হলি আর্টিজানে জঙ্গি হামলা মামলা

সাক্ষ্যতে ত্রুটি থাকায় বাদীকে রিকল করবে রাষ্ট্রপক্ষ

  যুগান্তর রিপোর্ট ০৫ ডিসেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

হলি আর্টিজানে জঙ্গি হামলা মামলা

গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলা মামলায় বাদী গুলশান থানার তৎকালীন এসআই রিপন কুমার দাসের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়েছে। মঙ্গলবার ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মজিবুুর রহমানের আদালতে তিনি এ সাক্ষ্য দেন।

সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে পরবর্তী সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য আগামী ৯ ডিসেম্বর দিন ধার্য করেছেন আদালত। তবে বাদীর সাক্ষ্য প্রদানে ত্রুটি থাকায় তাকে সাক্ষ্য দেয়ার জন্য রিকল করা হবে বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপক্ষ।

জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান কৌঁসুলি মো. আবদুল্লাহ আবু যুগান্তরকে বলেন, ২০১৬ সালের ১ জুলাই রাতে ওই হামলার ঘটনা ঘটে। ২ জুলাই অস্ত্রসহ ২৫ প্রকার আলামতের জব্দ তালিকা প্রস্তুত করেন বাদী। ৪ জুলাই রাতে তিনি মামলাটি করেন। জব্দ তালিকায় ত্রুটি থাকায় পরবর্তী সময়ে তদন্তকারী কর্মকর্তা ত্রুটি সংশোধনের জন্য আদালতে আবেদন করেছেন। রাষ্ট্রপক্ষ থেকে বাদীকে রিকল করে সে সংক্রান্ত সাক্ষ্য নেয়া হবে।

এদিন দুপুর সোয়া ১২টা থেকে আড়াইটা পর্যন্ত মামলার বদীকে জেরা করা হয়। আসামি রিগ্যান ও র‌্যাশের পক্ষে আইনজীবী ফারুক আহাম্মদ জেরায় বলেন, বাদীর প্রস্তুত করা জব্দ তালিকার মধ্যে পাঁচটি ৯এমএম পিস্তল উদ্ধারের কথা বলা হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে পাঁচটি পিস্তলের মধ্যে দুটি ছিল ৭ দশমিক ৬২ ক্যালিবারের, তিনটি ৯ এমএম ক্যালিবারের। আর একটি পিস্তলের হেমার ছিল না। এ ছাড়া জব্দ তালিকায় তিনটি একে ২২ মেশিনগান বলা হলেও তা ছিল মূলত একে ২২ বোরের রাইফেল। এ ছাড়া গুলিসংক্রান্ত ত্রুটিও রয়েছে।

মামলার আসামিরা হলেন- জাহাঙ্গীর আলম ওরফে রাজীব গান্ধী, রাকিবুল হাসান রিগ্যান, রাশেদুল ইসলাম ওরফে র‌্যাশ, সোহেল মাহফুজ, মিজানুর রহমান ওরফে বড় মিজান, হাদিসুর রহমান সাগর, শহীদুল ইসলাম খালেদ ও মামুনুর রশিদ রিপন। আসামিদের মধ্যে প্রথম ছয়জন কারাগারে ও শেষের দু’জন পলাতক। কারাগারে থাকা আসামিদের এদিন আদালতে হাজির করা হয়।

আদালত সূত্র জানায়, এর আগে ৩ ডিসেম্বর এ মামলায় সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়। গত ২৬ নভেম্বর এ মামলায় আট আসামির বিরুদ্ধে চার্জ (অভিযোগ) গঠন করেন ট্রাইব্যুনাল। গত ৮ আগস্ট এ মামলার চার্জশিট (অভিযোগপত্র) গ্রহণ করেন ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে পলাতক দুই আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জরি করা হয়। আর মামলায় দুই বছর ধরে কারাবন্দি নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির সাবেক শিক্ষক হাসনাত করিমকে অব্যাহতি দেয়া হয়।

গত ২৬ জুলাই চাঞ্চল্যকর এ মামলাটি বদলির আদেশ দেন ঢাকার চিফ মেট্রোপলিন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) সাইফুজ্জামান হিরো। ২৯ জুলাই মামলার নথিপত্র ট্রাইব্যুনালে আসে। ৩০ জুলাই ট্রাইব্যুনাল এ মামলার চার্জশিট গ্রহণের জন্য এ দিন ধার্য করেন।

জঙ্গি হামলায় জড়িত ২১ জনকে চিহ্নিত করে জীবিত আটজনের বিরুদ্ধে চলতি মাসের ২৩ জুলাই আদালতে এ চার্জশিট দাখিল করা হয়। তদন্ত শেষে পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের (সিটিটিসি) পরিদর্শক হুমায়ুন কবীর এ চার্জশিট দাখিল করেন। ঘটনায় জড়িত ‘চিহ্নিত’ বাকি ১৩ জন এরই মধ্যে বিভিন্ন অভিযানে নিহত হওয়ায় তাদের নাম চার্জশিট থেকে বাদ দেয়া হয়।

গুলশান হামলায় জড়িতদের মধ্যে নিহত ১৩ জনের পাঁচজন নিহত হয় হলি আর্টিজান হামলায় অভিযানের সময়। এরা হচ্ছে- রোহান ইবনে ইমতিয়াজ, মীর সামেহ মোবাশ্বের, নিবরাস ইসলাম, শফিকুল ইসলাম ওরফে উজ্জ্বল ও খায়রুল ইসলাম ওরফে পায়েল। বাকি আটজন বিভিন্ন জঙ্গি আস্তানায় অভিযানে নিহত হয়। ২০১৬ সালের ১ জুলাই গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে দুই পুলিশসহ দেশি-বিদেশি ২২ জনকে হত্যা করে জঙ্গিরা। এ সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যৌথ অভিযান ‘অপারেশন থান্ডারবোল্ডে’ পাঁচ জঙ্গি নিহত হয়। অভিযানে এক জাপানি ও দু’জন শ্রীলঙ্কানসহ ১৩ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। ওই ঘটনায় ৪ জুলাই গুলশান থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলাটি করে পুলিশ।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×