বিজিবি-বিএসএফের সীমান্ত সম্মেলন

ভারত সীমান্ত পথে আসা মাদকের তালিকায় নতুন সংযোজন ইয়াবা

মাদক ও অস্ত্র-বিস্ফোরক পাচার ঠেকাতে পদ্মায় যৌথ টহলের সিদ্ধান্ত

  আনু মোস্তফা, রাজশাহী ব্যুরো ১৯ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

হেরোইন, ফেনসিডিল ছাড়াও সীমান্ত পথে ভারত থেকে আসা মাদক পণ্যের সারিতে এবার নুতন সংযোজন ইয়াবা ট্যাবলেট। মিয়ানমারে তৈরি ইয়াবা রুট বদল করে ভারতের বিভিন্ন রাজ্য পাড়ি দিয়ে সীমান্ত পথে বাংলাদেশে আসছে, নাকি ভারতেই ইয়াবা তৈরি হচ্ছে সে বিষয়ে নিশ্চিত না হলেও এখন সীমান্ত পথে ভারত থেকে ইয়াবা ঢুকছে সেটা নিশ্চিত হয়েছেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) কর্মকর্তারা। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন সীমান্ত পথে ভারত থেকে বাংলাদেশে পাচারকালে ইয়াবার বেশ কিছু চালান আটক করেছে বিজিবি। আর সেই বিষয়টি আলোচনায় ওঠে এসেছে ১৭ জানুয়ারি রাজশাহীর গোদাগাড়ীর সাহেব নগর সীমান্তে অনুষ্ঠিত বিজিবি-বিএসএফের সেক্টর কমান্ডার পর্যায়ের সীমান্ত সম্মেলনে। সীমান্ত সম্মেলনে বিজিবি রাজশাহীর সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মুশফিকুর রহমান মাসুম ও বিএসএফের বহরমপুর সেক্টরের কমান্ডার কুনাল মজুমদার নিজ নিজ দলের নেতৃত্ব দেন। সম্মেলনে মাদক ও অস্ত্র পাচার ঠেকাতে পদ্মায় যৌথ টহলের একটি সিদ্ধান্ত হয়। সম্মেলনে বিজিবির পক্ষ থেকে বিএসএফকে জানানো হয়, ভারত থেকে সীমান্ত পথে বাংলাদেশে পাচার হয়ে আসা মাদকের তালিকায় ইয়াবাও আসছে। ইয়াবাসহ সব ধরনের মাদক পণ্য ও অস্ত্র-বিস্ফোরক পাচার রোধে বিএসএফকে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণেরও আহ্বান জানানো হয়েছে বিজিবির পক্ষে।

সম্মেলন শেষে উপস্থিত বিজিবির রাজশাহীর সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মুশফিকুর রহমান গণমাধ্যম কর্মীদের জানান, বিজিবি-বিএসএফের উচ্চ পর্যায়ের এ সীমান্ত সম্মেলনে সীমান্তে বিভিন্ন ধরনের অপরাধ কমিয়ে আনাসহ যৌথ টহলের সিদ্ধান্ত হয়েছে। বিশেষ করে বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য- বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে ভারত থেকে সীমান্ত পথে ইয়াবার চালান আসার কথা জানিয়ে এ বিষয়ে বিএসএফকে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের অনুরোধ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে বৃহত্তর রাজশাহীর বিভিন্ন সীমান্ত পথে ভারত থেকে ইয়াবার চালান ঢুকছে দেশে। এরমধ্যে কিছু কিছু চালান বিজিবির অভিযানে আটকও হয়েছে। সূত্র মতে, ৩ জানুয়ারি বিজিবির একটি দল চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তের লক্ষ্মীপুর চর থেকে ৭ হাজার ইয়াবাসহ শরিফুল ইসলাম নামের এক মাদক কারবারিকে আটক করে। বিজিবির জিজ্ঞাসাবাদে শরিফুল স্বীকার করেন এসব ইয়াবা সীমান্ত পথে ভারত থেকে এনে শহরে নিয়ে যাচ্ছিল সে। গত বছরের ২ সেপ্টেম্বর চাঁপাইনবাবগঞ্জের চরহাসানপুর সীমান্তের গাইপাড়ায় অভিযান চালিয়ে বিজিবি ১০ হাজার ইয়াবা উদ্ধার করেন। এসব ইয়াবাও সীমান্ত পথে ভারত থেকে এনে দেশের ভেতরে পাচারের উদ্দেশে মজুদ করা হয়েছিল বলে বিজিবি কর্মকর্তাদের দাবি। এর আগে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও রাজশাহী থেকে ঢাকায় পাঠানোর পথে ইয়াবার একাধিক চালান মাদক নিয়ন্ত্রণ দফতর ও পুলিশের হাতেও ধরা পড়েছে।

এদিকে বিজিবি ও মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্ত পথ ছাড়াও দেশের অভ্যন্তরে মাদক নির্মূলে চলমান অভিযানের কারণে মাদক কারবারিরা রুট বদল করে ভারত-মিয়ানমার সীমান্তের বিভিন্ন পথে ইয়াবা পাচার করছে ভারতে। এসব ইয়াবা ঘুরপথে ঢুকছে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলায়। সেখান থেকে সীমান্ত পথে ঢুকছে বাংলাদেশে।

সূত্র জানায়, সম্প্রতি কলকাতাসহ পশ্চিমবঙ্গের বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকায় ওই দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিপুল পরিমাণ ইয়াবা উদ্ধার করেছে। সেসব ইয়াবার গন্তব্য বাংলাদেশ বলেও দেশটির গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। ফলে বিজিবি ও মাদক নিয়ন্ত্রণ দফতরের কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন, মিয়ানামার ছাড়া ভারতেও ইয়াবা তৈরি হচ্ছে- যার লক্ষ্য বাংলাদেশের বাজার। তারা বলেন, ইয়াবা তৈরির উপকরণ অ্যামফিটামিন, মেটাফিটামিন ও সিউডোফিড্রিন ভারতের বাজারে সহজলভ্য এবং এসব ক্রয়ে কাউকে ঝামেলা পোহাতে হয় না। ফলে ভারতেও যে ইয়াবা তৈরি হয়ে বাংলাদেশে আসছে তা কমবেশি নিশ্চিত সংশ্লিষ্টরা। রাজশাহী মাদক নিয়ন্ত্রণ দফতরের উপ-পরিচালক লুৎফর রহমান জানান, বিভিন্ন অভিযানে আটক ইয়াবা ব্যবসায়ীদের জিজ্ঞাসাবাদ থেকে আমরা নিশ্চিত যে সীমান্ত পথে ভারত থেকেও ইয়াবার চালান বাংলাদেশে ঢুকছে। বিশেষ করে বৃহত্তর রাজশাহী ও যশোরের বিভিন্ন সীমান্ত পথ এখন মাদক ব্যবসায়ীরা ইয়াবা পাচারের রুট হিসেবে ব্যবহার করছে। ভারত থেকে আসা ইয়াবা মিয়ানমারে তৈরি নয় বলে প্রাথমিকভাবে আমরা নিশ্চিত হয়েছি। আমাদের আশঙ্কা ভারতেও ইয়াবা তৈরির কারখানা গড়ে উঠেছে। এ বিষয়টি প্রাথমিক বিশ্লেষণের পর্যায়ে রয়েছে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×