকত আলী লাকী বলেন, আজকের দিনটি একদিকে যেমন আনন্দের অন্যদিকে বেদনার। তবে আমরা স্বপ্ন দেখছি আগামী ১৯তম আসর আরও বড় পরিসরে করতে পারব।

নৃত্য পরিবেশনার মাধ্যমে সমাপনী আয়োজনের সূচনা হয়। মঙ্গল হোক এই শতকে মঙ্গল সবার- গানের সুরে তাল রেখে নেচে যান শিল্পীরা।

পহেলা সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয় আঠারোতম দ্বিবার্ষিক এশীয় চারুকলা প্রদর্শনী। স্বাগতিক বাংলাদেশসহ আয়োজনে অংশ নিয়েছে ৬৮টি দেশ। প্রদর্শিত হয়েছে দেশি-বিদেশি শিল্পীদের মোট ৩৬৮টি পেইন্টিং, প্রিন্ট ও ফটোগ্রাফি, ৩৩টি ভাস্কর্য, ৫২টি ইলাস্ট্রেশন আর্ট এবং ৩০ জন পারফরমেন্স আর্টিস্টের শিল্পনৈপুণ্য প্রদর্শনী। সব মিলিয়ে দেশি-বিদেশি ৪৬৫ শিল্পীর ৫৮৩টি শিল্পকর্ম উপস্থাপিত হয়েছে প্রদর্শনীতে।

হিজড়াদের জন্য শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের আসর ‘সন্ধ্যা সঙ্গীত’ : হিজড়া জনগোষ্ঠীর মানুষদের এখনও কিছুটা আড় চোখে দেখে সমাজ। মেলে না সম্মানও। সামাজিক কোনো আচার-অনুষ্ঠানেও তারা সাদরে স্বাগত হয় না। হিজড়া সম্প্রদায়ের মানুষকে সবকিছুর সঙ্গে নতুন করে পরিচয় করিয়ে দিতে কাজ শুরু করেছে সামাজিক উন্নয়ন সংস্থা রিথিংক। তারই অংশ হিসেবে অনুষ্ঠিত হল হিজড়াদের জন্য শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের অনুষ্ঠান ‘সন্ধ্যা সঙ্গীত’।

রোববার রিথিংকের নিজস্ব কার্যালয় রাজধানীর গ্রিন রোডের বিন্দুধারীতে অনুষ্ঠিত শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের এ আয়োজনে বাদ্যযন্ত্রের পরিবেশন করেন ভারতীয় শিল্পীরা। এতে সরোদ পরিবেশন করেন অর্ণব ভট্টাচার্য এবং তলবায় পরিবেশন করেন নিলীমেশ চক্রবর্তী। অনুষ্ঠানে দর্শক হিসেবে প্রাধান্য দেয়া হয় হিজড়া সম্প্রদায়ের মানুষদের।

সরোদে রাগ চারুকেষীতে বিলম্বিত, দ্রুত ও তিন তাল দিয়ে শুরু হয় আয়োজন। এরপর নিলীমেশ চক্রবর্তী এবং অর্ণব ভট্টাচার্য তবলা ও সরোদের যুগলবন্দিতে পরিবেশন করেন রাগ মারুবেহাগ, রাগেশ্রী, যোগ এবং গোরক কল্যাণ। উন্মুক্ত এ অনুষ্ঠানে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন রিথিংকের পরিচালক লুলু-আল-মারজান।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×