হুইলচেয়ারে মুহিত পাশে ‘তারা’ কেউ ছিল না!

প্রকাশ : ১৯ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  সিলেট ব্যুরো

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগের (বিপিএল) খেলা দেখতে সিলেট এসেছেন সদ্য সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। শুক্রবার বিমানে করে সিলেট পৌঁছান তিনি। বিমান থেকে নামার পর বর্ষীয়ান এই নেতাকে হুইলচেয়ারে করে আনা হয় ভিভিআইপি লাউঞ্জে। মন্ত্রিত্ব ছাড়ার পর মুহিতের এটাই প্রথম সিলেট সফর। তবে তাকে এগিয়ে নিতে সিলেটের কোনো আওয়ামী লীগ নেতাকে বিমানবন্দর বা তার আশপাশেও দেখা যায়নি। অথচ মুহিত মন্ত্রী থাকাবস্থায় সিলেট সফরের খবর পেলেই বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জে নেতাকর্মীরা গিজ গিজ করতেন। কার আগে কে তার কাছে যাবেন, ছিল সেই অসুস্থ প্রতিযোগিতাও। বিমানবন্দরেই গলা ফাটানো স্লোগান উঠত। তবে উন্নত সিলেট গড়ার ক্ষেত্রে এই মানুষটির অবদানও কম নয়। অথচ সেই মুহিতের হুইলচেয়ার ধরার মতো একটি লোকও খুঁজে পাওয়া গেল না কাল বিমানবন্দরে। মন্ত্রিত্ব ছাড়ার পরই দ্রুত পাল্টে যাওয়ার এই চিত্র দেখে আশপাশের অনেককেই বলতে শোনা যায়- হায়রে মানুষ! অথচ প্রভাবশালী অর্থমন্ত্রী মুহিতকে ঘিরে সবসময়ই আনাগোনা ছিল সিলেটের সুবিধাভোগী একটি চক্রের। তাদের অনেকেই ১০ বছরে আখের গুছিয়েছেন। মুহিতের নাম নিয়ে সরকারি অফিসে প্রভাব বিস্তার করা থেকে শুরু করে তদবির, নিয়োগ বাণিজ্য এবং ঠিকাদারিসহ তার কাছ থেকে ফায়দা লোটার সংখ্যা অনেক। কিন্তু মন্ত্রিসভা থেকে বাদ পড়ার পর ‘সুসময়ের সেই বন্ধু’ সবাই সটকে পড়েছেন।

দুপুর দেড়টায় বিমান বাংলাদেশের নিয়মিত ফ্লাইটে এমএজি ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছার পর হুইলচেয়ারে তাকে নিয়ে যাওয়া হয় ভিআইপি লাউঞ্জে। লাউঞ্জের গেটে তাকে রিসিভ করেন বাফুফের কার্যনির্বাহী সদস্য ও ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক মাহি উদ্দিন আহমদ সেলিম। তথাকথিত সেসব ‘কাছের মানুষদের’ মধ্যে এই সেলিমই ছিলেন ব্যতিক্রম। পরে বিমানবন্দর থেকে তাকে সরাসরি নিয়ে যাওয়া হয় সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে। পুরো সময় গ্যালারিতে বসে নিজের দলকে সমর্থন জানাতে দেখা যায় সাবেক এই প্রভাবশালী মন্ত্রীকে। বিপিএলের ফ্র্যাঞ্চাইজি সিলেট সিক্সার্সের চেয়ারম্যানের দায়িত্বে আছেন মুহিতের ছেলে সাহেদ। গতকাল খেলা হয় সিলেট সিক্সার্স ও ঢাকা ডায়নামাইটসের মধ্যে। তবে হেরে যায় সিলেট সিক্সার্স।