সুজন বড়ুয়ার ছলচাতুরী

দুই জেলার বাসিন্দা দেখিয়ে পৃথক সরকারি চাকরি

একাধিকবার পদোন্নতি নিয়ে তিনি এখন জেলা স্বাস্থ্য তত্ত্বাবধায়ক

  আহমেদ মুসা, চট্টগ্রাম ব্যুরো ১৮ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

চাকরি

দুই জেলার স্থায়ী বাসিন্দা দেখিয়ে পৃথক সরকারি চাকরি গ্রহণের অভিযোগ উঠেছে চট্টগ্রামের স্বাস্থ্য তত্ত্বাবধায়ক সুজন বড়ুয়ার বিরুদ্ধে। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) নির্দেশে এ অভিযোগের তদন্ত করছে স্বাস্থ্য অধিদফতর।

বাঁশখালী উপজেলার স্বাস্থ্য সহকারী (বর্তমানে সীতাকুণ্ডে কর্মরত) হারুন রশিদের লিখিত আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে তদন্তের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

এদিকে সুজন বড়ুয়ার বিরুদ্ধে স্বাস্থ্য অধিদফতরকে ম্যানেজ করে একাধিকবার পদোন্নতি নেয়ারও অভিযোগ উঠেছে। তার ব্যাচমেটরাই এই অভিযোগ করছেন। তার ব্যাচের (৫৪তম ব্যাচ) বেশির ভাগই এখনও স্বাস্থ্য সহকারী হিসেবে বিভিন্ন উপজেলায় কর্মরত রয়েছেন। অথচ সুজন বড়ুয়া এরই মধ্যে তিনটি প্রামোশন বাগিয়ে নিয়েছেন।

উপজেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর থেকে জেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর ও সর্বশেষ জেলা স্বাস্থ্য তত্ত্বাবধায়কের পদ বাগিয়ে নেন তিনি। জেলা স্বাস্থ্য তত্ত্বাবধায়ক পদটি দ্বিতীয় শ্রেণীর গেজেটেড কর্মকর্তার পদ। তার ব্যাচের কেউ এখনও জেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টরও হতে পারেননি। এমনকি এর আগের (৫৩তম ব্যাচ) ১৫০ জন স্বাস্থ্য সহকারীর এখনও পদোন্নতি হয়নি।

অভিযোগ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম জেলা স্বাস্থ্য তত্ত্বাবধায়ক সুজন বড়ুয়া যুগান্তরকে বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ দিয়েছেন একজন কর্মকর্তা। দুদকের নির্দেশে স্বাস্থ্য অধিদফতর আমাকে নির্দোষ দাবি করে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে।’ তবে দুদকে অভিযোগকারী হারুন রশিদ যুগান্তরকে বলেন, ‘আমি অভিযোগকারী। আমার সাক্ষ্য না নিয়ে কীভাবে প্রতিবেদন জমা দেয়া হবে। আমি যতটুক জানি এখনও প্রতিবেদন জমা দেয়া হয়নি।’

দুদকে দেয়া অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০০৪ সালে সুজন বড়ুয়া স্বাস্থ্য সহকারী হিসেবে সরকারি চাকরি নেন। তখন তার স্থায়ী ঠিকানা হিসেবে গ্রাম-মরিচ্যাপাড়া, ডাকঘর-মরিচ্যাবাজার পাড়া, উপজেলা-উখিয়া, জেলা-কক্সবাজার, পিতার নাম বিমল বড়ুয়া উল্লেখ করা হয়। কিন্তু আট বছর চাকরি করার পর হঠাৎ ২০১২ সালের এপ্রিলে রাঙ্গমাটি পার্বত্য জেলায় স্যানিটারি ইন্সপেক্টর হিসেবে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দিলে সুজন বড়ুয়া রাঙ্গামাটি জেলার স্থায়ী নাগরিকত্ব ও আইডি সৃষ্টি করে আরও একটি সরকারি চাকরি বাগিয়ে নেন।

স্যানিটারি ইন্সপেক্টর পদে তার ঠিকানা হিসেবে গ্রাম-উত্তর ঘুমধুম, ডাকঘর-বালুখালী, উপজেলা-নাইক্ষ্যংছড়ি, জেলা- বান্দরবান উল্লেখ করা হয়। রাঙ্গামাটি পাবর্ত্য জেলায় স্যানিটারি ইন্সপেক্টর পদে চাকরি গ্রহণের সময় কক্সবাজার জেলায় নেয়া চাকরি ও প্রদত্ত ঠিকানা গোপন করা হয়। সুজন বড়ুয়া রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলার রাজস্থলী উপজেলায় যোগদান করেন। এ নিয়োগের ৮ নম্বর শর্তে উল্লেখ ছিল যে, উক্ত পদে যোগদানের আগে সরকারি চাকরি থেকে অব্যাহতিপত্র গ্রহণ করতে হবে। সুজন বড়ুয়া ওই চাকরি থেকে অব্যাহতি নেননি।

ভুয়া নাগরিকত্ব বা আইডি সৃষ্টি করে আরেকটি সরকারি চাকরি গ্রহণ করার কারণে অভিযোগ দেয়া হয় রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা প্রশাসন বরাবরে। পরে সুজন বড়ুয়া স্বাস্থ্য অধিদফতরকে ম্যানেজ করে স্ট্যান্ড রিলিজ হয়ে দ্রুত বান্দরবান জেলার নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায় বদলি হন। রাঙ্গামাটি পাবর্ত্য জেলায় তার বিরুদ্ধে দেয়া অভিযোগটি ধামাচাপা দেয়া হয়।

পরে তাকে আবার বদলি করা হয় ফেনী জেলায়। সুজন বড়ুয়া ফেনী জেলায় স্যানিটারি ইন্সপেক্টর হিসেবে যোগদানের সময় ছয়জন স্যানিটারি ইন্সপেক্টর বিরোধিতা করে ফেনী সিভিল সার্জনকে চিঠি দেন। তারা চিঠিতে উল্লেখ করেন, ‘আমরা ফেনী জেলায় ৪৩তম, ৪৫তম এবং ৫২তম ব্যাচের স্যানিটারি ইন্সপেক্টররা কর্মরত আছি। এমতাবস্থায় আমাদের অনেক জুনিয়র এবং অনভিজ্ঞ একজন (এমটি) এসআইকে জেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর হিসেবে গ্রহণ করা আমাদের পক্ষে আদৌ সম্ভব নয়।’

অভিযোগকারী হারুন রশিদ যুগান্তরকে বলেন, জেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর পদটি ১০ম গ্রেডের, যা পাবর্ত্য জেলা পরিষদ কর্তৃক নিয়োগ বা পদোন্নতির আওতার বাইরে। সারা দেশে জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে স্বাস্থ্য অধিদফতর কর্তৃক পদোন্নতি বোর্ডের মাধ্যমে জেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত হন।’

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×