নেপথ্যে চাঁদাবাজি ও আধিপত্য

চট্টগ্রামে সুদীপ্ত ও শরীফের খুনিরা প্রকাশ্যে

  চট্টগ্রাম ব্যুরো ১৯ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

চট্টগ্রামে ছাত্রলীগ নেতা সুদীপ্ত বিশ্বাস ও যুবলীগ কর্মী শরীফ ওরফে টেম্পো শরীফ হত্যা মামলার আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। শরীফ হত্যা মামলায় আদালতে অভিযোগপত্র দেয়া হলেও এখনও তদন্তাধীন সুদীপ্ত বিশ্বাস হত্যা মামলাটি। দুই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে রয়েছে নগরীর ক্রাইমজোন হিসেবে পরিচিত লালখান বাজারকেন্দ্রিক চাঁদাবাজি, খুন, আধিপত্য, অপহরণ ও দখল বাণিজ্য।

২০১৭ সালের ৬ অক্টোবর নিজ বাসা থেকে ডেকে নিয়ে খুন করা হয় চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক সুদীপ্ত বিশ্বাসকে। এর আগে লালখান বাজার এলাকায় ২০১৭ সালের ১৮ এপ্রিল খুন করা হয় স্থানীয় যুবলীগ কর্মী শরীফ ওরফে টেম্পো শরীফকে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি দলের নাম ভাঙিয়ে ঘাতকরা এলাকায় একের পর এক খুন, চাঁদাবাজিসহ নানা অপরাধ করেও পার পেয়ে যাচ্ছেন।

সুদীপ্ত হত্যার পর তার পিতা বাবুল বিশ্বাস অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করলেও শরীফের পিতা মো. হেলাল ১২ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ১০-১২ জনকে আসামি করে থানায় মামলা করেন। ‘পথের কাঁটা’ সরাতে একই গ্রুপ দুটি হত্যাকাণ্ডই ঘটিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

সম্প্রতি টেম্পো শরীফ হত্যা মামলার অভিযোগপত্রে ২০ জনকে আসামি করা হয়েছে। এই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ছিলেন খুলশী থানার এসআই মো. মিজানুর রহমান। অভিযোগপত্রে শরীফ ওরফে ডেক্সি শরীফের নেতৃত্বে এই খুন করা হয়েছে। অপর আসামিরা হচ্ছে- আল আমিন, সোহেল, আরমান, হোসেন, শাহজাহান ওরফে রাসেল, ওয়াসিম উদ্দিন, মাঈনুদ্দীন হানিফ, পারভেজ, আল আমিন খান ওরফে শুভ, সনজিৎ দাস, সাইদুল আলম চৌধুরী, ইমাম হোসেন, নুরুল আজম, সাখাওয়াত হোসেন, হোসেন মো. রিপন, মারুফুল হাসান, মামুনুর রহমান ওরফে রাব্বি ও আলী আরমান। এই মামলায় পুলিশ ডেক্সি শরীফকে গ্রেফতারের করে। তিনি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন। সেখানেই খুনের বিস্তারিত বর্ণনা রয়েছে। নিহতের পিতা হেলালের অভিযোগ, আসামি মাঈনুদ্দিন হানিফ ও ওয়াসিম উদ্দীন প্রকাশ্যে ঘোরাঘুরি করলেও পুলিশ তাদের ধরছে না। তারা নানাভাবে আমাকে উল্টো হুমকি-ধমকি দিয়ে যাচ্ছে। এদিকে সুদীপ্ত হত্যা মামলাটির তদন্ত শুরুতে সদরঘাট থানা পুলিশ করলেও পরে এটি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের কাছে (পিবিআই) হস্তান্তর করা হয়। সুদীপ্ত বিশ্বাস খুনের মামলায় মোক্তার হোসেন ও ফয়সাল হোসেন ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। জবানবন্দিতে তারা বলেছে, লালখান বাজার এলাকার এক বড় ভাইয়ের নির্দেশে সুদীপ্তকে খুন করা হয়েছে। হত্যার পরিকল্পনা করে রুবেল দে, আইনুল কাদেরসহ বেশ কয়েকজন। হত্যাকাণ্ডের পর ছাত্রলীগের একটি পক্ষ এ জন্য লালখান বাজার ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক দিদারুল আলম মাসুমকে দায়ী করে। নগরীর সদরঘাট থানার ওসি নেজাম উদ্দিন যুগান্তরকে বলেন, ‘সুদীপ্ত হত্যার সঙ্গে জড়িতদের অধিকাংশই লালখান বাজার এলাকায় বসবাস করে। এরমধ্যে বেশ কয়েকজন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। দুই আসামি ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিও দিয়েছে।’

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×