আয়কর মেলায় রেকর্ড পরিমাণ কর আদায়

রিটার্ন জমা নেয়ার ক্ষেত্রে কোনো গাফিলতি সহ্য করা হবে না-এনবিআর চেয়ারম্যান

  যুগান্তর রিপোর্ট ২০ নভেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

পরিমাণ

এবারের আয়কর মেলায় রেকর্ড পরিমাণ কর আদায় হয়েছে। অতীতের ৮ বারের মেলার তুলনায় রিটার্ন দাখিলের সংখ্যা, সেবাগ্রহীতার সংখ্যা ও নতুন ই-টিআইএনধারীর সংখ্যা ছাড়িয়ে গেছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

প্রাপ্ত তথ্যমতে, মেলায় আয়কর আদায় হয়েছে ২ হাজার ৪৬৮ কোটি টাকা, যা গত মেলার চেয়ে ১১ দশমিক ৩৫ শতাংশ বেশি। রিটার্ন জমা পড়েছে ৪ লাখ ৮৭ হাজার ৫৭৩টি, যা গতবারের চেয়ে ৪৫ দশমিক ৩৩ শতাংশ বেশি। করসংক্রান্ত সেবা নিয়েছেন ১৬ লাখ ৩৬ হাজার ২৬৬ জন, প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৩৯ দশমিক ৯০ শতাংশ। নতুন ই-টিআইএন নিয়েছেন ৩৯ হাজান ৭৪৩ জন, যা গত মেলার চেয়ে ৩৫ দশমিক ৮৫ শতাংশ বেশি।

সোমবার শেষ দিন মেলা ঘুরে দেখা গেছে, সকাল থেকে দলে দলে করদাতারা মেলায় প্রবেশ করছেন। বিকালের দিকে ভিড় বেশি ছিল। এদের বেশিরভাগই বাসা-অফিস থেকে রিটার্ন ফরম পূরণ করে আনেন। তবে স্থানস্বল্পতার কারণে অনেককে মেঝেতে বসে রিটার্ন পূরণ করতে দেখা গেছে। সবচেয়ে বেশি ভিড় ছিল, রিটার্ন জমার লাইনে। রিটার্ন জমা দিতে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়েছে। তারপরও হয়রানি ছাড়া রিটার্ন জমা দিতে পেরে সবার মধ্যেই ছিল খুশির আমেজ। করদাতার চাপ সামাল দিতে কর্মকর্তাদের হিমশিম খেতে হয়েছে। অনেকে আবার লম্বা লাইন দেখে ফেরত গেছেন। সাড়ে ৭টা পর্যন্ত রিটার্ন জমা নেয়া হয়।

কর অঞ্চল-১২ এর লাইনে রিটার্ন জমা দিতে এক ঘণ্টারও বেশি সময় অপেক্ষা করেন বেসরকারি চাকরিজীবী সেলিনা খাতুন। তিনি বলেন, গত বারের চেয়ে এবার রিটার্ন জমা দিতে বেশি সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে। মেলায় কর অঞ্চলগুলোর আরও বুথ বাড়ানো উচিত ছিল। তিনি আরও বলেন, মেলায় মানুষ আসে ঝামেলামুক্ত পরিবেশে রিটার্ন জমা দিতে। কিন্তু বুথসংখ্যা কম থাকায় হুড়োহুড়ি করতে হয়েছে। তারপরও ভালো লাগছে, অন্তত কর অঞ্চলের মতো একগাদা প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়নি।

এবারের মেলায় অনলাইনে রিটার্ন জমা দিয়েছেন ৩ হাজার ৭৭০ জন করদাতা? আর ই পেমেন্টে ১ হাজার ১৬০ জন করদাতা ১ কোটি ৪৮ হাজার ৬৫৮ টাকার কর জমা দিয়েছেন। সব মিলিয়ে সপ্তাহব্যাপী আয়কর মেলা ঘিরে সারাদেশের করদাতাদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা দেখা গেছে। ছিল উৎসবমুখর পরিবেশও।

সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, এবারের মেলায় রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। কর অঞ্চল ও সার্কেল অফিসেও করদাতারা একই পরিবেশে রিটার্ন দাখিল করবেন। আর রিটার্ন জমা নেয়ার ক্ষেত্রে কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর গাফিলতি সহ্য করা হবে না।

তিনি বলেন, আয়কর সপ্তাহ একটি সৃজনশীল উদ্যোগ। এবারও সেবা দেয়ার ক্ষেত্রে অতীতের প্রবণতা বজায় থাকবে? আগামী ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত রিটার্ন দাখিল করা যাবে। তিনি আরও বলেন, আয়কর মেলা শেষ হলেও ২২ থেকে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত সব কর অফিসে মেলার পরিবেশে মেলার মতই কর সেবা প্রদান করা হবে এবং করদাতারা রিটার্ন দাখিল করতে পারবেন। এ সময় নির্বাচনের পরে কর আদায় আরও বাড়বে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সমাপনী দিনে মেলা পরিদর্শনে আসেন এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল করিম, ড. মোহাম্মাদ আবদুল মজিদ এবং ড. নাসির উদ্দিন আহমেদ। সমাপনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আয়কর মেলার আহ্বায়ক জিয়াউদ্দিন মাহমুদসহ এনবিআরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

এবার রাজধানী ঢাকাসহ ৮টি বিভাগীয় শহরে ৭ দিন, ৫৬টি জেলা শহরে ৪ দিন, ৩২টি উপজেলায় ২ দিন এবং ৭০টি উপজেলায় ১ দিনব্যাপী আয়কর মেলা অনুষ্ঠিত হয়। ২০১০ সাল থেকে কর বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়াতে এবং জনগণের মধ্য থেকে করভীতি দূর করতে আয়কর মেলার আয়োজন করছে এনবিআর।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
×