নতুন এমপিদের শপথ

প্রত্যাবাসনের আশায় বুক বেঁধেছে রোহিঙ্গারা

প্রকাশ : ০৪ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  উখিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি

মিয়ানমারে রাখাইনে রোহিঙ্গা নির্যাতনের ১৫ মাস পার হতে চলেছে। এ দেশে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের ফেরত নেয়ার ব্যাপারে বাংলাদেশ-মিয়ানমার বেশ কয়েকবার উদ্যোগ নিলেও বিভিন্ন জটিলতায় তা বিলম্বিত হয়।

ব্যাপক প্রস্তুতির মধ্য দিয়ে সর্বশেষ ১৫ নভেম্বর রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের জন্য দিনক্ষণ ঠিক করেছিল দুই দেশ, কিন্তু প্রত্যাবাসনের তালিকাভুক্ত রোহিঙ্গারা স্বদেশে ফিরতে অস্বীকৃতি জানানোয় রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন বাধাগ্রস্ত হয়। বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচন সামনে থাকায় প্রত্যাবাসনের জন্য তেমন কোনো তোড়জোড় করেনি। যেহেতু একাদশ সংসদ নির্বাচনের পর বৃহস্পতিবার নতুন সংসদ সদস্যদের শপথ সম্পন্ন হয়েছে, তাই এখন রোহিঙ্গারা নতুন করে প্রত্যাবাসন নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

কুতুপালং লম্বাশিয়া ১নং ক্যাম্পের মাঝি কলিম উল্লাহ জানান, মিয়ানমার থেকে পালিয়ে এসে বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের মাঝে প্রত্যাবাসন নিয়ে নতুন করে আবারও আশার সঞ্চার সৃষ্টি হয়েছে। কারণ বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার পাশাপাশি সরকারের এমপিরা বৃহস্পতিবার শপথ নিয়েছেন।

মধুরছড়া ক্যাম্পের আরেক রোহিঙ্গা সেলিম উদ্দিন বলেন, নতুন সরকারের কাছে আমাদের প্রত্যাশা, যেন দ্রুত সময়ের মধ্যে মিয়ানমারে ফেরত যেতে পারি। একই ক্যাম্পের নুর বেগম নামের এক বিধবা জানান, গত বছরের ২৪ আগস্ট তার স্বামী আবদুর রশিদকে মিয়ানমার সেনাবাহিনী গুলি করে হত্যা করে। দুই ছেলেমেয়েকে নিয়ে তিনি প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশে চলে এলেও তার কোনো আত্মীয়স্বজনের এখনও দেখা পায়নি।

তার চিন্তা, কখন মিয়ানমারে ফেরত যেতে পারবেন। স্বদেশে ফিরতে অধীর আগ্রহে আছেন, জানিয়েছেন তিনি। থাইংখালী তাজনিমারখোলা রোহিঙ্গা ক্যাম্পের হেড মাঝি মো. আলী জানান, আমরা মিয়ানমারে ফেরত যেতে চাই, তাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে আমাদের দাবি, মিয়ানমারে উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টির পাশাপাশি রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করার।

প্রত্যাবাসনের ব্যাপারে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মো. আবুল কালাম সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, জাতীয় নির্বাচনের পরেই রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের ব্যাপারে মিয়ানমারের সঙ্গে আবারও আলোচনা করা হবে। এখন রোহিঙ্গারা সেই আশায় বুক বেঁধেছে।