ভিকারুননিসায় ভারপ্রাপ্ত দিয়ে চলছে এক দশক

অধ্যক্ষ নিয়োগ ঠেকাতে তৎপর স্বার্থান্বেষী মহল

  যুগান্তর রিপোর্ট ০৭ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

অধ্যক্ষ নিয়োগ ঠেকাতে তৎপর স্বার্থান্বেষী মহল

ভিকারুননিসা নূন স্কুল ও কলেজে অধ্যক্ষ নিয়োগ বন্ধে উঠেপড়ে লেগেছে স্বার্থান্বেষী মহল। বিগত প্রায় ১০ বছর ধরে এ প্রতিষ্ঠানে পূর্ণকালীন কোনো অধ্যক্ষ নেই।

এ কারণে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি তদন্ত কমিটির সুপারিশের আলোকে মাসখানেক আগে অধ্যক্ষ নিয়োগে বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়। এরপরই নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধে সক্রিয় হয়ে উঠেছে ওই চক্রটি।

তারা এ ব্যাপারে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে লিখিত অভিযোগও করেছে। তবে প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনে স্থায়ী অধ্যক্ষ নিয়োগ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে গভর্নিং বডির সভাপতি গোলাম আশরাফ তালুকদার জানিয়েছেন।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব জাভেদ আহমেদ রোববার রাতে যুগান্তরকে বলেন, ২০১৮ সালের এমপিও নির্দেশিকার একটি ধারার অধিকতর ব্যাখ্যার প্রয়োজনে অধ্যক্ষ নিয়োগ কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। কিন্তু সেই ধারাটি সংশোধনের কাজ চলছে।

মঙ্গলবার (আগামীকাল) এ নিয়ে বৈঠকও আছে। আশা করছি, শিগগিরই সমস্যার সমাধান হবে। তিনি বলেন, এ কারণে ভিকারুননিসায় অধ্যক্ষ নিয়োগের যে উদ্যোগ আছে, সেটি চলমান থাকতে কোনো বাধা নেই। একই বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ীই প্রতিষ্ঠানটি অধ্যক্ষ নিয়োগ করতে পারবে।

৩ ডিসেম্বর আত্মহত্যা করে ভিকারুননিসা নূন স্কুল ও কলেজে ছাত্রী অরিত্রী অধিকারী। ওই ঘটনায় গড়ে ওঠা ছাত্রী আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে তদন্ত কমিটি গঠন করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের (মাউশি) ঢাকা অঞ্চলের পরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ ইউসুফের নেতৃত্বাধীন ওই কমিটি যেসব তথ্যানুসন্ধান করে তার মধ্যে একটি হচ্ছে রহস্যজনক কারণে প্রতিষ্ঠানটিতে বছরের পর বছর স্থায়ী অধ্যক্ষ নিয়োগ বন্ধ রাখা।

কমিটির মতে, স্থায়ী অধ্যক্ষ থাকলে প্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠাসহ সমস্যা সমাধান সহজ হয়। অধ্যাপক ইউসুফ যুগান্তরকে বলেন, তদন্তে তারা দেখেছেন, প্রতিষ্ঠানটিতে নানা চক্র আছে। এর মধ্যে যারা ভর্তি বাণিজ্য, কেনাকাটা বাণিজ্যসহ নানা অপকর্ম করে থাকে, তারাই স্থায়ী অধ্যক্ষ নিয়োগ করে না। কেননা অস্থায়ী অধ্যক্ষকে চাপের মুখে কাজ করানো কঠিন।

তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন বাস্তবায়নে পাঠানোর পর গভর্নিং বডি অরিত্রী আত্মহত্যার ঘটনায় সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষসহ তিন শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করে। ওই প্রতিবেদন সুপারিশ অনুযায়ীই ৯ ডিসেম্বর স্থায়ী অধ্যক্ষ নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়।

১ জানুয়ারি আবেদন কার্যক্রম শেষ হয়। নিয়োগপ্রত্যাশী ১৬ প্রার্থীর আবেদন জমা পড়েছে। এর মধ্যে এই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছয়জন প্রার্থী আবেদন করেছেন। যার মধ্যে বিদায়ী ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষও আছেন।

সে কারণে ১ জানুয়ারি গভর্নিং বডির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নতুন করে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব নেয়া হাসিনা বেগমও পদত্যাগ করেছেন। তার স্থলে ৫ জানুয়ারি থেকে কেকা রায় চৌধুরী ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করছেন।

প্রতিষ্ঠানের একজন শিক্ষক প্রতিনিধি যুগান্তরকে বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের তিন সপ্তাহের মাথায় ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ পূর্ণকালীন পদের জন্য আবেদনকারী হওয়ায় নিয়ম অনুযায়ী সরে দাঁড়িয়েছেন। কিন্তু স্থায়ী নিয়োগ বন্ধে এবং গভর্নিং বডি ভাঙতে একটি মহল উঠেপড়ে লেগেছে। তবে প্রতিষ্ঠানের সাধারণ শিক্ষকরা ওই প্রক্রিয়ার বিরোধী। ওই মহলটি বিদায়ী ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষকেও রহস্যজনক কারণে বহাল রাখতে চায়। এক্ষেত্রে তাকে স্বপদে বহাল রেখেই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করারও পক্ষপাতী।

নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের আইন উপদেষ্টা মিজানুর রহমান বলেন, আবেদনকারী কোনো প্রার্থী স্বপদে বহাল থাকতে পারবেন না। এ সংক্রান্ত আদালতের একটি নির্দেশনা রয়েছে। নির্দেশনায় বলা হয়েছে- চাকরিপ্রত্যাশী আবেদনকারী নিয়োগ কমিটিতে থাকতে পারবেন না। সে মোতাবেক কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক নিজ পদে বহাল থেকে আবেদন করলে তাকে সরে যেতে হবে। কারণ তিনি হবেন নিয়োগ বোর্ডের সদস্য সচিব। নিজেই নিজের নিয়োগ বোর্ডের সদস্য হতে পারেন না।

ঘটনাপ্রবাহ : ভিকারুননিসা ছাত্রী অরিত্রির আত্মহত্যা

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×