ভাসানচরে রোহিঙ্গা স্থানান্তর

অতিরিক্ত ২৩৭ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব

তিন শর্তে বরাদ্দ বিবেচনার সুপারিশ * দেয়ার মতো পর্যাপ্ত অর্থ আছে কিনা খতিয়ে দেখবে কার্যক্রম বিভাগ

  হামিদ-উজ-জামান ০৩ ডিসেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ভাসানচরে রোহিঙ্গা স্থানান্তর
ভাসানচরে রোহিঙ্গা স্থানান্তর

নায়াখালীর ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের আবাসন নির্মাণে ‘আশ্রয়ণ-৩’ প্রকল্পে অতিরিক্ত বরাদ্দ প্রস্তাব করা হয়েছে। চলতি অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) প্রকল্পটির অনুকূলে বরাদ্দ ছিল ৪১৩ কোটি ৭০ লাখ টাকা।

এর আগে পুরো অর্থবছরের টাকা এক সঙ্গেই বরাদ্দ নেয়া হয়েছিল। এখন নতুন করে বরাদ্দের বাইরে বাড়তি বরাদ্দ হিসেবে চাওয়া হয়েছে ২৩৭ কোটি ১১ লাখ ২৫ হাজার টাকা। এ প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে ইতিমধ্যেই পরিকল্পনা কমিশনের কার্যক্রম বিভাগ থেকে কৃষি, পানিসম্পদ ও পল্লী প্রতিষ্ঠান বিভাগের মতামত চাওয়া হয়। তিন শর্তে বরাদ্দ দেয়ার পক্ষে মত দেয়া হলেও ‘বিশেষ প্রয়োজনে উন্নয়ন সহায়তা’ খাতে পর্যাপ্ত বরাদ্দ আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হবে।

জানতে চাইলে পরিকল্পনা বিভাগের সচিব মো. জিয়াউল ইসলাম রোববার যুগান্তরকে বলেন, প্রকল্পটি কৃষি সেক্টরের হওয়ায় কৃষি, পানিসম্পদ ও পল্লী প্রতিষ্ঠান বিভাগের কাছে মতামত চাওয়া হয়েছে। এটা স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই চাওয়া হয়ে থাকে। তাদের মতামত এখনও আমার হাতে আসেনি। যদি পর্যাপ্ত অর্থ থাকে তাহলে সরকারের অগ্রাধিকার প্রকল্প হিসেবে বরাদ্দ দেয়া হতে পারে। মতামতের চিঠিটি হাতে পেলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সূত্র জানায়, সম্প্রতি প্রকল্পটির বাস্তবায়ন যথাসময়ে শেষ করতে এডিপিতে জিওবি খাতে বরাদ্দের অতিরিক্ত হিসেবে ২৩৭ কোটি ১১ লাখ ২৫ হাজার টাকা ‘বিশেষ প্রয়োজনে উন্নয়ন সহায়তা’ খাত থেকে বরাদ্দ চায় প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সংস্থা। এ প্রেক্ষিতে ১১ নভেম্বর পরিকল্পনা কমিশনের কার্যক্রম বিভাগ থেকে মতামত চেয়ে কৃষি, পানিসম্পদ ও পল্লী প্রতিষ্ঠান বিভাগের কাছে চিঠি দেয়া হয়। রোববার মতামত জানিয়ে কার্যক্রম বিভাগে চিঠি দিয়েছে কৃষি, পানিসম্পদ ও পল্লী প্রতিষ্ঠান বিভাগ। এক্ষেত্রে তিনটি শর্তসাপেক্ষে বরাদ্দ দেয়ার পক্ষে মত দেয়া হয়। শর্তগুলো হচ্ছে- প্রকল্পে প্রকৃত খরচের হিসাব অনুযায়ী প্রস্তাবিত অর্থের প্রাপ্যতা এবং প্রকল্পের চলতি অর্থবছরের সময়ভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী প্রস্তাবিত অর্থের প্রয়োজনীয়তা নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়া বরাদ্দ করা অর্থ অবমুক্তি ও ব্যয়ের ক্ষেত্রে প্রকল্পের অনুমোদিত ডিপিপির অঙ্গভিত্তিক ও মোট ব্যয়সীমা অতিক্রম করা যাবে না। প্রকল্পের সকল ক্রয় বিদ্যমান পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন ও বিধিমালা যথাযথভাবে অনুসরণ করে সম্পাদন করতে হবে।

এর আগে চলতি অর্থবছরের বরাদ্দ দেয়া অর্থ প্রথম থেকে চতুর্থ কিস্তির ৪১৩ কোটি ৭০ লাখ টাকার পুরোটাই ছাড় দিয়েছিল পরিকল্পনা কমিশন। ২৬ আগস্ট কমিশনের কার্যক্রম বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত আদেশ জারি করা হয়। তারও আগে ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে অর্থছাড়ের অনুরোধ জানানো হয়েছিল।

সূত্র জানায়, আশ্রয়ণ-৩ (নেয়াখালী জেলার হাতিয়া থানাধীন চরঈশ্বর ইউনিয়নস্থ ভাসানচরে ১ লাখ বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিকদের আবাসন এবং দ্বীপের নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ) নামের এ প্রকল্পটি ২০১৭ সালের নভেম্বর থেকে ২০১৯ সালের নভেম্বরের মধ্যে বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এটি বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয় ২ হাজার ৩১২ কোটি ১৫ লাখ টাকা।

নোয়াখালী জেলার হাতিয়া থানাধীন চরঈশ্বর ইউনিয়নের ভাসানচরে এক লাখ বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিকদের বসবাসের উপযোগী পরিবেশ গড়ে তোলা এবং দ্বীপটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ করাই এ প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য।

প্রকল্পের মাধ্যমে প্রধান যেসব কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে সেগুলো হল- ভূমি উন্নয়ন ও শোর প্রোটেকশন ওয়ার্ক, বাঁধ নির্মাণ, ১ লাখ ৩ হাজার ২০০ মানুষের বসবাসের জন্য ১২০টি গুচ্ছগ্রামে ১ হাজার ৪৪০টি ব্যারাক হাউস ও ১২০টি শেল্টার স্টেশন নির্মাণ, উপাসনালয় নির্মাণ, দ্বীপটির নিরাপত্তার জন্য নৌ বাহিনীর অফিস ভবন ও বাসভবন, অভ্যন্তরীণ সড়ক, পানি নিষ্কাশন অবকাঠামো, নলকূপ ও পানি সরবরাহ অবকাঠামো নির্মাণ, পেরিমিটার ফেন্সিং ও ওয়াচ টাওয়ার নির্মাণ, বিভিন্ন যানবাহন ক্রয়, গুদাম ঘর, জ্বালানি ট্যাঙ্ক, হেলিপ্যাড, চ্যানেল মার্কিং ও মুরিং বয়, বোট ল্যান্ডিং সাইট, মোবাইল টাওয়ার, রাডার স্টেশন, সিসি টিভি, সোলার প্যানেল, জেনারেটর ও বৈদ্যুতিক সাব-স্টেশন ইত্যাদি নির্মাণ। শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ আবুল কালাম স্বাক্ষরিত সাম্প্রতিক এক সার-সংক্ষেপে বলা হয়েছে, এ পর্যন্ত (গত জুন পর্যন্ত) ১০ লাখ ৯৭ হাজার ৭৭১ জন রোহিঙ্গার বায়োমেট্রিক রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন হয়েছে। তাদের মধ্যে পুরুষ ৪৮ শতাংশ এবং মহিলা ৫২ শতাংশ, শিশু ৫৫ শতাংশ, এতিমের সংখ্যা ৩৬ হাজার ৩৭৩ জন।

ঘটনাপ্রবাহ : রোহিঙ্গা বর্বরতা

আরও
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×