উত্তরাবাসীর নিরাপত্তায় লোহার প্রতিবন্ধক

  রফিকুল ইসলাম ০১ অক্টোবর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

লোহা

উত্তরা আবাসিক এলাকার অর্ধশতাধিক গুরুত্বপূর্ণ সড়কের মুখে লোহার তৈরি বিভিন্ন প্রতিবন্ধক ও গেট এলাকাবাসীর নিরাপত্তায় কাজ করছে।

এতে বড় আকারের গাড়ি সেক্টরে প্রবেশ করতে পারছে না। রাস্তাঘাট দ্রুত চলাচলের অনুপোযোগী হচ্ছে না। ছিনতাই, চুরি ও ডাকাতির হাত থেকে রেহাই পাচ্ছে বাসিন্দারা।

একাধিক বাসিন্দা যুগান্তরকে বলেন, উত্তরার ১৪টি সেক্টর ও তার পার্শ্ববর্তী ৩০টি গ্রামের কয়েক লাখ মানুষ এ নিরাপত্তা সুবিধা নিচ্ছেন। তারা জানান, লোহার প্রতিবন্ধক থাকায় কতিপয় অসাধু লোকের মালপত্র পরিবহনের ট্রাক বা কাভার্ডভ্যান সেক্টরের ভেতরে প্রবেশ করতে পারে না। ফলে উচ্চ শব্দ ও আবাসিক এলাকার পরিবেশ বজায় থাকে।

একাধিক এলাকাবাসীর দাবি, সবগুলো রাস্তার নিরাপত্তা গেট লোহার প্রতিবন্ধকের আওতায় আনা হোক। তবে প্রতিবন্ধক অবশ্যই জরুরি মুহূর্তে ব্যবহার উপযোগী হতে হবে। কিছু লোহার প্রতিবন্ধক বেশ নিচু হওয়ায় ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি, পুলিশের টহল গাড়ি কিংবা অ্যাম্বুলেন্স প্রবেশ করতে পারে না।

কোনো মুমূর্ষু রোগীকে জরুরিভিত্তিতে হাসপাতালে নিতেও বেগ পেতে হয়। তাই এগুলো সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন বাসিন্দারা। দেখা গেছে, কিছু প্রতিবন্ধকের উপরের লোহার বার জরুরি সময়ে খোলার ব্যবস্থা আছে। এমন প্রতিবন্ধকের সংখ্যা কম। তবে বেশিরভাগ প্রতিবন্ধকের উপরের বারগুলো স্থায়ীভাবে আটকানো।

ওই বারগুলো হয় সিমেন্টের পিলারে গেঁথে দেয়া নয়তো লোহার খুঁটির সঙ্গে ঝালাই দেয়া। শুধু বারই নয় গেটের উপরে বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের বড় বড় বিজ্ঞাপন সংবলিত সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে লাখ লাখ টাকা আদায় করা হচ্ছে।

তাই এসব গেট সংস্কার ও ব্যবহার উপযোগী করা জরুরি হয়ে পড়েছে। সেক্টরের প্রবীণ বাসিন্দারা জানান, উত্তরায় মানুষের বসবাস শুরুর দিকে সেক্টরগুলোতে প্রচুর পরিমাণে নির্মাণ কাজ চলত। তখন রাতের বেলা নির্মাণসামগ্রী নিয়ে আসা ট্রাক চলাচল করায় রাস্তা ভেঙে যেত।

এতে দুর্ভোগ পোহাতো এলাকাবাসী। তৎকালীন দায়িত্বপালনকারী অনেক কল্যাণ সমিতির প্রতিনিধি নিরাপত্তার কথা ভেবে এসব প্রতিবন্ধক বসানোর সিদ্ধান্ত নেয়। বর্তমানে প্রতিবন্ধকের পরিবর্তে ফটক বসানো হচ্ছে বলেও তারা জানান।

সরেজমিন দেখা যায়, উত্তরা ১ নম্বর সেক্টরের ১৫টি সড়কের মধ্যে ১০টি সড়কেই লোহার প্রতিবন্ধক বসানো আছে। সড়কগুলো হল- ২, ৩, ৪, ৫, ৬, ১১, ১২, ১৩, ১৪ ও ১৫ নম্বর। এসব প্রতিবন্ধকের উচ্চতা মাটি থেকে ৫-৭ ফুট উপরে। ১১নং সেক্টরের ২, ১০, ১১ ও ২০নং রোড। ১০নং সেক্টরের ২ ও ৭নং রোড। ১৩নং সেক্টরের ৩নং রোড ৫নং সেক্টরের ৩ ও ৯/ডি নং রোড। ১২নং সেক্টরের ৩, ৪, ৫নং রোড। ৬নং সেক্টরের ১ ২ ও ৮নং রোডসহ প্রতিটি সেক্টরে একাধিক প্রবেশ মুখে লোহার বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের এক বা একাধিক সাইনবোর্ড ও প্রতিবন্ধক রয়েছে।

জানতে চাইলে উত্তরা ফায়ার সার্ভিসের ইনচার্জ শফিকুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, সেক্টরের সড়কগুলোতে থাকা লোহার প্রতিবন্ধকগুলো অপসারণের অনুরোধ জানিয়ে উত্তরার ১৪টি সেক্টর কল্যাণ সমিতিকেই চিঠি দিয়েছিল ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স কর্তৃপক্ষ।

তিনি বলেন, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) ১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলরকে চিঠির অনুলিপিও দেয়া হয়। কিন্তু তাতে কোনো কাজ হয়নি। প্রতিবন্ধক আগের মতোই রয়ে গেছে। তিনি আরও বলেন, প্রায়ই সেক্টরে ছোটবড় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

কিন্তু সড়কের প্রবেশমুখে প্রতিবন্ধকের কারণে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি ঘটনাস্থলে প্রবেশ করতে পারে না। তখন অন্য রাস্তায় ঘুরে গিয়ে কাজ করতে হয়। তিনি বলেন, ঘুরে গিয়ে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করতে করতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বেড়ে যায়।

১০নং সেক্টর কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক ইনসাফ আলী ওসমানী যুগান্তরকে বলেন, বড় যানবাহন যাতে প্রবেশ করতে না পারে সেজন্য প্রতিবন্ধক বসানো হয়েছে। বড় গাড়ি ঢুকলে রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়, নালা ধসে যায়।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter