প্লট-ফ্ল্যাটের রেজিস্ট্রেশন কর কমতে পারে

এনবিআর-রিহ্যাব ঐকমত্য

  সাদ্দাম হোসেন ইমরান ০৯ ডিসেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

প্লট-ফ্ল্যাটের রেজিস্ট্রেশন কর কমতে পারে

আগামী বছরের শুরুতে প্লট-ফ্ল্যাটের রেজিস্ট্রেশন কর কমানো হতে পারে। একই সঙ্গে ৫ বছরের পুরনো ফ্ল্যাট পুনরায় বিক্রির ওপর রেজিস্ট্রেশন কর মওকুফ করা হতে পারে।

২৬ নভেম্বর জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এনবিআর-রিহ্যাবের ওয়ার্কিং কমিটির সভায় এ ব্যাপারে উভয়পক্ষই ঐকমত্যে পৌঁছেছে।

সভায় সভাপতিত্ব করেন এনবিআরের মূসক নীতির সদস্য রেজাউল হাসান। এতে উপস্থিত ছিলেন রিহ্যাবের সভাপতি আলমগীর শামসুল আলামিন, সহসভাপতি লিয়াকত আলী ভূঁইয়া, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব ড. মনিরুল হুদা ও এফবিসিসিআই প্রতিনিধি।

এ ব্যাপারে এনবিআর-রিহ্যাব ওয়ার্কিং কমিটির সদস্য ও রিহ্যাবের সহসভাপতি লিয়াকত আলী ভূঁইয়া বলেন, প্রতি বছর বাজেটের আগে রিহ্যাব এনবিআরে দাবি-দাওয়া উত্থাপন করলেও সময়ের অভাবে সেগুলো এনবিআর মূল্যায়ন করতে পারে না।

এ কারণে আবাসন খাতের সমস্যা সমাধানও হচ্ছে না। পরবর্তীকালে এনবিআর চেয়ারম্যানের নির্দেশে আবাসন খাতের সমস্যা চিহ্নিত করতে এনবিআর-রিহ্যাব সদস্যদের নিয়ে একটি ওয়ার্কিং গ্র“প গঠন করা হয়।

এখন পর্যন্ত কমিটি দুটি বৈঠক করেছে। বৈঠকে রিহ্যাবের পক্ষ থেকে রেজিস্ট্রেশন কর কমাতে বলা হয়েছে এবং এর যৌক্তিকতা তুলে ধরা হয়েছে। এনবিআরের কর্মকর্তারা ইতিবাচক সাড়া দিয়েছেন। আগামী বছরের শুরুতে প্লট-ফ্ল্যাটের রেজিস্ট্রেশন কর কমানোর সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে আশা করছি।

সভায় রিহ্যাব সভাপতি বলেন, রেজিস্ট্রেশন ব্যয় অত্যধিক হওয়ায় ফ্ল্যাট-প্লটের ক্রেতারা রেজিস্ট্রেশন করায় আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন। এছাড়া জমির মৌজা মূল্য বৃদ্ধির কারণে জমির রেজিস্ট্রেশন ব্যয় বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে সরকার এ খাত থেকে যথাযথ রাজস্ব প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

পুরনো গাড়ি ক্রয়-বিক্রয়ের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, পুরনো গাড়ি ক্রয়ে নতুন করে ট্যাক্স দিতে হয় না। অথচ পুরনো ফ্ল্যাট বিক্রয়ের ক্ষেত্রে নতুন ফ্ল্যাটের মতো ট্যাক্স দিতে হয়। একই পণ্যের ওপর দু’বার করারোপ, কর আইনের পরিপন্থী। তাই পুরনো ফ্ল্যাট বিক্রয়ের ওপর কর আদায় অযৌক্তিক। কর কমিয়ে ফ্ল্যাটের সেকেন্ডারি বাজার চালু করতে পারলে একদিকে আবাসন খাত যেমন এগিয়ে যাবে, তেমনি সরকারের রাজস্ব আয়ও বহুলাংশে বৃদ্ধি পাবে। তিনি প্রস্তাব দেন, যেসব ফ্ল্যাট প্রথম বিক্রয়ের পর ৫ বছরের মধ্যে পুনরায় বিক্রি হবে, কেবল সেসব ফ্ল্যাট রেজিস্ট্রেশনের ক্ষেত্রে সাড়ে ৩ শতাংশ হারে করারোপ করা দরকার।

প্রসঙ্গত, বর্তমানে প্লট ও ফ্ল্যাট রেজিস্ট্রেশন করতে ১৪ থেকে ১৬ শতাংশ পর্যন্ত কর দিতে হচ্ছে। এর মধ্যে গেইন ট্যাক্স ৪ শতাংশ, স্ট্যাম্প ফি ৩ শতাংশ, রেজিস্ট্রেশন ফি ২ শতাংশ, স্থানীয় সরকার কর ২ শতাংশ ও মূল্য সংযোজন কর (মূসক) ৩ শতাংশ।

এছাড়া ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে ভ্যাট গোয়েন্দার অডিটের ব্যাপারে আপত্তি তোলা হয়। সভায় বক্তারা বলেন, সম্প্রতি বিভিন্ন সরবরাহকারী ও ভেন্ডারদের কাছ থেকে ভ্যাট ও উৎসে কর সংগ্রহের জন্য ডেভেলপারদের সংগ্রহকারী হিসেবে চিহ্নিত করে একতরফাভাবে দায়িত্ব দিয়ে বিভিন্নভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করা হচ্ছে।

ক্ষেত্রবিশেষে এনবিআর ডেভেলপার কোম্পানি পরিদর্শন করে কাগজপত্র জব্দ করে নিয়ে আসছে। এতে আতঙ্কের সৃষ্টি হচ্ছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ডেভেলপারদের সংগ্রহকারীর দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়া প্রয়োজন।

কারণ অধিকাংশ ভবন নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান নগদ টাকায় নির্মাণসামগ্রী কিনে থাকে, তাই ভ্যাট ও উৎসে কর সংগ্রহের দায়িত্ব পালন সম্ভব হয় না। তাছাড়া অনেক আইটেমের সরবরাহকারী ব্যক্তি, প্রাতিষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করে না। এ ধরনের ভেন্ডরদের কাছ থেকে কাগজপত্র সংগ্রহ করা যায় না।

ওয়ার্কিং কমিটিতে থাকা এনবিআরের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বৈঠকে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। রিহ্যাব তাদের সমস্যাগুলো বলেছে। সব সমস্যা এনবিআর সংক্রান্ত নয়। সরকারের অন্য মন্ত্রণালয়ও এর সঙ্গে জড়িত। যেগুলো কর সংক্রান্ত সমস্যা সেগুলো সমাধানে এনবিআর চেয়ারম্যানের নির্দেশনা চাওয়া হবে। বাকিগুলো সমাধানে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেয়া হবে।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×