দিনাজপুরে প্রাণীখেকো উদ্ভিদ

  একরাম তালুকদার, দিনাজপুর ১৯ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

প্রাণীরা উদ্ভিদকে খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে, এটি স্বাভাবিক। তবে যদি বলা হয়, উদ্ভিদও প্রাণীকে খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে তাহলে কেমন শোনাবে! গল্পে অনেকেই ‘মানুষখেকো গাছ’র কথা শুনলেও বাস্তবে এমন ঘটনা বিরল। তবে এবার এমন উদ্ভিদের সন্ধান পেয়েছে দিনাজপুর সরকারি কলেজের শিক্ষার্থীরা। যে উদ্ভিদ প্রাণী অর্থাৎ পতঙ্গকে খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে। নিজ ক্যাম্পাসের উন্মুক্ত জমিতে সন্ধান পাওয়া এই প্রজাতির উদ্ভিদটি নিজেদের বিষয়ভিত্তিক শিক্ষা কার্যক্রমে বেশ ভূমিকা রাখবে বলে জানিয়েছেন কলেজের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।

বিভাগের সহকারী অধ্যাপক দোলোয়ার হোসেন জানান, মাংসাশী উদ্ভিদটির বৈজ্ঞানিক নাম Drosera Rotundifolia যাকে বাংলায় বলা হয় ‘সূর্য শিশির’। মাংসাশী উদ্ভিদের মধ্যে এই প্রজাতি সবচেয়ে বড়। ৪-৫ সেন্টিমিটার ব্যাসবিশিষ্ট গোলাকার থ্যালাস সদৃশ উদ্ভিদটির মধ্য থেকে একটি লাল বর্ণের ২-৩ ইঞ্চি লম্বা পুষ্পমঞ্জুরি হয়। তিন থেকে চার স্তরে ১৫-২০টি পাতা সদৃশ মাংসাল দেহের চারদিকে পিন আকৃতির কাঁটা থাকে। মাংসাল দেহের মধ্যভাগ অনেকটা চামচের মতো ঢালু এবং পাতাগুলোতে মিউসিলেজ সাবস্টেন্স নামক এক প্রকার এনজাইম (আঠা) নিঃসৃত হয়। সুগন্ধ আর উজ্বলতায় আকৃষ্ট হয়ে পোকা বা পতঙ্গ উদ্ভিদটিতে পড়লে এনজাইমে আঠার মাঝে আটকে যায় এবং পতঙ্গ নড়াচড়া করলে মাংসাল পাতার চারদিকে পিনগুলো বেঁকে পোকার শরীরে ফুঁড়ে। এভাবেই এই উদ্ভিদটি পোকা বা পতঙ্গকে ভক্ষণ করে। ১৫ জানুয়ারি দিনাজপুর সরকারি কলেজ ক্যাম্পাসের উত্তর দিকে পরিত্যক্ত ভূমিতে এই উদ্ভিদের সন্ধান পাওয়া যায় বলে জানান সহকারী অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন। নিজ ক্যাম্পাসে এমন উদ্ভিদের সন্ধান পেয়ে আনন্দিত সংশ্লিষ্ট বিভাগের শিক্ষার্থীরা। উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের এমএসসি শেষপর্বের ছাত্র মোসাদ্দেক হোসেন বলেন, উদ্ভিদবিজ্ঞানের শিক্ষার্থী হিসেবে এটি নিয়ে কাজ করার এবং হাতে কলমে শিক্ষা লাভের একটি বিরাট সুযোগ সৃষ্টি হল। চতুর্থ বর্ষের ছাত্রী হাফিজা ইসলাম হ্যাপী বলেন, আমরা খুবই গর্বিত যে আমাদের ক্যাম্পাসে এরকম একটি পতঙ্গ খেকো উদ্ভিদ আমরা পেয়েছি। দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র মো. ফিরোজ জানান, এ ধরনের বিলুপ্তপ্রায় উদ্ভিদের সঙ্গে পরিচিত হতে পেরে নিজেকে বেশ ভাগ্যবান মনে হচ্ছে। এদিকে চোখের সামনে একটি পতঙ্গকে ধরে ফেলার দৃশ্য দেখে আবেগাপ্লুত একই বিভাগের ছাত্রী কেয়া। পিএইচডি গবেষণায় নিয়োজিত কলেজের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক বাবুল হোসেন জানান, মাংসাশী বা পতঙ্গ খেকো এই উদ্ভিদ সংরক্ষণের জন্য যাবতীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে। এজন্য সরকার ও বিজ্ঞান নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠানগুলোকে এগিয়ে আসারও আহ্বান জানান তিনি।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×