আন্তর্জাতিক কুরিয়ার সর্ভিসের পার্সেলে গোয়েন্দা নজরদারি

চোরাচালানে জড়িত দশ কর্মকর্তা

অ্যারামেক্সের এক কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ * তালিকায় আছেন ডাক বিভাগের চারজন

  সৈয়দ আতিক ১৬ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

চোরাচালানে জড়িত দশ কর্মকর্তা

আন্তর্জাতিক কুরিয়ার সার্ভিসের পার্সেল শাখার ১০ কর্মকর্তার ওপর কঠোর নজরদারি করছেন গোয়েন্দারা। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে চোরাচালানের।

তারা নানা কৌশলে পার্সেলের মাধ্যমে মাদকসামগ্রী চোরাচালান করে। কুরিয়ার সার্ভিসে মাদকের পাশাপাশি ক্ষুদ্র অস্ত্র এবং গোলাবারুদ গোপনে কোথাও পাঠানো হচ্ছে কি না, তা-ও খতিয়ে দেখছেন গোয়েন্দারা।

কারণ এর আগে পার্সেলের ভেতরে ক্ষুদ্র অস্ত্র একস্থান থেকে আরেক স্থানে পাঠানো হয়েছিল। এ ধরনের দুটি সংঘবদ্ধ চক্রের বিষয়ে অব্যাহত গোয়েন্দা অনুসন্ধান চালাচ্ছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ও ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

সিআইডির সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, যাদের নজরদারি করা হচ্ছে- এ তালিকায় আছে অ্যারোমেক্স কুরিয়ার সার্ভিসের সাবেক কর্মকর্তা সাদেকুল আলম ওরফে সাদেক।

সে এখন নাম পাল্টিয়ে মো. আলম সাদেক নামে চলাফেরা করে। নাম এসেছে আন্তর্জাতিক কুরিয়ার সার্ভিসের আরও দুই কর্মকর্তা সোহাগ মিয়া ও শ্রীবাস পোদ্দারের। এদের মধ্যে সোহাগ মিয়া সম্প্রতি দুবাই সফর করে।

ফিরে এসে সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিসের সাবেক কর্মকর্তা শেখ রুহুল আমিনের সঙ্গে বৈঠকে মিলিত হয়। এ চক্র ঢাকা থেকে দেশের বাইরে এবং ঢাকা থেকে দেশের অভ্যন্তরে বিভিন্ন স্থানে কুরিয়ার সার্ভিসে মাদক চোরাচালান করে। এ চক্রের বেশির ভাগ চালান দেশের বাইরেই যায়। কয়েকদিন সিআইডির একটি দল সোহাগকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। পরে তাকে ছেড়ে দেয়া হলেও আবারও নজরদারি করা হচ্ছে।

গোয়েন্দা তথ্য পেয়ে সম্প্রতি ঢাকা থেকে সিলেটে যান দু’জন গোয়েন্দা কর্মকর্তা। তারা খবর পান, ডাক বিভাগের আন্তর্জাতিক পার্সেল সার্ভিসের মাধ্যমে কৌশলে বাংলাদেশে মাদক চালান আসছে। এ চালান ঢাকা রুট ব্যবহারের পর অন্য গন্তব্যে যাবে। এ ধরনের চালান প্রায় আসে বলেও জানা যায়। এ তালিকায় নাম আসে ডাক বিভাগের কর্মকর্তা এমদাদুর রহমান, সালিক মিয়া, মো. গোলাম মোস্তফা, ওয়াদুদ চৌধুরী, ফখরুল ইসলাম ও আবদুর রহিমের। এদের সঙ্গে পাকিস্তানি একটি সিন্ডিকেটের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায়।

ডিবি পুলিশের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা বলেন, আন্তর্জাতিক কুরিয়ার সার্ভিস ডিএইচএলের তুহিন ও রবিন নামের দুই কর্মকর্তাও এ কাজে জড়িত।

এরা ডিএইচএল, অ্যারামেক্সসহ আরও দুটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করে। তারা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে মাদকসামগ্রীর চালান দেশের বাইরে পাঠায়। এক্ষেত্রে চক্রটি ভুয়া নাম-ঠিকানা ব্যবহার করে। তিনি বলেন, সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিসের এক সময়কার কর্মকর্তা রেজাউল ওরফে রেজার সঙ্গে একটি গ্রুপের সম্পর্কের তথ্য পাওয়া গেছে।

তবে রেজা কোনোভাবে গোয়েন্দাদের অনুসন্ধানের বিষয়টি টের পেয়ে আÍগোপন করেছেন। তার মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিসের উত্তরা শাখা এলাকার সাবেক কর্মকর্তা তোফায়েল আহমেদের একই কাজে জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া যায়। এ চক্র আগে অস্ত্র ও গোলাবারুদ কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে স্থানান্তরে সহযোগী হিসেবে কাজ করে।

এ প্রসঙ্গে সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার মোল্লা নজরুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, গোয়েন্দা তথ্য পেয়ে আন্তর্জাতিক কুরিয়ার সার্ভিসের ওপর অব্যাহত নজরদারি করা হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে আন্তর্জাতিক কুরিয়ার সার্ভিস অ্যারামেক্স, ডিএইচএল, টিএনটি, ইউপিএস ও ফ্যাডেস্কের সাবেক কয়েকজন কর্মকর্তাকে সন্দেহ করা হচ্ছে।

এর সঙ্গে বর্তমান দু-একজন কর্মকর্তাও জড়িত আছে, প্রাথমিক তথ্য মিলেছে। এসব তথ্য যাচাই-বাছাই শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপকমিশনার (উত্তর) মো. মশিউর রহমান যুগান্তরকে বলেন, এ ধরনের অপরাধীরা নানা কৌশলে সক্রিয় রয়েছে। আগেও তাদের গ্রেফতার করা হয়েছিল। কিন্তু ঘুরেফিরে এরা একই অপরাধে নিজেকে জড়িত করেছে। তিনি বলেন, এ চক্রে আট থেকে দশজনকে নজরদারি করা হচ্ছে। তাদের আইনের আওতায় আনা গেলে অনেক ঘটনা বেরিয়ে আসতে পারে।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×