কর্ণফুলীর দুই তীর

দুই হাজার অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে তৎপর প্রশাসন

প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দের আশ্বাস ভূমিমন্ত্রীর

  নাসির উদ্দিন রকি, চট্টগ্রাম ব্যুরো ১৬ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

প্রশাসন

কর্ণফুলী নদীর দুই পারে গড়ে ওঠা দুই হাজার ১১২টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে নতুন করে তৎপরতা শুরু করেছে জেলা প্রশাসন। আদালতের নির্দেশ থাকলেও অর্থ সংকটের কারণে এসব স্থাপনা উচ্ছেদ করা যাচ্ছিল না বলে দাবি জেলা প্রশাসকের। তবে সম্প্রতি ভূমিমন্ত্রীর প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দের আশ্বাস দেয়ায় তৎপর হয়েছেন জেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

আদালতের রায়ের আড়াই বছর পরও কর্ণফুলী নদীর দুই পারের দুই হাজার ১১২টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করতে পারেনি জেলা প্রশাসন। তবে ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দের আশ্বাসে স্থাপনা সরিয়ে নিতে এরইমধ্যে কয়েক দফায় বৈঠক করেছে প্রশাসন। অবৈধ দখলদারদের বরাবরে পুনরায় নোটিশ পাঠানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

শনিবার চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান বলেন, কর্ণফুলী নদীর দুই পারে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা শিগগিরই উচ্ছেদ করা হবে। মামলার কারণে উচ্ছেদে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। তহবিলেরও সংকট রয়েছে। তবে কর্ণফুলী বাঁচাতে এসব জটিলতা ও সংকট নিরসনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দও দেয়া হবে।

প্রশাসনের রাজস্ব শাখা সূত্র জানায়, কর্ণফুলীর দুই পারে দুই হাজার ১৮১ জন দখলদার আরএস রেকর্ড মূলে বাকলিয়া ও পূর্ব পতেঙ্গা মৌজায় দুই হাজার ১১২টি অবৈধ স্থাপনা তৈরি করেছে। কর্ণফুলীর তীরে মোট ১৫৮ দশমিক ৪৫ একর ভূমিতে স্থাপনা রয়েছে। স্থানীয়ভাবে এ ভূমির মূল্য দুই হাজার ৩৭০ কোটি টাকা। দখল করা জমিতে কাঁচা ঘর, দোকান, ভবন, বালুর স্তূপ, কলেজ, মসজিদ, মাদ্রাসা, মন্দির, মৎস্য প্রকল্প, প্রাথমিক বিদ্যালয়, বিহার, দাতব্য চিকিৎসালয়, বোতল ও গার্মেন্ট কারখানা এবং মুরগির খামার গড়ে তোলা হয়েছে। এসব অবৈধ স্থাপনাকে ঘিরে চলছে লাখ লাখ টাকার বাণিজ্য।

কর্ণফুলী নদীর দুই তীর দখল করে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা সরাতে ২০১৬ সালের ১৬ আগস্ট ৯০ দিন সময় বেঁধে দিয়ে হাইকোর্ট আদেশ দেন। আদেশের প্রাপ্তির সাত দিনের মধ্যে নদীর তীর দখল করে গড়ে ওঠা প্রতিষ্ঠান সরিয়ে নিতে স্থানীয় দুটি পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি জারিরও নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। অবৈধ দখলদাররা স্থাপনা না সরলে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ), সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী, বিআইডব্লিউটিএ’র চেয়ারম্যান ও চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসককে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়ার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়। নির্দিষ্ট সময়ে উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরু না করায় গত বছরের জুনে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন মেয়র, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানসহ আট জনকে আদালত অবমাননার আইনি নোটিশ পাঠিয়েছিলেন আইনজীবী মনজিল মোরশেদ।

জানা গেছে, ২০১০ সালে কর্ণফুলী নদীর গতিপথ স্বাভাবিক রাখতে নদীর সীমানা নির্ধারণ, দখল, ভরাট ও নদীতে যে কোনো ধরনের স্থাপনা নির্মাণ কাজ বন্ধ রাখতে হাইকোর্টে রিট করেন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের পক্ষে আইনজীবী মনজিল মোরশেদ। মামলার পরিপ্রেক্ষিতে ২০১০ সালের ১৮ জুলাই কর্ণফুলীর নদীর প্রকৃত সীমানা নির্ধারণ করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ও ভূমি জরিপ অধিদফতরের মহাপরিচালককে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট।

এ লক্ষ্যে আগ্রাবাদ সার্কেলের সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) আহ্বায়ক করে ১৬ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি ২০১৬ সালের ১৮ জুন আরএস এবং বিএস রেকর্ড অনুযায়ী কর্ণফুলী নদীর বর্তমান অবস্থান ও দখলদারদের চিহ্নিত করে একটি তালিকা তৈরি করে। কিন্তু প্রভাবশালীদের নানা কৌশল ও তৎপরতায় এখন পর্যন্ত এসব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ কার্যক্রম ঝুলে থাকে।

এ অবস্থায় ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামানের কাছে বিষয়টি নিয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, ‘কর্ণফুলী নদী বাঁচাতে অবৈধ দখল বন্ধ করা এবং বিদ্যমান অবৈধ স্থাপনা সরানো জরুরি। প্রতিমন্ত্রী থাকাকালে এ বিষয়ে প্রথম পদক্ষেপ নেই। নানা কারণে উচ্ছেদ কার্যক্রম ঝুলে থাকে। এবার কারণগুলো চিহ্নিত করে উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরু করা হবে। এজন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ দেয়া হবে।

এদিকে ভূমিমন্ত্রীর নির্দেশের পর কর্ণফুলী নদীর তীরের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে নতুন করে তৎপরতা শুরু করেছেন জেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন যুগান্তরকে বলেন, কর্ণফুলী নদীর অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার জন্য এক কোটি ২০ লাখ টাকা প্রয়োজন।

এ টাকা বরাদ্দ চেয়ে ভূমি মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেয়া হয়েছে। অর্থ বরাদ্দের আশ্বাসের পর আমরা পুনরায় উচ্ছেদের বিষয়ে রোববার থেকে কাজ শুরু করেছি। এরইমধ্যে কয়েক দফা বৈঠক করেছি। নদীর তীরের কিছু জমি বিভিন্ন ব্যক্তির নামে বিএস রেকর্ড হয়েছে। তাদেরও উচ্ছেদের আওতায় আনতে শিগগিরই নোটিশ করা হবে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×