কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত

নতুন করে চলছে অবৈধ দখল প্রতিযোগিতা

নীরব প্রশাসন

  শফিউল্লাহ শফি, কক্সবাজার ১৬ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

মহোৎসব

কলাতলীর সুগন্ধা পয়েন্টে সমুদ্রসৈকতের জমি দখলের মহোৎসব চলছে। এ কার্যক্রম কোনোভাবেই থামানো যাচ্ছে না। দখলদারদের চারবার উচ্ছেদ নোটিশ দিয়েও কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কউক) কাজের কাজ কিছুই করতে পারেনি।

উল্টো দখলদারচক্র মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করে কউককে বেকায়দায় ফেলেছে। অবৈধ দখলদাররা বহালতবিয়তে থাকায় নতুন করে দখলের প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। রাতদিন অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করা হচ্ছে।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আশরাফুল আফসার যুগান্তরকে বলেন, অবৈধ দখল উচ্ছেদে জেলা প্রশাসনের ধারাবাহিক অভিযান চলছে। তবে সুগন্ধা পয়েন্টের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে সব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান শুরু করা হবে।

সূত্র জানায়, উচ্চ আদালতের স্থিতাবস্থা জারির পরও ভূমিদস্যু সিন্ডিকেটের দখল কার্যক্রম থেমে নেই। জেলা প্রশাসনের গুটিকয়েক অসাধু কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতাদের মাসোহারা দিয়ে সরকারি জমিতে অবৈধ দখল কার্যক্রম চালানোর অভিযোগ উঠেছে। সৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টে শতকোটি টাকার সরকারি জমিতে গড়ে ওঠেছে অর্ধশতাধিক টিনের অবৈধ স্থাপনা। এর আগে আংশিক স্থাপনা উচ্ছেদ করে ভ্রাম্যমাণ আদালত অবশিষ্ট অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে নিতে দখলদারদের নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে নেয়া তো দূরের কথা, যে পরিমাণ উচ্ছেদ করা হয়েছিল সেটার চারগুণ আবার দখল করে নিয়েছে চক্রটি।

জানা গেছে, কয়েক মাস ধরে উচ্ছেদ অভিযান না চালানোয় টিনের তৈরি দোকানগুলো বর্তমানে পাকা দালানের দোকানে রূপ দেয়ার প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। সোমবার সরেজমিন দেখা গেছে, সুগন্ধা মোড় থেকে সুগন্ধা বিচ পয়েন্ট পর্যন্ত অবৈধভাবে গড়ে ওঠা টিনের দোকানগুলো পাকা দালানে তৈরির কাজ জোরেশোরে চলছে। এরই মধ্যে ইট-পাথর দিয়ে ২০টির মতো দোকান নির্মাণের কাজ শেষ হয়েছে। এমনকি আরসিসি পিলার দিয়েও দোকান নির্মাণ করা হচ্ছে। সরকারি জমিতে প্রকাশ্যে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ হলেও নীরব ভূমিকা পালন করছে প্রশাসন।

স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জমি জবরদখলের সঙ্গে সিন্ডিকেটের সদস্যরা জড়িত। সিন্ডিকেট সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন- সুগন্ধা মার্কেটের সাধারণ সম্পাদক মুফিজ, কলাতলীর নুর মোহাম্মদ, রবিন, তার বড় ভাই নাছির, হাজী জসিম, আবদুর রহমান, মো. হানিফ, আরিফ, বাবু, আলম, জয়নাল, সোহেল, সৈকত, আল্লাহর দান হোটেলের মালিক মনির, নয়ন, কিবরিয়া, ইয়াহিয়া, ভারুয়াখালীর খালেক, মো. মেহেদী, হালিম, হামিদ সওদাগর, ছোট হামিদ, সাদেক, সাহেদ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক ব্যবসায়ী বলেন, অবৈধভাবে নির্মিত তিনটি দোকান পাঁচ মাস আগে সিলগালা করে দিয়েছিল সদ্য শাস্তিমূলক বদলি হওয়া সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন।

এ তিনটি দোকানের অবৈধ দখলদার ছিলেন সাহেদ, সাদেক ও নয়ন। কিন্তু কী কারণে দোকানগুলো সিলগালা করা হয়েছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন ব্যবসায়ীরা। সুগন্ধা মার্কেটের সাধারণ সম্পাদক মুফিজ বলেন, কিছুদিন আগে মার্কেটের পশ্চিম পাশে উচ্ছেদ করা হয়েছিল। কিন্তু উচ্ছেদ বন্ধে ব্যবসায়ীরা রিট করেন।

উচ্ছেদ বন্ধে করা রিটের সময় বৃদ্ধি করায় এখন উচ্ছেদ করার কোনো সুযোগ নেই। তবে সদর উপজেলার নবাগত নির্বাহী অফিসার এএইচএম মাহফুজুর রহমান বলেন, সরকারি জায়গায় অবৈধ স্থাপনা থাকতে পারবে না। এ বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে কথা বলে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণের কথাও জানান তিনি।

জানা গেছে, ২০১০ সাল থেকে সরকার প্লটের বরাদ্দ বাতিল করে জমি নিয়ন্ত্রণে নেয়। এরপর প্লটের লিজ গ্রহীতারা রিট করলে উচ্চ আদালত স্থিতাবস্থা জারি করেন। বর্তমানে প্রশাসনের কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে ম্যানেজ করে দখলদার চক্রটি প্রায় শতকোটি টাকা মূল্যের জমি হাতিয়ে নিতে তৎপরতা শুরু করেছে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×