প্রতিটি বিদ্যালয় ও হাসপাতালে মনোবিজ্ঞানী নিয়োগ

নয় বছরেও বাস্তবায়ন হয়নি প্রতিশ্রুতি

১৮ দশমিক ৪ শতাংশ শিশু মানসিক রোগে ভুগছে

  রাশেদ রাব্বি ১৭ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

প্রতিশ্রুতি

শিশুদের মেধা ও মানসিক বিকাশ নিশ্চিত করতে দেশের প্রতিটি বিদ্যালয় ও হাসপাতালে মনোবিজ্ঞানী নিয়োগের প্রতিশ্রুতি দীর্ঘ ৯ বছরেও বাস্তবায়ন হয়নি। দেশের কয়েকটি হাসপাতালে শিশু মনোবিজ্ঞানী নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

তবে কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মনোবিজ্ঞানী নিয়োগের উদ্যোগ নেয়া হয়নি। অপরদিকে একাডেমিক শিক্ষা নিয়ে অনেক মনোবিজ্ঞানী চাকরি ও প্রশিক্ষণের অভাবে অকালে ঝরে পড়ছেন।

স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০০৯ সালের ২ আগস্ট নবম সংসদ চলাকালীন ঢাকা-৮ আসনের সংসদ সদস্য রাশেদ খান মেনন এক প্রশ্নোত্তর পর্বে শিশু মনোবিজ্ঞানী নিয়োগের বিষয়টি উত্থাপন করেন। জবাবে প্রধানমন্ত্রী দেশের প্রতিটি বিদ্যালয় ও হাসপাতালে শিশু মনোবিজ্ঞানী নিয়োগের প্রতিশ্রুতি দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কিন্তু সংশ্লিষ্টদের অবহেলায় ওই প্রতিশ্রুতি দীর্ঘদিনেও আলোর মুখ দেখেনি।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রণীত এক আঞ্চলিক জরিপ প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের শতকরা ১৮ দশমিক ৪ শতাংশ শিশু মানসিক রোগে ভুগছে। অন্যদিকে জাতীয় পর্যায়ের একটি গবেষণা প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, হতাশা ও উদ্বিগ্নতায় যথাক্রমে আক্রান্ত রয়েছে দেশের ৪ দশমিক ৫ ও ৬ দশমিক ৫ শতাংশ মানুষ। মনোবিজ্ঞানী নিয়োগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ যুগান্তরকে বলেন, বিষয়টি ন্যাশনাল স্ট্র্যাটেজিক প্লানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মনোবিজ্ঞানী নিয়োগের জন্য ‘ন্যাশনাল প্লান ফর মেনটাল হেলথ অ্যান্ড সাইকোলজিক্যাল সোশ্যাল সাপোর্ট’ শীর্ষক কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে পরিচালিত এ সংক্রান্ত একটি কমিটি ইতিমধ্যে একাধিক সভা করেছে। নির্বাচনী প্রক্রিয়ার মাঝে কিছুটা সময় কার্যক্রম স্থগিত ছিল। তিনি বলেন, এ কাজ বাস্তবায়ন করতে একাধিক মন্ত্রণালয়ের সমন্বয় প্রয়োজন। তাই প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে শিগগির মাল্টি মিনিস্ট্রিয়াল সভার আয়োজন করা হবে। পাশাপাশি এ সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়নে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বাংলাদেশ মনোবিজ্ঞান সমিতির তথ্য অনুযায়ী, দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতি বছর দেড় থেকে দুই হাজার মনোবিজ্ঞানী তৈরি হচ্ছে। অথচ পেশায় টিকে থাকছে ৫০ জনের মতো। ব্যবহারিক জ্ঞানের পরিধি বৃদ্ধির ক্ষেত্র না থাকায় ও কর্মক্ষেত্র তৈরি না হওয়ায় লেখাপড়ার পাঠ চুকিয়ে প্রতি বছর বেশির ভাগ মনোবিজ্ঞানী ঝরে পড়ছে। বর্তমানে সব বিভাগ মিলে ৩০ হাজারের ওপরে মনোবিজ্ঞানী রয়েছে।

জানতে চাইলে বাংলাদেশ মনোবিজ্ঞানী সমিতির সভাপতি অধ্যাপক মাহমুদুর রহমান বলেন, একাডেমিক শিক্ষা নেয়ার পর প্রাকটিক্যাল জ্ঞানের পরিবেশ না থাকায় এবং চাকরি না পেয়ে প্রতি বছর শতকরা ৯৮ ভাগ মনোবিজ্ঞানী ঝরে পড়ছে। এদের কর্মক্ষেত্রে ফিরিয়ে আনতে হলে সমিতির সঙ্গে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে করা যেতে পারে। এজন্য বাজেট প্রণয়নও করতে হবে।

অতি সম্প্রতি ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণীর ছাত্রী অরিত্রী অধিকারীর মৃত্যুর বিষয়টি সবার নজরে আসে। অরিত্রীকে নকলের দায়ে অভিযুক্ত করা হয়েছে। আর শিক্ষকরা বাবা-মাকে অপমান করায় আত্মহত্যার পথ বেছে নেয় অরিত্রী। এই বিদ্যালয়ে একজন শিশু মনোবিজ্ঞানী থাকলে অরিত্রীকে তার কাছে পাঠানো যেত। শুধু অরিত্রী অধিকারীই নয়, মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত অনেক শিশুই পড়াশোনার চাপে কিংবা খারাপ ফলাফলের কারণে আত্মহত্যার পথ বেছে নিচ্ছে। পরীক্ষার রেজাল্ট খারাপ করায় মায়ের বকুনি খেয়ে ২০১৬ সালে কার্তিকপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণীর এক ছাত্রী গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে।

এ বিষয়ে অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ বলেন, আমরা এমনভাবে এ সংক্রান্ত নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করছি, যাতে করে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে। তিনি বলেন, সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একজন মনোবিজ্ঞানী একজন শেয়ারিং পার্সন হিসেবে থাকবেন। যাতে করে পারিবারিক বা সামাজিক বা যে কোনো সমস্যা নিয়ে শিক্ষার্থী তার সঙ্গে আলোচনা করে সমাধান খুঁজে পান।

জানা গেছে, ওই প্রতিশ্রুতির বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নজরে আনা হলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা শিশু হাসপাতাল ছাড়াও দেশের ১৫টি সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শিশু বিকাশ কেন্দ্র চালু করা হয়। সেখানে একজন শিশু মনোবিজ্ঞানীও নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

পর্যায়ক্রমে দেশের সবগুলো হাসপাতালে শিশু মনোবিজ্ঞানী নিয়োগের ব্যবস্থা করা হবে বলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়। অন্যদিকে বিদ্যালয়ে শিশু মনোবিজ্ঞানী নিয়োগের বিষয়টি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতাভুক্ত হওয়ায় বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়কে অবহিত করা হয়।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×