রোহিঙ্গা সংকট

প্রত্যাবাসন না হওয়ায় ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা

পালিয়ে যাওয়া রোহিঙ্গারা ক্যাম্পে ফিরতে শুরু করেছে * দায়ী এনজিওগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি

  উখিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি ১৯ নভেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

রোহিঙ্গা

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন না হওয়ায় ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা। প্রত্যাবাসন কাজে যারা বাধা সৃষ্টি করেছে তাদের শাস্তির দাবি করেছেন তারা। তাদের মতে দিনক্ষণ ঠিক করে প্রত্যাবাসন না হওয়ায় মিয়ানমার আন্তর্জাতিকভাবে সুযোগ নেবে।

দেশটি বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে কথা বলার সুযোগ পাবে। এদিকে ফেরত যাওয়ার ভয়ে পালিয়ে যাওয়া রোহিঙ্গারা ক্যাম্পে ফিরতে শুরু করেছে।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সংগ্রাম কমিটির নেতা ও উখিয়া উপজেলা সুজন সভাপতি নুর মোহাম্মদ সিকদার বলেন, বাংলাদেশের সফল কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের নাগরিক হিসেবে স্বীকার করে প্রত্যাবাসনে রাজি হয়। এর পর চুক্তি আর সময়ক্ষেপণের পর ১৫ নভেম্বর কিছু রোহিঙ্গাকে ফিরিয়ে নেয়ার তারিখ নির্ধারিত হয়। কিন্তু দুঃখের বিষয় রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানো যায়নি। ওইদিন রোহিঙ্গারা প্রত্যাবাসনের বিপক্ষে স্লোগান দেয় এবং সরকারি কর্মকর্তাদের নাজেহাল করে।

উখিয়া উপজেলা শ্রমিক নেতা শফি সওদাগর বলেন, এতদিন আমরা আপেক্ষা করেছিলাম মিয়ানমার কখন প্রত্যাবাসনের জন্য রাজি হয়। কিন্তু যখন তারা রাজি হল আমরা রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠাতে পারলাম না। আগে বাংলাদেশ জাতিসংঘসহ সব আন্তর্জাতিক সংস্থার কাছে গিয়ে বলত রোহিঙ্গাদের ফেরত নিতে। রোহিঙ্গারা না যাওয়ায় এখন মিয়ানমার সব জায়গায় গলা উঁচু করে বলবে আমরা ফেরত আনতে রাজি ছিলাম কিন্তু বাংলাদেশ ফেরত দিতে পারেনি। এতে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হতে পারে। তিনি বলেন, যে সব দাবির কথা বলে তারা ফেরত যেতে চায় না তা একশ’ বছরেও পূরণ হবে না। তিনি অভিযোগ করেন, কিছু এনজিও মিয়ানমারে ফেরত না যাওয়ার জন্য রোহিঙ্গাদের উৎসাহিত করেছে। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।

উখিয়া কলেজের অধ্যাপক তহিদুল আলম তহিদ বলেন, মনের মধ্যে সব সময় সংশয় ছিল আদৌ প্রত্যাবাসন হবে কিনা। কারণ রোহিঙ্গারা নিজ দেশ মিয়ানমারে যে নাগরিক সুবিধা পায়নি তার চেয়ে শতগুণ সুযোগ-সুবিধা বাংলাদেশে পাচ্ছে। তারা এখন ভাত-কাপড়ের পাশাপাশি কথা বলা এমনকি আন্দোলন করারও সুযোগ পাচ্ছে। তারা ফেরত না যাওয়াটা স্থানীয়দের জন্য একটি অশনি-সংকেত। তবে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মো. আবুল কালাম জানিয়েছেন, এখনও সবকিছু শেষ হয়ে যায়নি। রোহিঙ্গারা স্বেচ্ছায় ফিরতে চাইলে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু হবে।

ক্যাম্পে ফিরছে পালিয়ে যাওয়া রোহিঙ্গারা : ফেরত যাওয়ার ভয়ে ক্যাম্প ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া রোহিঙ্গারা ক্যাম্পে ফিরতে শুরু করেছে। প্রত্যাবাসনের তালিকাভুক্ত জামতলি ক্যাম্পের রোহিঙ্গা হোছন আহাম্মদ (৪৫) জানান, প্রত্যাবাসনের তালিকাভুক্ত রোহিঙ্গারা ভয়ে ক্যাম্প ছেড়ে অন্যত্রে চলে গিয়েছিল। তারা রোববার থেকে আবার ক্যাম্পে ফিরতে শুরু করেছে। তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠাতে হলে নির্ধারিত তারিখের সপ্তাহখানেক আগে থেকে একটি স্থানে নিয়ে যেতে হবে। সেখানে তাদেরকে ফেরত যাওয়ার বিষয়ে উদ্বুদ্ধ করতে হবে।

বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে চুক্তি অনুযায়ী, ২ হাজার ২৬০ জন রোহিঙ্গার মধ্যে প্রথম দফায় বৃহস্পতিবার দেড়শ’ জনের নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের পরিকল্পনা ছিল।

স্থানীয় ইউপি সদস্য নুরুল আমিন জানান, রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত না যাওয়ার জন্য কান ভারি করেছে কিছু এনজিও। এসব এনজিওর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে প্রত্যাবাসন সম্ভব হবে না।

গত বছরের ২৫ আগস্টের পর রাখাইনে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর জাতিগত নিধনের মুখে ৭ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছেন। এর আগে থেকে আছে আরও ৪ লাখের অধিক রোহিঙ্গা। বর্তমানে ১১ লাখের অধিক রোহিঙ্গা উখিয়া-টেকনাফে বসবাস করছে।

ঘটনাপ্রবাহ : রোহিঙ্গা বর্বরতা

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
×