খুলনা জেলা কারাগার

ধারণক্ষমতার তিনগুণ বন্দি ঠাঁই পরিত্যক্ত গোডাউনে

  নূর ইসলাম রকি, খুলনা ব্যুরো ১২ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ধারণক্ষমতার তিনগুণ বন্দি ঠাঁই পরিত্যক্ত গোডাউনে

খুলনা জেলা কারাগারে এখন ধারণক্ষমতার তিনগুণেরও বেশি বন্দি রয়েছেন। তারা নিদারুণ কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন। টয়লেট, গোসল ও ঘুমানোসহ প্রতিটি ক্ষেত্রেই সংকট।

এই শীতে কম্বল ভাগাভাগি করে রাত কাটাচ্ছেন তারা। জায়গার সংকটের কারণে পরিত্যক্ত (কিশোর) ওয়ার্ড ও কম্বলের গোডাউনে বন্দিদের থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। জেলা কারাগার থেকে জামিনে বেরিয়ে আসা একাধিক আসামির ভাষ্য থেকে এই তথ্য বেরিয়ে এসেছে।

জানা যায়, জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ডিসেম্বরে ৫ শতাধিক বন্দি কারাগারে প্রবেশ করে। এ কারণে কারাগারে ধারণক্ষমতার তুলনায় বন্দি অনেক বেশি। কারাগারটির ধারণক্ষমতা ৬০৮ জন। বুধবার বিকাল পর্যন্ত কারাগারে ১৭১৩ জন পুরুষ ও ৬০ জন মহিলাসহ বন্দির সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৭৭৩ জন।

বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা জানান, ডিসেম্বরে আটক হলেও তাদের জামিন হয়নি। তাদের নেতাকর্মী ও আত্মীয়স্বজন যারা বন্দি আছেন, এই শীতে তারা খুবই কষ্টের মধ্যে আছেন। ধারণক্ষমতা থেকে বন্দি বেশি থাকায় পরিত্যক্ত (কিশোর) ওয়ার্ড, ৪ তলার কম্বলের গোডাউনে থাকার ব্যবস্থা করেছে কর্তৃপক্ষ।

সম্প্রতি কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়া জেলা যুবদলের তথ্য ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক মো. সোহেল রানা তুহিন জানান, তিনি ভৈরব-২ ওয়ার্ডে থাকতেন। ওয়ার্ডটির ধারণক্ষমতা ৮৪ জনের হলেও তারা ১২৮ জন থাকতেন। ২ জন মিলে ১টি কম্বল ব্যবহার করতেন। টয়লেটের জন্য দীর্ঘ লাইন দিতে হয়। গোসল করতে পানির সমস্যা।

কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, বন্দিদের চাপ নিয়ন্ত্রণের জন্য যথোপযোগী ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। সম্প্রতি রূপসার ৪ তলা ওয়ার্ডটি সংস্কার করে ১শ’ জন এবং পরিত্যক্ত একটি গোডাউনে (কিশোর) ওয়ার্ডে ১শ’ জন বন্দির থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। খাবার রয়েছে পর্যাপ্ত। পানিরও কোনো সমস্যা নেই। কম্বল পর্যাপ্ত রয়েছে।

খুলনা কারাগারের জেলার জান্নাত-উল ফরহাদ বলেন, ‘বন্দিদের চাপ বেশি থাকলেও আমরা সেটি কাটিয়ে তোলার জন্য চেষ্টা করে যাচ্ছি। বন্দিদের খাবার, গোসল, টয়লেট, কম্বল ও থাকার সমস্যা সমাধানের জন্য সব ধরনের সহযোগিতা করা হচ্ছে। এমনকি নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে।

আগে ১৬০ জন কর্মকর্তা থাকলেও বর্তমানে ২০৮ জন রয়েছেন। দাঙ্গা পুলিশের সংখ্যা দ্বিগুণ করা হয়েছে।’ জানতে চাইলে খুলনার পুলিশ সুপার মো. কামরুল ইসলাম বলেন, পর্যাপ্ত কম্বল থাকলেও বন্দিরা সেটি নিতে চায় না।

তারা বাইরে থেকে কম্বল নিতে চায়। ১ জন বন্দির জন্য ৩টি কম্বল দেয়ার ক্ষমতা রয়েছে। তিনি বলেন, কিশোর ওয়ার্ডটি অনেক পুরনো। তাই হয়তো সেটিকে বন্দিরা গোডাউন মনে করছে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
×