বিএসএমএমইউ’র গবেষণা প্রতিবেদন

সমন্বিত পুষ্টি সেবা বঞ্চিত প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ

ব্যবহার হচ্ছে না প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি * ওষুধের ঘাটতি রয়েছে

  রাশেদ রাব্বি ১৫ নভেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

পুষ্টি

দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মা ও শিশুরা সরকারের নিউট্রিশন (পুষ্টি) সার্ভিসের সুযোগ-সুবিধা কিছুটা ভোগ করলেও কিশোর-কিশোরীরা এ সেবা থেকে অনেকাংশে বঞ্চিত।

এছাড়া গর্ভবতী নারী এবং শূন্য থেকে ৫ বছর বয়সী শিশুদের ওজন পরিমাপের জন্য যন্ত্রপাতি প্রয়োজনের অর্ধেকেরও কম। সম্প্রতি বাংলাদেশের দুর্গম এলাকায় পুষ্টিসেবার বর্তমান অবস্থা ও চাহিদা সম্পর্কে গবেষণালব্ধ ফলাফলে এ তথ্য উঠে এসেছে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) পাবলিক হেলথ অ্যান্ড ইনফরমেটিকস বিভাগ গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করে। চরাঞ্চল, উপকূলীয় এলাকা, হাওর, পাহাড়ি অঞ্চল ও দ্বীপাঞ্চলগুলোতে গবেষণাটি চালানো হয়। বিশেষ করে যে এলাকাগুলোর যোগাযোগ ব্যবস্থা অন্যান্য এলাকার তুলনায় নাজুক।

গবেষণায় দেখা যায়, চর ও দ্বীপ এলাকার নারী শিশুরা আয়রন ও ক্যালসিয়াম সম্পূর্ণরূপে গ্রহণ করছে। আবার পাহাড় ও উপকূলীয় এলাকায় কৃমির ওষুধ ও আয়রনের ব্যবহার বেশি করছে কিশোরীরা। তবে সমন্বিত পুষ্টির ব্যবহার কোথাও হচ্ছে না। তাছাড়া প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির অভাব রয়েছে। আবার ব্যবহার উপযোগী যন্ত্রপাতিও থেকে যাচ্ছে অব্যবহৃত।

ফলে এসব অঞ্চলে পুষ্টির ঘাটতি থেকে যাচ্ছে। এ অবস্থার জন্য অসচেতনতার পাশাপাশি ঠিকমতো সরকারি সুযোগ-সুবিধা পৌঁছানোর ঘাটতির বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে গবেষণায়।

গবেষণায় মূলত যে বিষয়গুলো উঠে এসেছে তা হল উল্লিখিত এলাকায় সরকারের বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পগুলোর মাধ্যমে শিশুদের অসুস্থতার সমন্বিত ব্যবস্থাপনায় ৬২ ভাগ, জন্ম পূর্ববর্তী সেবায় ৫২ ভাগ, মায়ের দুধ পানের মাধ্যমে ৩৮ ভাগ এবং কিশোরীদের সেবায় ১৪ ভাগ পুষ্টি সুবিধা পাচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত ফেব্র“য়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কুড়িগ্রাম, সিরাজগঞ্জ, বাগেরহাট, খুলনা, কিশোরগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা, রাঙ্গামাটি, ভোলা, কক্সবাজার, নোয়াখালী জেলার ১৫টি প্রত্যন্ত উপজেলার তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। যথাযথ নজরদারির মাধ্যমে সর্বমোট ৮৭৯ জন লোক গবেষণা পর্যবেক্ষণের আওতায় ছিল।

এর মধ্যে ২৯৪ জন গর্ভবতী নারী, ২৯২ জন শূন্য থেকে ৫ বছর বয়সী শিশুর মা, ২৯৩ জন কিশোর-কিশোরী। এদেরকে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ৫৫টি সাধারণ প্রশ্ন, ১৫টি বিস্তারিত সাক্ষাৎকার ও ৩০টি ফোকাস গ্র“প আলোচনার মাধ্যমে এসব তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা হয়েছে।

গবেষণার ফলাফল পর্যালোচনায় দেখা যায়, এলাকাগুলোর গর্ভবতী মায়েদের পুষ্টির অবস্থা জানার ক্ষেত্রে ওজন পরিমাপের প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি আছে ৯০ ভাগ। যার মধ্যে সচল ৭৬ দশমিক ৭ ভাগ। এগুলোর মধ্যে ব্যবহার হচ্ছে মাত্র ৫০ ভাগ। এছাড়া উচ্চতা মাপার জন্য যন্ত্রপাতি আছে ৪৩ দশমিক ৩ ভাগ। এর মধ্যে সচল ৩৩ দশমিক ৩ ভাগ। ব্যবহার হচ্ছে মাত্র ৩ দশমিক ৩ ভাগ। এছাড়া শূন্য থেকে ৫ বছর বয়সী শিশুদের মায়েদের পুষ্টির অবস্থা জানার ক্ষেত্রে ওজন পরিমাপের প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি রয়েছে ৮৬ দশমিক ৭ ভাগ। সচল ৭০ ভাগ এবং ব্যবহৃত হচ্ছে মাত্র ৩৩ দশমিক ৩ ভাগ।

