চট্টগ্রামে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণকাজ শুরু

নগরী হবে যানজটমুক্ত ও বিদেশি বিনিয়োগবান্ধব

  চট্টগ্রাম ব্যুরো ১২ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

নগরী হবে যানজটমুক্ত ও বিদেশি বিনিয়োগবান্ধব
টাইগার পাস মোড়, চট্টগ্রাম

চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (চউক) এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ প্রকল্পের কাজ শুরু করেছে। প্রাথমিক পর্যায়ে টেস্ট ফাইলিংসহ আনুষঙ্গিক কাজ শুরু হয়েছে। দু-এক মাসের মধ্যে মূল নির্মাণকাজ শুরু করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা।

এরই মধ্যে প্রকল্পের ঠিকাদার নিয়োগ প্রক্রিয়াও সম্পন্ন হয়েছে। একাধিক ব্লকে বিভক্ত করে এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণকাজ করা হবে। প্রথম দফায় কাজ করা হবে সল্টগোলা থেকে সিমেন্ট ক্রসিং পর্যন্ত।

এরই মধ্যে ওই এলাকায় কয়েকটি স্থানে টিনের বেড়া দিয়ে প্রাথমিক কাজ শুরু করেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে যানজটমুক্ত চট্টগ্রাম নগরী গড়ে ওঠার পাশাপাশি বিদেশি বিনিয়োগ বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে, যা জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।

চউক সূত্রমতে, চট্টগ্রাম মহানগরীর শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সড়কে দীর্ঘস্থায়ী যানজট নিত্যঘটনা। বিশেষ করে রফতানি প্রক্রিয়াজাতকরণ অঞ্চলের (ইপিজেড) আশপাশের এলাকায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটের কবলে পড়তে হয়। ভোগান্তিতে পড়েন এলাকাবাসী ও হাজার হাজার পোশাক শিল্পের শ্রমিক।

এছাড়া বিমানের যাত্রীদের যাত্রা বাতিল হওয়ার ঘটনা নিত্যদিনের। মূলত এসব বিবেচনায় চউক লালখান বাজার থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ প্রকল্প হাতে নিয়ে তা বাস্তবায়নে উদ্যোগী হয়েছে।

সেই ধারাবাহিকতায় বিভিন্ন দাফতরিক ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষে প্রকল্পের অবকাঠামো নির্মাণকাজ শুরু করা হচ্ছে। ২০১৭ সালের অক্টোবরে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্প একনেকে অনুমোদন দেয়া হয়েছে। প্রকল্পের বাস্তবায়ন ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ হাজার ২৫০ কোটি টাকা। বাস্তবায়নের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে ২০২০ সালের জুন পর্যন্ত।

চউকের প্রধান প্রকৌশলী কাজী হাসান বিন শামস বলেন, আমরা প্রাথমিকভাবে কাজ শুরু করেছি। এখন চলছে টেস্ট ফাইলিং। টেস্ট ফাইলিং শেষে পরবর্তী কাজে হাত দেয়া হবে।

নির্মাণকাজ চলমান থাকা অবস্থায় নগরবাসীর দুর্ভোগ যাতে না বাড়ে সেজন্য একাধিক ব্লকে ভাগ করে কাজ করা হবে। পাশাপাশি যানবাহন ও পণ্যবাহী পরিবহন চলাচল স্বাভাবিক রাখার জন্য বিকল্প সড়ক হিসেবে আউটার রিং রোডটিও খুলে দেয়া হবে দ্রুততম সময়ের মধ্যে।

প্রথমে নগরীর মুরাদপুর থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের উদ্যোগ নেয় চউক। পরে প্রকল্পের ডিজাইন পরিবর্তন করে লালখান বাজার থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত ১৬ দশমিক ৫ কিলোমিটার প্রকল্পের দৈর্ঘ্য নির্ধারণ করা হয়।

প্রকল্পটি এরই মধ্যে একনেকের অনুমোদনও পেয়েছে। এরপর ঠিকাদার নিয়োগের দরপত্র আহ্বান করা হলে ১০টি প্রতিষ্ঠান দরপত্রে অংশ নেয়। কারিগরি বাছাইয়ে যোগ্য ছয় প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সর্বনিু দরদাতা মনোনীত হয় ম্যাক্স র‌্যানকিন জেভি। ম্যাক্স র‌্যানকিন জেভি ৩ হাজার ২৫০ কোটি ৫৬ লাখ ১২ হাজার ১১৩ টাকা দর উল্লেখ করে।

চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম যুগান্তরকে বলেন, আমরা এরই মধ্যে প্রকল্পের কাজ শুরু করে দিয়েছি। প্রকল্পটি মূলত নেয়া হয়েছে যানজটমুক্ত নগরী গড়ে তোলার লক্ষ্যে।

শুধু যানজটের কারণে চট্টগ্রামে বিদেশি বিনিয়োগ দিন দিন কমছে। বিদেশি ব্যবসায়ীরা বিমানবন্দর থেকে শহরে আসতে যে যানজটে আটকা পড়ে দুই থেকে তিন ঘণ্টা বা আরও বেশি সময়।

ফলে তারা চট্টগ্রামে বিনিয়োগে অনাগ্রহী হয়ে পড়ছে দিন দিন। ফলে প্রকল্পটি বাস্তবায়নে আমরা জোর দিচ্ছি। আশা করছি, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×