আয়োডিন পরিমাপের জন্য বিদ্যমান যন্ত্রপাতি রয়েছে ২০ ভাগ, সচল ১০ ভাগ এবং যার কোনো ব্যবহার হচ্ছে না। উচ্চতা পরিমাপের জন্য যন্ত্রপাতি রয়েছে ৫০ ভাগ, সচল ৩৬ দশমিক ৭ ভাগ এবং ব্যবহার হচ্ছে মাত্র ৬ দশমিক ৭ ভাগ। দৈর্ঘ্য মাপার জন্য যন্ত্রপাতি রয়েছে ২৩ দশমিক ৩ ভাগ, সচল ১৬ দমমিক ৭ ভাগ। তবে এক্ষেত্রে কোনো যন্ত্রপাতি ব্যবহার হচ্ছে না। পুষ্টির মান নির্ধারণের জন্য বুকের দৈর্ঘ্য মাপার ফিতা রয়েছে ৫৩ দশমিক ৩ ভাগ এবং ব্যবহার হচ্ছে মাত্র ১০ ভাগ।

গবেষণায় দেখা যায়, এসব প্রত্যন্ত অঞ্চলের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গর্ভবতী মায়েদের জন্য সম্পূরক আয়রন ফলিক এসিড ও ক্যালসিয়ামের গড় ব্যবহারের পরিমাণ যথাক্রমে ৭৩ দশমিক ৩ ও ৭৮ দশমিক ৬ ভাগ। ইউনিয়ন সাব সেন্টারগুলোতে ৬০ ও ৫৭ দশমিক ১ ভাগ। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সম্পূরক আয়রন ফলিক এসিডের গড় পরিমাণ শূন্য থেকে ৫ বছর বয়সী শিশুদের ৪৬ দশমিক ৭ ভাগ, শূন্য থেকে ৫ বছর বয়সী শিশুদের মায়েদের ৪৬ দশমিক ৭ ভাগ এবং কিশোর-কিশোরীদের রয়েছে ৭৩ দশমিক ৩ ভাগ। ইউনিয়ন সাব সেন্টারের তথ্য অনুসারে সম্পূরক ক্যালসিয়ামের গড় পরিমাণ শূন্য থেকে ৫ বছর বয়সী শিশুদের ৫৭ দশমিক ১ ভাগ, শূন্য থেকে ৫ বছর বয়সী শিশুদের মায়েদের ৫৭ দশমিক ১ ভাগ এবং কিশোর-কিশোরীদের রয়েছে ৭৮ দশমিক ৬ ভাগ।

এছাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শূন্য থেকে ৫ বছর বয়সী শিশুদের জন্য খাবার স্যালাইনের প্রাপ্যতা ৬৬ দশমিক ৭ ভাগ এবং ইউনিয়ন সাব-সেন্টারে ৫০ ভাগ। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শূন্য থেকে ৫ বছর বয়সী শিশুদের সম্পূরক জিংকের প্রাপ্যতা ৪৬ দশমিক ৭ ভাগ এবং এবং ইউনিয়ন সাব সেন্টারে ৩৫ দশমিক ৭ ভাগ। ২ থেকে ৫ বছর বয়সী শিশুদের জন্য প্রয়োজনীয় অ্যালবেনডাজলের (ক্রিমির ওষুধ) প্রাপ্যতা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রয়েছে ১৩ দশমিক ৩ ভাগ এবং ইউনিয়ন সাব-সেন্টারে ৩৫ দশমিক ৭ ভাগ। আবার ২ থেকে ৫ বছর বয়সী শিশুদের জন্য প্রয়োজনীয় অ্যালবেনডাজল ওষুধ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রয়েছে ২৬ দশমিক ৭ ভাগ এবং ইউনিয়ন সাব-সেন্টারে ৪২ দশিমক ৯ ভাগ।

এ প্রসঙ্গে বিএসএমএমইউ’র পাবলিক হেলথ অ্যান্ড ইনফরমেটিকস বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. খালেকুজ্জামান বলেন, আমাদের উপস্থাপিত তথ্য-উপাত্তের ওপর ভিত্তি করে সরকার যদি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করে তাহলে এক্ষেত্রে সফলতা আসতে বাধ্য। এলাকাগুলোতে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোও বিভিন্ন কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
×